somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রজ্জলিত মেশকাত
ব্যক্তিজীবনে অহিংসায় বিশ্বাস করি। বুদ্ধের দর্শন গভীরভাবে ভাবায় আমায়। “আসক্তিই সকল দুঃখের কারণ, অধিকারবোধ থেকেই দুঃখের সৃষ্টি।” এই দুটো বাক্যের উপর অগাধ বিশ্বাস। কারো চিন্তা-চেতনাকেই ছোট করে দেখিনা। আমি বিশ্বাস করি যে মতবাদই হোক, তার গভীরে না ঢ

অণুগল্পঃ অব্যক্ত বেদনা

০৮ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৫:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পতিতা পল্লী থেকে বের হয়ে এসেছি ২ ঘন্টা হলো। এখন আমার প্রিয় ব্র্যান্ডের বেনসন খাচ্ছি। সিগারেট খাওয়ার সবচেয়ে মজার সময় হল শীতকালের সকাল এবং সন্ধ্যা! যতই মুরব্বি থাকুক আর যতই সিনিয়র বড় ভাই থাকুক সিগারেট হালকা সেভ দিয়ে খেলেই আর কোন ঝামেলা নেই। সিগারেটের ধোয়া আর কুয়াশা সব মিলে যাবে এক হয়ে। প্রেমিকার বাসায় আজ সন্ধ্যায় ডেকেছে। যাব কি যাব না এই নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দে ভুগছি। তাই তো প্রেমিকার এলাকায় এসে সিগারেট ধরিয়েছি আর মগ্ন হয়ে আছি চিন্তার জগৎ-এ।
.
প্রেমিকার বাসায় বসে রয়েছি। কিছুটা ভয়ও হচ্ছে। প্রেমিকার মুখেই শুনেছি ওর বাবা আর ভয়ংকর পিচাশের মাঝে নাকি কোন অমিল নেই। যাকে একবার অপছন্দ হয় তার ঘাড়েই চেপে বসে রক্ত খাওয়ার মত করে! লোকটি নাকি গণিতের শিক্ষক! অবশ্য আমি সবচেয়ে গণিতেই ভালছিলাম বেশি।আমার বিশ্বাস লোকটি গণিতের মারপ্যাচে ঠ্যাকাতে পারবে না!হঠাৎ প্রেমিকার বাবা আসলো।এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো! এতো আমার কলেজের জীবনের প্রিয় শিক্ষক! এতদিন পর এভাবে স্যারের সাথে দেখা হবে কখনো ভাবিনি। আর এই লোকটিই আমার প্রেমিকার বাবা! বাহ!

স্যার কলেজে আমাকে জীবনেও একটি অংকেও ঠেকাতে পারেন নি।কোনদিন স্যার প্রশ্ন করেছেন আমি উত্তর পারিনি তা হয়নি!
স্যার বিনা বাক্যে আমাকে বরণ করে রাতের খাবার খাইয়ে বিদায় দিলেন।
.
৬ মাস পর..
.
বর্তমানে আমি আর একা নই। নতুন বউ আর সংসার ভালই চলছে। এখন আর অফিস থেকে এসে সেই মেসের বুয়ার পচা খাবার খেতে হয় না! ময়লা শার্ট প্যান্ট একটানা কয়েকদিন পরতে হয় না! ব্যাচেলার চাকরিজীবী পুরুষরা মূলত বিয়ে করে থাকে এই সব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে। আজ বাসায় যাওয়ার আগে একবার পতিতাপল্লী হয়ে যাবো! প্রতি সপ্তাহে একবার হলেও আসি এখানে! আগে এখানে আসতে তেমন ভয় করতো না,কিন্তু ইদানিং খুব ভয় করে।কেউ যদি বউকে বলে দেয়!

