somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঋতি্বক ঘটকের অযান্ত্রিক

১১ ই নভেম্বর, ২০০৬ ভোর ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পার্টিশনের বেদনা নাকি বাঙলায় একজনই পেয়েছিলেন অথবা তিনিই একমাত্র সেই বেদনাকে শিল্পে রুপ দিতে পেরেছিলেন। লোকটির নাম ঋতি্বক ঘটক। ঋতি্বক ঘটকের প্রতি আমি এক ধরনের সচেতন মুগ্ধতা বোধ করি। কোনো দায়বদ্ধতা নয়। লেখক হিসাবেও নয় ডিরেক্টর হিসাবেও নয়। ঋতি্বক ঘটক আসলেই কারও ধার ধারেন নি। অতএব তার প্রতি দায়বদ্ধতার ধার আমাদের ধারতে হবে, এইটা আমার চেতনা সাপোর্ট করে না।
পরিচালক হিসাবে ঋতি্বকের তুলনা ঋতি্বকই। তার পূর্ব ও নাই পর নাই। সিনেমার বাঙলা আঙ্গিক বলতে তিনিই একমাত্র। সত্যজিৎ বলছিলেন, ঋতি্বক এমন এক পরিচালক যার কাছে হলিউডের অস্তিত্বই যেন নাই। আসলেই তাই।
ঋতি্বক পাগলা, ঋতি্বক মাতাল, ঋতি্বক চমকে দেওয়া। তাকে অনুকরণ বা অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি আমাদের মেকারদের পক্ষে। কারণ ঋতি্বকের থেকে ভাল ডিরেক্টর হয়তো আছে। কিন্তু ঋতি্বকের সাহস আর ঋতি্বকের বেদনা শুধু তারই।
যাই হোক ঋতি্বক ঘটকের অযান্ত্রিক আবার দেখলাম। যতবারই দেখি ততোবারই নতুন ভাবে ভাবতে হয়। সিনেমার প্রিন্টটা খুব জুতের নয়। প্রথমবার ভাল প্রিন্টে বড় পর্দায় দেখার ভাগ্য হয়েছিল। কিন্তু পরে খারাপ প্রিন্টেই আবার দেখতে হয়েছে। অযান্ত্রিক কী? যন্ত্রের মানবায়ন, মানুষের যন্ত্রায়ন? জগদ্দল কি পুরাতন ব্যাপার? জগদ্দল কি উপনিবেশ, সামন্ততন্ত্র, নাকি ঐতিহ্য? একটি ভাঙ্গা গাড়ির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কে দৌড় কতদূর?
সুবোধ গোষের গল্প অবলম্বনে ঋতি্বক এই ছবিটি বানিয়েছিলেন 1958 সালে। গল্পটা আমি পড়েছি। গল্পকে কিভাবে সিনেমা করতে হয় তা এই সিনেমা থেকে শেখা দরকার। গল্পের কেন্দ্রে আছে এক ভাঙ্গা মোটর কার তার নাম জগদ্দল। জগদ্দলের চালক বিমল। বিমলের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব। এই গাড়ির সঙ্গে তার সম্পর্ক। গাড়ির চালানোর নানা অভিজ্ঞতা, নানা ঘটনা আর জগদ্দলের ক্ষয় নিয়ে কাহিনী। শেষ পর্যন্ত জগদ্দলের মৃতু্য ঘটে। আসলেই সে এক করুণ ও মর্মান্তিক মৃতু্য।
আছে বেশ কয়েকটি উপকাহিনী। বিয়ে বাড়িতে যাওয়া মামা ভাগনে। পাড়ার দাদার সঙ্গে বাড়ি পালানো মেয়ে। তার সঙ্গে বিমলের রহস্যময় সম্পর্ক। আরও কতকিছু। শুরু থেকেই আদিবাসী উৎসবের ঢাক বাজতে থাকে। আর শেষ পর্যন্ত সেই ঢাক সরব হয়ে ওঠে। সিনেমার সাবকনশাস জুড়ে থাকে আদিবাসী উৎসবের ঢাক। এ হলো যন্ত্রের প্রতি মানুষের সেই ভালোবাসার কাহিনী যখন মানুষ যন্ত্রকে প্রকৃতির একটি অংশ হিসাবে গ্রহণ করেছিল। যন্ত্রের যন্ত্রত্ব যখন তাকে মানুষের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত করতে পারেনি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×