হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ফেলে চেয়ারম্যানকে দেখতে না যাওয়ায় চিকিৎসক লাঞ্চিত
আমি ৩৯ বিসিএস এ নিয়োগপ্রাপ্ত একজন মেডিকেল অফিসার । উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দিরাই , সুনামগঞ্জ এ কর্মরত। আজকে সকালে ইমার্জেন্সিতে ডিউটিতে থাকাকালীন সকাল ৬.২০-৬.৩০ র দিকে একজন " রাজিব " নামে একজন এসে বলল , তার সাথে বাসায় যেতে হবে উপজেলা চেয়ারম্যান অসুস্থ। সে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাগিনা৷ আমি বললাম , আমি ইমার্জেন্সিতে ডিউটিতে, বাসায় যেতে পারব না৷ ইমারজেন্সি খালি রেখে যাওয়া যাবে না৷ উনাদের UHFPO স্যারের সাথে যোগাযোগ করতে বললাম। সে তখন চলে গেল৷ একটু পরেই রাজিব সহ আরো দুই জন আসল ,,, এদের একজন চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলে আর একজন ভাই , এরা এসেই আমাকে গালাগালি শুরু করেছে ,, বালের ডাক্তার , দুই পয়সার ডাক্তার , থাবড়িয়ে গাল লাল করে ফেলব , রাস্তায় নিয়ে পিঠাব ,, ইমারজেন্সির চেয়ার লাথি দিয়ে ফেলে দিল একজন , আরেকজন মসজিদের দান বাক্স টেবিলে বাড়ি দিয়ে বলল , এটা আমার মাথায় মারবে পরেরবার৷
এরকম করে ১৫-২০ মিনিট গালিগালাজ করার পর UHFPO স্যার সহ আমার কলিগরা আসে। এই তিনজন তাদেরকেও গালিগালাজ করে৷ তারপর UHFPO স্যার এদের সাথে একজন ডাক্তারকে বাসায় পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন৷
এখন কথা হল , আমি ইমারজেন্সি ছেড়ে যেতে পারতাম , কিন্তু তখন যদি একজন শ্বাসকষ্টের রোগী আসতেন , তখন ইমারজেন্সিতে কে রোগী দেখত , চেয়ারম্যান সাহেবের ভাই , ছেলে আর ভাগিনা ??? আমি যাইনি , তাই উনারা হুমকি দিয়েছেন৷ এই মহামারীর সময়ে আমরা একটু ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি , এর মাঝে এই রকম হুমকি , গালাগালি শুনলে আর কাজ করতে ইচ্ছে করে না৷ তখন মনে হয় ,,, এদেশে সবচেয়ে বড় পাপ ক্ষমতাশালী না হওয়া , দ্বিতীয় পাপ ডাক্তার হওয়া৷
তবে এর কোন বিচার নাহলে ,,, আমি আর কোন রোগী দেখব না৷ It’s loud and clear.
ডা. স্বপন সরকার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




