মহাত্মা সলিমুল্লাহ খান নবাব সিরাজুদ্দৌলার নামের বানানে একটা নতুনত্ব এনেছেন। লিখেছেন স্রাজেদ্দৌলা। খুব মজা পেয়েছি বানানের নতুনত্ব দেখে। বাংলা বিহার উড়িষ্যার এই নবাব বাঙালি ছিলেন না। ফারসি জবানীতে কথা বলতেন। সেই জবানে সিরাজ বোধ হয় স্রাজই হবে। বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাবের যতটুকু ইমেজ তার পুরোটা তৈরি হয়েছিল যাত্রপালা ও বাংলা সিনোমার যাত্রা ধরনের প্রযোজনা থেকে। যাত্রা ও বাংলা সিনেমা দুই-ই জনপ্রিয় কালচার। জনপ্রিয় কালচার বিধায় সহজেই ভাবা যায়, এত জনগণের কিছুটা অংশ আছে। কিন্তু যে সিরাজ যাত্রার চরিত্র তার সাথে নবাবের সম্পর্ক ছিল এমন কোনো প্রমাণ মিলে না। তথাপি বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যাওয়া নিয়ে অনেক গালভরা বুলি আজও শোনা যায়। আম্রকাননের পূর্বের সুখস্মৃতি তর্পন করে আজও বাংলার মুসলমানবুদ্ধিজীবীরা মায়াকান্না করেন। আহা, সিরাজ থাকলে মনে হয় তাদের রাজদরবারে স্থান সংকুলান হতো!
বাংলার কাহিনী কাব্যে ট্রাজেডির কমতি ছিল বলে মনে হয়। শাজাহান, সিরাজুদ্দৌলা ছাড়া খুব কম ট্রাজেডিই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেক দুঃখগাথা, ব্যালাড, গীতিকাহিনীর দেখা মেলে। কিন্তু বাংলায় প্রহসনের খুব রমরমা। ফলে, সাহিত্যিকরা সিরাজের কাহিনীটাকে স্রেফ একটা ট্রাজেডি হিসেবেই পিক করেছিলেন। তার ফল কেমন হয়েছিল?
বাকের ভাইয়ের মতো। বাকের ভাইয়ের ফাঁসি বন্ধের দাবিতে বাংলায় মিছিল হয়েছিল। বাকের ভাই তো কাল্পনিক চরিত্র। সে ক্ষেত্রে সিরাজের জন্য মানুষের ও বুদ্ধিজীবীদের মায়াকান্নাকে আর অধিক কী দোষ দিবো?
সিরাজকে যখন গ্রেফতার করা হয় ইভেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় তখন বাংলার কৃষক মাঠে কাজ করিতেছিল। গায়ক গান গাহিতছিল। ব্যবসায়ী ব্যবসা করিতেছিল। গৃহিনী গৃহের কাজ করিতেছিল। কেহই বাংলা স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যাইবার ঘটনায় বিচলিত বোধ করে নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


