কি আছে বোরাতে? এটা অবশ্যই কমেডি। তবে শুধু হাস্যরসেই শেষ নয়। হাস্যরত আছে এর প্রতিটি কথায়, অভিনয়ের ভঙ্গিমায়, বিষয়ে, উপস্থাপনায়। আর আছে সমালোচনার চাবুক। অবশ্য তা হিউমারাস ও উইটি। প্রাক্তন সভিয়েট ইউনিয়ন, বর্তমান কাজাখস্তান আর আমেরিকার সমালোচনা আছে পরতে পরতে। মুভির কাহিনী হলো কাজাখস্তানের এক সাংবাদিক বোরাত সাগদিয়েভ আমেরিকায় রওয়ানা হয় সেন্ট্রাল এশিয়ান জাতিগুলোর ভাল দিক প্রচারের উদ্দেশ্যে একটি ডকুমেন্টারি তৈরির লক্ষ্যে। যাতে এই ডকুমেন্টারি দেশটির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। এই কাজের অ্যাসাইনমেন্ট আসে সরকারি তরফ থেকে। দশাসই গোফঅলা বোরাত পথে-ঘাটে ঘটাতে থাকে নানা অঘটন। তাতে দর্শকের বেশ 'কালচারাল লার্নিং'-এর সুযোগ ঘটে। ডকুমেন্টারির ভঙ্গিতে শুট করা মুভিটিতে মাঝে মাঝে কমেন্টারি দিয়েছেন সাচা ব্যারন কোহেন। তাকে মনে হয়েছে একেবারে অরিজিনাল বোরাত সাগদিয়েভ। আর মুভিটিকে মনে হয় আসল ডকুমেন্টারি। রিয়েল টাইম আর রিয়েল লাইফ অ্যাপ্রোচের কারণে বোরাতের অনেকটাই বিশ্বাসযোগ্য। সব মিলিয়ে বোরাত গসিপের বিষয় । অন্যদিকে রাশিয়া আর কাজাখস্তানে এ নিয়ে শোরগোলও চলছে। কাজাখরা বলছে, এই মুভি তাদের জন্য অবমাননামূলক। মুভিতে যেভাবে দেশটিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে তা কাল্পনিক। আসলে দেশটি উন্নয়ন ও আধুনিকতার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে লন্ডনে কাজাখ রাষ্ট্রদূত বিবৃতিও দিয়েছেন।
এই কূটনৈতিক সমস্যাটুকু বাদ দিলে বোরাত নিয়ে সমস্যা আর একটাই। কিছু বিশেষ দৃশ্যের জন্য মুভিটি রেটিং পেয়েছে।
উপরের লেখাটা লিখেছিলাম বোরাত রিলিজ হওয়ার পর। ইন্টারনেটে ট্রেইলার দেখে ও কয়েকটি সমালোচনা পড়ে। এখন ঢাকায় বোরাত পাওয়া যাচ্ছে। কাল কিনে দেখলাম কাল রাতেই। কাজাখস্তানের সরকার ও সাধারণ মানুষদের রেগে যাওয়ার ব্যাপারটা অনেকটাই স্পষ্ট হলো। বোরাত ঠিকই সমালোচনা করেছে আমেরিকান সংস্কৃতির এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের। কিন্তুসে সমালোচনা খুবই সূক্ষম রসের। সাবধানী সমালোচনা। কিন্তু বোরাতকে দিয়ে যখন তার দেখ কাজাখস্তানের সমালোচনা করানো হচ্ছিল তখন তা সূক্ষম স্থূলের সীমা ছড়িয়ে গেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন কাখাজখস্তানসহ সেন্ট্রাল এশিয়ার দেশগুলোকে নাজুক অবস্থান ছেড়ে গেছে। এখানে খেলাধুলা শুরু করেছে ইউএস অ্যান্ড এ। আর দেশগুলো এখন মোটামুটি স্টেট অফ প্রোস্টিটিউশন। সম্ভাবনা বলতে তেমন কিছুই সামনে নেই। এই দেশের বিষয় নিয়ে একটা কমেডি হয়তো ওয়েস্টার্ন দর্শকরা পছন্দ করতে পারেন। কিন্তুআমাদের মতো দেশের লোকদের পক্ষে এই কমেডি হজম করা একটু কঠিনই। তারপরও এই সিনেমা অবশ্যই দেখা দরকার। কারণ আমাদের নিয়েও এমন সিনেমা তৈরি করা যেতে পারে অনায়াসেই। বোরাতের লার্নিংস শুধ ু রাশিয়া, আমেরিকা বা কাজাখস্তান নয় আমদের জন্যও গ্রেট লার্নিংস-এর সুযোগ করে দিল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







