somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রজ্জলিত মেশকাত
ব্যক্তিজীবনে অহিংসায় বিশ্বাস করি। বুদ্ধের দর্শন গভীরভাবে ভাবায় আমায়। “আসক্তিই সকল দুঃখের কারণ, অধিকারবোধ থেকেই দুঃখের সৃষ্টি।” এই দুটো বাক্যের উপর অগাধ বিশ্বাস। কারো চিন্তা-চেতনাকেই ছোট করে দেখিনা। আমি বিশ্বাস করি যে মতবাদই হোক, তার গভীরে না ঢ

অণুগল্প- তানিয়া এবং আমার শৈশব

২৬ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তানিয়া আমার শৈশব জীবনের প্রথম বান্ধবী। তানিয়ার আব্বা ছিল আমার দুলাভাইয়ের দুলাভাই। এজন্য আমরা তাকে মজা করে ডাবল দুলাভাই বলে ডাকতাম। ডাবল দুলাভাই খুব মজার মানুষ ছিলেন। আপাও খুব ভাল ছিলেন। এখন আসা যাক তানিয়ার প্রসঙ্গে। তানিয়া ছিল দুই ভাই এর একমাত্র ছোট বোন। আপা দুলাভাই দুইজনই খুব আদর করত। গ্রামের ভাষায় যাকে বলে আদরে আদরে আদ নাও পানি। যার অর্থ হচ্ছে আদর করতে করতে যে কখন অতিরিক্ত দুষ্ট হয়ে গেছে তা ভাবতেও পারেনি।

আমার স্বর্ণালী শৈশবে তানিয়াদের আমাদের বাড়িতে খুব যাওয়া আসা ছিল। সেই হিসেবে তানিয়ার সাথে আমার খুব বন্ধুত্ব হয়ে যায়। কিছুদিন তানিয়ারা না আসলে আমার মনের মধ্যে কাল মেঘের আনাগুনা দেখা দিত। তানিয়ারও তাই। তাই তানিয়া জোর করে ওর মা-বাবাকে নিয়ে শুধু আমার জন্য আমাদের বাড়িতে চলে আসত। তানিয়া আসলেই আমার মন আনন্দে উদ্বেলিত হত।

মাঝে মাঝে তানিয়াকে ছাড়া ওর বাবা-মা চলে আসত। তখন আমার মনে কষ্টরা বাসা বাঁধত। তানিয়া আর আমি একই ক্লাসে পড়তাম। দুজন নানা রকম খেলা খেলতাম। ও কিছু নতুন ধরণের খেলা নিয়ে আসত। ওগুলো খেলতাম। ও খুব সুন্দর সুন্দর খেলনা নিয়ে আসত একসাথে খেলার জন্য। দুজন একসাথে গাছে উঠতাম। গাছের ডালে বসে থাকতাম। দুলনা বানিয়ে দুলতাম।

মাঝে মাঝে তানিয়ার সাথে সারাক্ষণ খেলাধুলা করার জন্য আম্মার বকা খেতে হত। একবার ঝড়ে কাঠাল গাছ ভেঙ্গে যাওয়ায় গাছের ডালে বসে সারাদিন দুলনি খেলাম আর গল্প করলাম। একসাথে অনেক লাফালাফি ঝাপাঝাপি করতাম। খড়ের মধ্যে একসাথে ঝাপিয়ে পড়তাম। আরও অনেক স্মৃতি ছিল তানিয়াকে নিয়ে যার বেশিরভাগই বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে।

এর পর শুরু হল গল্পের নতুন এপিসোড। তানিয়ারা আস্তে আস্তে আমাদের বাড়িতে আসা কমিয়ে দিল। ক্লাশ সিক্সে উঠার পর হঠাত করে তানিয়া শারীরিক গড়নের দিক থেকে বড় হয়ে যায়। ওর মানসিকতাতেও পরিবর্তন ঘটে। পিউবার্টিতে যেসব পরিবর্তন সাধারণত ঘটে থাকে ওর মধ্যে তাই ঘটল। যেহেতু ছেলেদের পিউবার্টি একটু দেরিতে আসে তাই আমি প্রাকৃতিক নিয়মেই ছোট রয়ে গেলাম। তখন থেকেই শুরু হল মুল দূরত্ব। এর পর থেকে তানিয়া আর আমাদের বাড়িতে আর খুব একটা আসতনা। আমিও তানিয়ার সাথে কথা বলতে সঙ্কোচ বোধ করতাম। আমি চরম হীনমন্যতায় ভুগতাম। তানিয়ার সাথে বন্ধুত্বের এই ছিল সমাপ্তি।

তারপর অনেক বছর কেটে যায়। আমিও সাইজে অনেক বড় হয়ে যায়। কিন্তু একেবারে শুকনা থেকে যায়। ইন্টারমিডিয়েটে একবার আপার সাথে দেখা করার জন্য তানিয়াদের বাসায় যায়। কিন্তু তানিয়ার সাথে কথা বলতে পারলাম না আমার হীনমন্যতা আর অন্তর্ম্মূখীতার কারণে। জানিনা তানিয়া শৈশবের সেই স্মৃতিময় দিনগুলো তানিয়া ভূলে গেছে না মনে রেখেছে। কিন্তু স্মৃতিগুলো এখনো আমার হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। ইন্টারের শেষ দিকে তানিয়া প্রেম করে বিয়ে করে। আমাদের সাথে আর কখনো দেখা হয়নি। আমি এখনো তানিয়ার খোঁজ খবর কিছুটা রাখার চেষ্টা করি। কোনদিন যদি দেখা হয় তাহলে সেই হারিয়ে যাওয়া শৈশবের স্মৃতিচারণ করব। আমি জানি সবাই জানে সেই শৈশবে আর ফেরা যায়না।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১০:২৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - 'সত্য বলার সনদ'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮



রাত দুটায় রাকিবের ফোন বেজে উঠলো।

—ভাই, আপনার মুক্তিযোদ্ধা সনদটা কোথায়?

—কেন?

—একজন আমেরিকা-প্রবাসী ব্লগার বলেছেন, আপনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—আমার সনদ তো আলমারিতে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: আহ প্রিয়তমা, মিলনের গল্প জানো না

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×