somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অাল্লাহ তায়ালা এখনো অামাদের প্রতি নিরাশ হননি-

২০ শে মে, ২০১৭ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা এক একজন এক একরকম খারাপ কাজে আসক্ত হয়ে পড়ি। কেউ ধুমপান করছি তো কেউ মদ্যপানে জড়িয়ে পড়ছি। কেউ মাদক ধুকছি, আবার কেউ হয়তো অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ছি। আমরা যেন কেউ মনে না করি, আমরা এতটাই খারাপ হয়ে গেছি যে, আমাদের কোনই আশা নেই। নামাজ তো ভাল মানুষের জন্য। আমরা তো পাপী বান্দাহ। আমাদের নামাজ কি আল্লাহ কবুল করবেন? আমাদের শয়তানের একটি অপকৌশল মনে রাখতে হবে, সে আমাদের কাছে এসে বলবে, ছি! তুমি এইমাত্র ধুমপান করেছো, গাজা খেয়েছো, মদ্যপান করেছো, নেশা করেছো, তোমার মোবাইল ঘাটলে এখনো আপত্তিকর দৃশ্য বেড়িয়ে আসবে। তোমার কি লজ্জা করে না! তুমি এখন অযু করে নামাজ পড়বে?
এর সাথে তুলনা করে রাসূল স. কী বলেছেন? খারাপ কাজের পর ভালো কাজ করো। কারণ, সেটা খারাপ কাজটিকে মুছে ফেলবে। আমরা দুর্বল হয়ে শয়তানের ফাদেঁ পা ফেলে দিয়েছি। আমাদের মনটা ভারী হয়ে এসেছে। তখনই আমাদের ঘুরে দাড়ানোর উত্তম সময়। তখনই আমাদের বলা উচিৎ, শয়তান আমাকে একবার হারিয়ে দিয়েছেতো কি হয়েছে? আমি শয়তানকে তিনবার হারিয়ে দিবো।
প্রথমবার, আমি গিয়ে অযু করবো। কারণ, অযু করলে পাপ ঝড়ে পড়ে। অযুতে মুখ ধোয়ার সময় সেই চোখ এবং মুখ যা কিছু খারাপ দৃশ্য দেখেছিলো, সেই পাপ গুলো মুছে যাবে। হাত ধোয়ার সময় সেই হাত যেই খারাপ কাজের দিকে বাড়ানো হয়েছিলো সেই পাপগুলো মুছে যাবে। অযু করার সময় অন্তরে বিশ্বাস রাখতে হবে, মনে মনে কল্পনা করতে হবে, আমরা শারীরিকভাবে যেই যেই অঙ্গগুলি ধুচ্ছি, সেই সেই অঙ্গ থেকে পাপগুলো ঝড়ে যাচ্ছে। আমরা পবিত্র হয়ে যাচ্ছি।
দ্বিতীয়বার, আমরা শয়তানকে হারাবো নামাজে দাড়িয়ে। কারণ, রাসূল স. বলেন, যেই ব্যক্তি সুন্দরভাবে অযু করে দুইরাকাত নামাজ পড়বে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন।
এবং তৃতীয়বার, আমরা শয়তানকে হারবো আরো ভালো কোন কাজ করে। হয়তো কুরআনের কিছু আয়াত তেলাওয়াত করে বা কিছু সাদাকাহ করে। যেন শয়তান ভবিষ্যতে আমাদের ফাদেঁ ফেলার পূর্বে দু’বার চিন্তা করে, একে দিয়ে খারাপ কাজ করালে তো এ আরো তিনগুন ভালোকাজ করে ফেলবে।
ভেবে দেখুন, যারা পাপ কাজে লিপ্ত হয়, তারাই যদি আল্লাহর কাছে ক্ষমা না চায়, তাহলে ক্ষমা চাইবে কে? যদি আল্লাহ তায়ালা তার নিষ্পাপ বান্দাহদেরই ভালোবাসতেন, তাহলে কি তিনি ফেরেশতা সৃষ্টি করার পর মানুষকে সৃষ্টি করতেন?
ভেবে দেখুন, আমরা যখন আল্লাহর সামনে তার অমান্য করছি, তারপর যখন আমাদের খারাপ লাগছে, সেই খারাপ লাগার অনুভূতিটা কোথা থেকে আসলো? বাস্তবে এটি আল্লাহর তরফ থেকে একটি উপহার। তার কাছে ফিরে যাবার একটি আমন্ত্রণ।
ভেবে দেখুন, কত মানুষ আছে, যারা কোন না কোন পাপ কাজে আসক্ত। কিন্তু মনটা পাথর হয়ে গিয়েছে। সেখানে কোন অনুশোচনাবোধ কাজ করে না, কোন হাহাকার জন্মায় না। তাই আমাদের অন্তরে যখন কোন বিন্দু পরিমাণ অনুশোচনা জেগে ওঠে। তাহলে আমাদের বোঝা উচিৎ এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ আমাদের উপর নিরাশ হননি। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করার জন্য এখনো আমাদের দিকে চেয়ে আছেন। তিনি শুধুমাত্র একটি সুযোগ খুঁজছেন, একটি কারণ খূঁজছেন আমাদের ক্ষমা করার জন্য। আমরা শুধু একটি ধাপ এগিয়ে গেলেই তার রহমাত এবং মাগফিরাতের ঝর্ণা আমাদের ভাসিয়ে দিবে।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই একটি ধাপ নেব?
আমরা কি আল্লাহর আমন্ত্রণে সাড়া দেব?

(শায়খ হাসান আলীর একটি বক্তব্য থেকে নেয়া)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×