স্যার আপনাদের মত গুনী মানুষদের কর্মই যুগে যুগে পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দিয়েছে। আমার মত মায়েরা স্বপ্ন দেখে তার সন্তান যেন আপনার মত গুনী মানুষ হয়।
প্রফেসর স্মিত হাসলেন। তারপর বললেন, দেখুন আমার বাবা একজন কৃষক ছিলেন। তিনিই আমায় পড়ালেখায় উতসাহ যুগিয়েছিলেন। কিন্তু একসময় আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে রণে ভঙ্গ দেন। আমাদের প্রতিবেশি ছিলেন একজন জেলে, ছিলেন তিনি নি:সন্তান। তিনি দয়াবশত: আমার পড়ালেখার ভার নেন। সবচাইতে মজার ব্যপার আমাদের আশেপাশের দশগ্রামে কোন স্কুল ছিল না। আমাদের গ্রামের স্কুলটি নির্মাণে সবচাইতে বেশি অবদান ছিল নিরক্ষর এক কাঠমিস্ত্রির। সে বহুবছরের পরিশ্রমে বিদ্যালয়টি নির্মাণে নিরলশ পরিশ্রম করে গিয়েছেিল। স্কুলটি প্রথম শিক্ষকটিকে অর্ধশিক্ষিত বললে অতুক্তি হবে না। শিক্ষাদান করে কোন অর্থ গ্রহন করতেন না। এদের প্রায় সবাই অতন্ত্য সত এবং সাধাসিধে অশিক্ষিত মানুষ ছিলেন। আর হ্যা আমার গায়ের এক দরিদ্র দোকানির কথা বলতে ভুলেই গেছি। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে আমার হাতে একটা চকলেট ধরিয়ে দিতেন। সবশেষে মায়ের কথা বলি। অর্ধাহারে অনাহারে থেকে আমার জন্য ভাল খাবারের ব্যবস্থা করতেন। ছিলেন আমার পড়ার সহপাঠি। মায়ের দোয়া', আমাদের দেশে এই বাক্যটি আপনার চোখেপড়বে অনেক জায়গাতেই, সেই মায়ের দোয়া এবং স্নেহকে আমার একজন গুনী মানুষ হওয়ার চাইতেও মূল্যবান মনে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



