somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোরাত : কালাচারাল লার্নিংস অফ আমেরিকা ফর মেক বেনিফিট গ্লোরিয়াস নেশন অফ কাজাস্তান

১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৩:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত 3 নভেম্বর 2006-এ রিলিজ হয়েছিল 82 মিনিটের কমেডি মুভি বোরাত। ডিস্ট্রিবিউটর টুয়েনটিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স। পরিচালক ল্যারি চার্লস। স্ক্রিপ্ট সাচা ব্যারন কোহেন। মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন তিনি। মুভি এক কথায় সাচা ব্যারন কোহেনের ব্রেইন চাইল্ড। সাচা ব্যারন কোহেন এর আগে আলি জি শো-এর কারণে আলি জি হিসাবে পরিচিত ছিলেন। এখন তার নতুন পরিচয়_ বোরাত। মুভিটি রিলিজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে বিতর্ক, সমালোচনা আর প্রশংসার ঝড় উঠেছে। স্বাভাবিকভাবে বক্স অফিসেও প্রভাব পড়েছে। বৃটিশ অভিনেতা সাচা ব্যারন কোহেন এখন সারা পৃথিবীতেই আলোচিত নাম। বোরাত ইউএসএ-কে বলে ইউএস অ্যান্ড এ। সেখানেও বিখ্যাত বোরাত। বোরাত এখন একটা নাম শুধু নয়, এটা এখন একটা ফেনোমেনা। টি শার্ট, রিং টোন, পোস্টার সবখানেই দেখা যাচ্ছে বোরাতের উপস্থিতি। মুভিতে বোরাত বলে, সে গর্বিত কাজাখস্তান জাতির উন্নতির জন্য মুভি বানানোর কাজ হাতে নিচ্ছে। এখন এই মুভি থেকে কাজাক বা মধ্যএশীয় জাতিগুলোর লাভের লাভ কিছু না হলেও প্রযোজক আর ডিস্টৃবিউটররা যে যথেষ্ট কামাচ্ছেন তা সহজে বোঝা যাচ্ছে।
কি আছে বোরাতে? এটা অবশ্যই কমেডি। তবে শুধু হাস্যরসেই শেষ নয়। হাস্যরত আছে এর প্রতিটি কথায়, অভিনয়ের ভঙ্গিমায়, বিষয়ে, উপস্থাপনায়। আর আছে সমালোচনার চাবুক। অবশ্য তা হিউমারাস ও উইটি। প্রাক্তন সভিয়েট ইউনিয়ন, বর্তমান কাজাখস্তান আর আমেরিকার সমালোচনা আছে পরতে পরতে। মুভির কাহিনী হলো কাজাখস্তানের এক সাংবাদিক বোরাত সাগদিয়েভ আমেরিকায় রওয়ানা হয় সেন্ট্রাল এশিয়ান জাতিগুলোর ভাল দিক প্রচারের উদ্দেশ্যে একটি ডকুমেন্টারি তৈরির লক্ষ্যে। যাতে এই ডকুমেন্টারি দেশটির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। এই কাজের অ্যাসাইনমেন্ট আসে সরকারি তরফ থেকে। দশাসই গোফঅলা বোরাত পথে-ঘাটে ঘটাতে থাকে নানা অঘটন। তাতে দর্শকের বেশ 'কালচারাল লার্নিং'-এর সুযোগ ঘটে। ডকুমেন্টারির ভঙ্গিতে শুট করা মুভিটিতে মাঝে মাঝে কমেন্টারি দিয়েছেন সাচা ব্যারন কোহেন। তাকে মনে হয়েছে একেবারে অরিজিনাল বোরাত সাগদিয়েভ। আর মুভিটিকে মনে হয় আসল ডকুমেন্টারি। রিয়েল টাইম আর রিয়েল লাইফ অ্যাপ্রোচের কারণে বোরাতের অনেকটাই বিশ্বাসযোগ্য। সব মিলিয়ে বোরাত গসিপের বিষয় । অন্যদিকে রাশিয়া আর কাজাখস্তানে এ নিয়ে শোরগোলও চলছে। কাজাখরা বলছে, এই মুভি তাদের জন্য অবমাননামূলক। মুভিতে যেভাবে দেশটিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে তা কাল্পনিক। আসলে দেশটি উন্নয়ন ও আধুনিকতার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে লন্ডনে কাজাখ রাষ্ট্রদূত বিবৃতিও দিয়েছেন।
এই কূটনৈতিক সমস্যাটুকু বাদ দিলে বোরাত নিয়ে সমস্যা আর একটাই। কিছু বিশেষ দৃশ্যের জন্য মুভিটি রেটিং পেয়েছে।
উপরের লেখাটা লিখেছিলাম বোরাত রিলিজ হওয়ার পর। ইন্টারনেটে ট্রেইলার দেখে ও কয়েকটি সমালোচনা পড়ে। এখন ঢাকায় বোরাত পাওয়া যাচ্ছে। কাল কিনে দেখলাম কাল রাতেই। কাজাখস্তানের সরকার ও সাধারণ মানুষদের রেগে যাওয়ার ব্যাপারটা অনেকটাই স্পষ্ট হলো। বোরাত ঠিকই সমালোচনা করেছে আমেরিকান সংস্কৃতির এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের। কিন্তুসে সমালোচনা খুবই সূক্ষম রসের। সাবধানী সমালোচনা। কিন্তু বোরাতকে দিয়ে যখন তার দেখ কাজাখস্তানের সমালোচনা করানো হচ্ছিল তখন তা সূক্ষম স্থূলের সীমা ছড়িয়ে গেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন কাখাজখস্তানসহ সেন্ট্রাল এশিয়ার দেশগুলোকে নাজুক অবস্থান ছেড়ে গেছে। এখানে খেলাধুলা শুরু করেছে ইউএস অ্যান্ড এ। আর দেশগুলো এখন মোটামুটি স্টেট অফ প্রোস্টিটিউশন। সম্ভাবনা বলতে তেমন কিছুই সামনে নেই। এই দেশের বিষয় নিয়ে একটা কমেডি হয়তো ওয়েস্টার্ন দর্শকরা পছন্দ করতে পারেন। কিন্তুআমাদের মতো দেশের লোকদের পক্ষে এই কমেডি হজম করা একটু কঠিনই। তারপরও এই সিনেমা অবশ্যই দেখা দরকার। কারণ আমাদের নিয়েও এমন সিনেমা তৈরি করা যেতে পারে অনায়াসেই। বোরাতের লার্নিংস শুধ ু রাশিয়া, আমেরিকা বা কাজাখস্তান নয় আমদের জন্যও গ্রেট লার্নিংস-এর সুযোগ করে দিল।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×