ওই কোর্সের অংশ হিসাবে কাল দেখলাম ডা ভিঞ্চি কোড। আগে একবার রিলিজ হওয়ার পরপর দেখেছিলাম। কিন্তু আমাদের সংগৃহীত ডিভিডিটা ছিল ক্যামেরা প্রিন্ট। ফলে দেখলেও ইমেজগুলা ঠিক মতো মনে প্রভাব ফেলতে পারিনি। তাই এ নিয়ে তেমন আলাপ আলোচনা করিনি। ব্লগেও লিখিনি। বস্তুত বইটাও পড়িনি। এবার দেখলাম ডিভিডি ফরম্যাটের ভিঞ্চি কোডই। কিন্তুবড় পর্দায়। অডিটরিয়ামে।
এই মুভিটাকে কর্মশালায় সিলেক্ট করা হয়েছে নিউ মুভির উদাহরণ হিসাবে। ফাদারের মতে, বইটা নিয়ে যখন প্রচণ্ড আলোচনার ঝড় বইছে। খুব জটিল, ঐতিহাসিক ওদুর্বোধ্য বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মাথা ঘামাচ্ছেন তখন সিনেমা তৈরির ঘোষণা আসে। এমন একটি প্রক্রিয়া শুরু হয় যাতে কোটি কোটি মানুষ এবার মুভি স্ক্রিপ্ট লিখতে শুরু করেন। ভিঞ্চি কোডের আলাপ-আলোচনা আবার সরগরম হয়ে ওঠে। এত ব্যাপক মানুষের পার্টিসিপেশন হলো নিউ মুভির উল্লেখযোগ্য একটা বৈশিষ্ট্য।
ভিঞ্চি কোড রিলিজ হওয়ার পর ব্লগে একটা পোস্ট এসেছিল। তখন কেউ কেউ মন্তব্য করেছিলেন উপন্যাসের মতো মজা তারা পানানি। আমার মনে হয়, তাতে অসুবিধা নেই। সিনেমাটি একই সময়ে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তারা একবারের জন্য হলেও এটা দেখতে বাধ্য হয়েছেন। আর এই ফিকশনটি নিয়ে এমন আলোচনা ও বিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন যেন এটা একটা ডকুমেন্টারি। যেন এর সবই প্রমাণিত। এমন কিছু ঐতিহাসিক ইসু্যকে এটি উসকে দিয়েছে যা নিয়ে সাধারণ কথাবার্তা এই মুভি ও বইটি ছাড়া সম্ভব ছিল না।
আরও একটি ব্যাপার বিশেষভাবে খেয়াল করলাম, মুভিটির যে স্পর্শকাতর দিকগুলো খৃস্টবিশ্বাসী মানুষকে ভুগিয়েছে তা নিয়ে দর্শকরা খুব বেশি সংবেদনশীল হননি। অনেকেই একে সপ্রমাণিত বলে ধরে নিয়েছেন। ফিকশন ও বাস্তবের পার্থক্য তাহলে কোথায়?
ফিকশন কি এতটাই শক্তিশালী যে, অসংখ্য ইতিহাস বই আর প্রতিষ্ঠানকে নিমেষে ভুল প্রমাণ করতে পারে?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



