আমি যখন আফাজ সাহেবকে দেখি, তখন
তিনি তার ঘাড় ছাড়া দেহের কোন অংগ
নাড়াতে পারেন না। এমনকি বিছানায় পাশ
ফিরতেও কারো না কারো সাহায্য লাগে।
হঠাৎ সুস্থ জীবনে অভ্যস্থ মানুষটা এমন
জীবন যাপন কিছুতেই মেনে নিতে
পারছেন না। আমি তাকে যতই বুঝাই, তিনি
হতাশা ঢেকে রাখতে পারেন না। তার
বিশ্বাস এমনভাবেই তার বাকীটা জীবন
কাটবে। দিনে দু'বার আমি তাকে
ফিজিওথেরাপি দিতাম।
তিনি একটা ফার্মাসিটিকলস কোম্পানিতে
চাকুরীরত ছিলেন। অনেকদিন ধরে
বিছানায় পরে থাকা স্বামীর উপর তার
স্ত্রী ভীষণ বিরক্ত। চিকিৎসায় টাকা পানির
মত গেছে, যাচ্ছে। ভবিৎষতের কথা
ভেবে আফাজ সাহেবের চোখের
কোনে প্রায়শই জল দেখি।
দিন সাতেক পর আফাজ সাহেব একদিন
আমাকে চা খাওয়াতে চান। কারন তিনি
সেদিন নিজে নিজে তার হাটু ভাজ করতে
পেরেছেন। বিছানায় এপাশ থেকে
ওপাশও ফিরতে পারেন (যদিও ব্যালান্সের
অনেক অভাব)। চায়ের অফার আমি
সেদিন ফিরিয়ে দেই। বলি, 'যেদিন আপনি
নিজে বাজারে গিয়ে বাজার করবেন,
সেদিন আমি আপনার বাসায় গিয়ে ভাত
খাবো'।
প্রথম বারের মত স্মিত হেসে জানতে
চান, সেইদিন কি সত্যি আসবে?
পরিশিষ্ট: আফাজ সাহেব প্রত্যেক মাসে
একবার করে ফোন করেন, কবে আমি
যাব তার বাসায়।
তিনি এখন শুধু বাজারই করেন না। হারানো
চাকরিতে আবার জয়েনও করেছেন।
তিনি GBS(Guillain Barre Syndrome)
এর রোগী ছিলেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


