রাত চারটা বাজে... হঠাৎ মনে পড়লো বাংলাদেশের খেলা আছে সকালে,শুয়ে পড়লাম,কোন এলার্ম ছাড়ায় সকাল ৯টায় ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সারলাম...বাংলাদেশ ব্যাটিং শুরু করে দিছে ততক্ষনে নাস্তার টেবিলে বসেই নেট থেকে আপডেট পেলাম ৯ রানে ২ উইকেট... মনটাই খারাপ হয়ে গেল... হলের TV রুমে এসেই দেখি ভালই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সৌম্য আর মাহমুদুল্লাহ...ভাল একটি বলে আউট হয়ে ফিরে গেল সৌম্য...সাকিবের উপর অনেক বিশ্বাস নিয়ে বসে ছিলাম কিন্তু যেভাবে সাকিব নিজেকে বিসর্জন দিয়ে আসল খুবই হতাশ হলাম...
মুশফিক ছেলেটা ছোটখাট হলেও তার ভরসা করা যায় তার প্রমান সে অনেকবারই দিয়েছে ,আজকেও হতাশ করেনি... আমার একটা ইগো আছে যখন বাংলাদেশ ভাল খেলে তখন আমি যেভাবে বসে থাকি ঠিক ওভাবেই বসে থাকি নড়াচড়াও করতে ভয় লাগে,যদিতো পা নামাইছি কিংবা অন্যভাবে বসছি ঠিক কিছুনা কিছু অঘটন ঘটে যায়...আজ দুই ভাইরা ভাই মুশি ও মাহমুদুল্লাহ আমাকে ভালই বিপদে ফেলে দিছিল...মাহমুদুল্লাহ ১০০ করার পর যখন তার ব্যাট বলের ছোঁয়া মিস করছে তখন আর স্থির থাকতে পারলামনা! একটু উঠে দাঁড়িয়ে,বসলাম...মাহমুদুল্লাহ রান আউট...যাক মোটামুটি সন্তোষজনক একটা স্কোর উপহার দিল টাইগারের বাচ্চারা...
দুপুরে খাওয়ার পর ব্রিটিশদের ব্যাটিং দেখে চিন্তায় পড়ে গেলাম! উইকেট পড়ে না খালি বাউন্ডারি মারছে একের পর এক...খেলা দেখুমনা রুমে এসে ঘুম দিলাম...দোস্ত আরাফাত ফোন দিয়ে বলল,"ঘুমাইসনা তাড়াতাড়ি আয়,বাংলাদেশ জিতে যাচ্ছে"...গিয়ে দেখি ১৬৫/৬...খেলা দেখছি কিন্তু উইকেট পড়েনা,তার উপর বেল ও ওয়াকের বিধ্বংসী ব্যাটিং আবার শংকায় ফেলে দিল...
মনে হল আমি আসাতেই উইকেট পড়ছেনা তাই চলে আসলাম রুমে... চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি বেল গেছে...আবার বসলাম একই অবস্থা...চলে আসলাম আবার চিৎকার আবার গেলাম, এভাবে লাস্ট উইকেট পর্যন্ত আমার আসা যাওয়া আর উইকেটের পতন ঘটল...জয়ের আনন্দে কিছুক্ষন গলা ফাটালাম...বাংলাদেশের প্রতিটি জয় আবেগে ভাসাই আমাদের… ছেলেগুলোকে জয়ের মুহুর্তে যেমনি সাপোর্ট করি তেমনি খারাপ সময়েও সাপোর্ট দিয়ে যাব এই প্রতিজ্ঞা করছি... কারন ক্রিকেটটা আমাদের কাছে যতটা না খেলার, তার চেয়ে বেশি আবেগের....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



