রাবেয়া ঘুরে ঘুরে সেই কথা ক’টিই বারবার বলছিল।
রুনুর মাথা নিচু হতে হতে থুতনি বুকের সঙ্গে লেগে গিয়েছিল। আমি দেখলাম তার ফরসা কান লাল হয়ে উঠেছে। সে তার জ্যামিতি খাতায় আঁকিবুকি করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে ‘দাদা একটু পানি খেয়ে আসি’ বলে ছুটতে ছুটতে বেরিয়ে গেল। রুনু বারো পেরিয়ে তেরোতে পড়েছে। রাবেয়ার অশ্লীল কদর্য কথা তার না বোঝার কিছু নেই। লজ্জায় সে লাল হয়ে উঠছিল। হয়তো সে কেঁদেই ফেলত। রুনু অল্পতেই কাঁদে। আমি রাবেয়াকে বললাম, ছিঃ রাবেয়া, এসব বলতে আছে? ছি! এগুলো বড় বাজে কথা। তুই কত বড় হয়েছিস।
রাবেয়া আমার এক বৎসরের বড়। আমি তাকে তুই বলি। পিঠাপিঠি ভাই-বোনেরা একজন আরেক জনকে তুই বলেই ডাকে। রাবেয়া আমাকে তুমি বলে। আমার প্রতি তার ব্যবহার ছোটবোনসুলভ। সে আমার কথা মন দিয়ে শুনল। কিছুক্ষণ ধরেই বালিশের গায়ে চাদর জড়িয়ে সে একটা পুতুল তৈরি করছিল। আমার কথায় তার ভাবান্তর হলো না। পুতুল তৈরি বন্ধ রেখে লম্বা হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। পা নাচাতে নাচাতে সেই নোংরা কথাগুলো আগের চেয়েও উঁচু গলায় বলল। আমি চুপ করে রইলাম। বাধা পেলেই রাবেয়ার রাগ বাড়বে। গলার স্বর উঁচু পর্দায় উঠতে থাকবে। পাশের বাসার জানলা দিয়ে দু-একটি কৌতূহলী চোখ কী হচ্ছে দেখতে চেষ্টা করবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