কিছুদিন আগে অফিসের পিয়ন আশরাফ আর আমার মুখোমুখি হয়ে যায় এই এলাকায়।
তারপর থেকে অফিসে আশরাফকে অনেক গুরুত্ব আর প্রশয় দিতে হয়। আগে কাজ ফাঁকি দিলেই ওকে বকতাম!! কিন্তু এখন চা আনতে পাঠালে দেরি করলেও ওকে হাসি মুখে সম্বোধন করতে হয়! অফিসের বাইরের টংয়ের দোকানে আশরাফ এখন আমার সামনেই সিগারেট ধরিয়ে খায়!..
.
পতিতা পল্লী থেকে বের হয়ে বাসায় পৌছাতেই দেখি বউ আমার রাগি মুড নিয়ে বসে আছে। কারণ জিগাসা করতেই তেরে এলো! বাসায় ৩ দিন হলো ডিশের লাইন নেই! ডিশের অফিসে কল দিয়ে লাভ হয়নি, তাই আজ অফিস থেকে আসার সময় ডিশের অফিসের লোককে সাথে করে আনতে বলেছিল। কিন্তু আমিতো ভুলে গিয়েছি। তাই রাতের খাবার বাইরে করতে বল্লো! আজ সে আমার জন্য রাঁধবে না! এই প্রেম করে বিয়ে করাটায় ভুল! প্রেম করে বিয়ে করলেও ঘরে যে নারীর এক নায়কতন্ত্র কায়েম থাকে!
.
পরেরদিন সকালে গিয়ে বউকে ডাবল সারপ্রাইজ দিলাম!ডিশের লাইন ঠিক করেছি আর সাথে বাসায় ২ এমবিপিএস স্পিডের ব্রডব্যান্ড লাগিয়ে দিয়েছি। ডিশের সমস্যা হলে নেট আর নেটে সমস্যা হলে টিভি!! বউয়ের সামাজ্যে এখন ডাবল ধামাকা!
এখন আর বউ বেশি টিভি দেখে না! সারাক্ষণ ইউটিউবে নাটক, মুভি দেখে। রাতে অফিসের কাজের জন্য ডেস্কটপে বসতে পারি না। তাই আলাদা একটা ল্যাপটপ কিনেছি। কিন্তু সে ল্যাপটপ নিয়ে গেছে আর আমাকে সেই ডেস্কটপ ধরিয়ে দিয়েছে!
.
আজ অফিস তাড়াতাড়ি ছুটি দিলেও পতিতাপল্লীতে যাব না আজ। শরীরটা জ্বর জ্বর লাগছে। বাসায় গিয়ে দেখি শ্বশুর এসেছে। একি বউ আমার কাপড় গুছিয়ে শ্বশুর বাড়ি চলে যাচ্ছে। শ্বশুর আমাকে দেখেই তার স্যান্ডেলটা খুলে গালের মধ্যে কয়েকটি বসালেন বারি! এক প্রকার ধস্তাধস্তিতে আমার শার্ট ছিড়ে গেল। তারা বাড়িওয়ালা থেকে শুরু সবাইকে এনে বলে গেল আমার পতিতাপল্লী যাওয়ার ঘটনা! বাড়িওয়ালা ১ সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ছাড়তে বল্লো। আসলে বাসায় নেট এনে দেওয়াটায় ভুল সিদ্ধ্যান্ত ছিল। পতিতাপল্লী নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি দেখে আমার বউ। সেখানে হিডেন ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করে খদ্দেরদের দেখানো হয়! কপালগুণে আমিও সেই হতভাগাদের মধ্যে একজন!
.
শ্বশুরের ধস্তাধস্তিতে আমার গাল কেটে গেছে বুঝিই নি। আজ বাসায় না ঢুকে সেই ছেড়া শার্ট নিয়েই বেরিয়ে পরলাম পতিতাপল্লীর উদ্দেশ্যে!
.
পতিতাপল্লীতে দাঁড়িয়ে আছি। একজন পতিতা অনেক্ষণ ধরে আমার ছেড়া শার্ট আর কাটা গালের দিকে তাকিয়ে আছে!! আর আমিও তার দিকে! সেই পতিতার চোখ দিয়ে পানি পরছে! হাজার হলেও মায়ের মন তো! আমার চোখ দিয়েও পানি পরছে। আমি কিছুক্ষণ পর চলে আসলাম। চোখ যে আজ খুব ভারি হয়ে আসছে পানিতে..
.
এই পতিতা পল্লীতে পতিতাদের ১২০০-১৫০০ এর মত জারজ সন্তান আছে! মেয়ে হলে তাদের সর্দারনীরা ধরে একি পেশায় দিয়ে দেয়!আর ছেলে হলে দক্তক বা সর্বোচ্চ ৭ বছর বয়স পর্যন্ত মায়েরা লালন করেন। যখন সন্তানের বুঝ হবে তখনই মায়েরা তাড়িয়ে দেন! মা খারাপ কাজ করে এটা কোন মহিলায় চাবে যে তার সন্তার জানুক! একটি এনজিওর বদলতে ক্লাস টেন পাশ করি। তারপর নিজেই নিজের ভার গ্রহণ করে আজ এ পর্যন্ত!! সবাই জানে আমি এতিম! কিন্তু আমিতো এতিম না!
বউকে সত্য বলে আর আনতে যাবো না..
.কোন সন্তান চায় যে তার মায়ের খারাপ কাজ প্রকাশ পাক! আমি জারজ..এটি আমার অভিশাপ! অভিশাপকে বুকেই পুষতে হবে! মাকে অনেক আনার চেষ্টা করেছি; কিন্তু আমার বুঝ হওয়ার পর আমার দিকে চোখ তুলে দাঁড়ানোর সাহসই তার হয়নি। কোন মা চাইবে তার সন্তান তাকে এই জগৎ থেকে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যাক! মা তো কোন পণ্য না! সে তো দেবী তার সন্তানদের কাছে!
.
হেঁটে চলেছি বাসার দিকে। বুকে একটি কষ্ট ছিলই আগে থেকে কিন্তু আজ নতুন কষ্ট যোগ হলো। এভাবেই কাটবে আমার এতিম সেজেই.. শুধু মাঝে মাঝে আসবো এই পতিতপল্লীতে যতদিন সেই মহিলা বেঁচে আছে তাকে শুধু এক নজরে দেখতে..

(ছায়াগল্প)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০২১ সকাল ১১:০৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×