somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জার্মানী বনাম হিটলার !

৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

> মিঃ পিয়াস, অামি মাইন ক্যাম্পও পড়েছি অানার ডায়েরীও পড়েছি ! আমার এখোনো হিটলারকে অতি জঘন্য লোকই মনে হয়, যার প্রমান পাবেন জার্মান এম্বাসীতে গেলে ! তারা নিজেরাও হিটলারকে সহ্য করতে পারে না ! জার্মানীতে হিটলারের সবকিছু নিষিদ্ধ ! জীবনে কখোনো গিয়েছেন সেখানে?... বইটই কিছু পড়েন কি ? কিছু বইপুস্তক পড়ুন, জানুন তারপর কথা বলতে.......!

বোনটির মেসেজ পেয়ে তার ওয়ালে গেলাম ! অনেক বইয়ের পোস্ট মাশাল্লাহ ! অসাধারন সব বইয়ের ছবি, কোনো বইয়ের পাশে টেডি, কোনোটার পাশে নিজের হাত, কোনোটাতে বা কানের দুল, চায়ের কাপ, হেডফোন.....! ক্যাপশনও সব চমতকার ! বই'ই তার জগৎ, বই'ই নাকি তার সব! চা বা কফির সাথে নাকি তার বই ছাড়া চলে না,.. অনেক কথা লেখা ! বাদ যাক ওই অালাপ !

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংগঠিতই হয়েছিলো জার্মানদের উপর অন্যয়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া ভার্সাই চুক্তির কারনে (চুক্তি সম্পর্কে অাপনারা জেনে নিয়েন কারন এটা বলতে গেলে লেখা অতিদীর্ঘ হয়ে যাবে) ! তার জন্য অাপনি হিটলারকে দায়ী করতে পারবেন না, যেমনটি পারবেন না বঙ্গবন্ধুকে ! পাকিস্তানীরা যুদ্ধ শুরু করেছিলো বলেই বাংলায় ৩০লক্ষ লোক শহীদ হয়েছিল, এখন অাপনি যদি বলেন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিল বলেই এতো লোক নিহত হয়েছে তাই এর জন্য দায়ী শেখ মুজিব, এ কথা কোনো বাঙালী কোনোদিন বলবে না, কারনটা অামরা সবাই জানি, এটা ছিল অন্যয়ের বিরুদ্ধে লড়াই ! যাই হোক, ১৯৪৫ সালে যখন মিত্রবাহিনীর কাছে জার্মানী পরাজিত হয় তখন অারেকটি চুক্তি সম্পাদিত হয়, সেই অনুসারে হিটলার এবং হিটলারের নাৎসী বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয় ! জার্মানীতে হিটলারের সমস্ত কার্যকলাপ অাইন করে নিষিদ্ধ করা হয় ! হিটলার নিয়ে অলোচনাও সেখানে নিষিদ্ধ ! সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চুক্তি অনুযায়ীই এখন পর্যন্ত সেখানে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পও রয়েছে ! জার্মানদের কাছে হিটলারকে পরিচিত করা হয় একজন জঘন্যতম মানুষ হিসেবে ! চুক্তি অনুযায়ী জার্মানীতে হিটলার শব্দের উচ্চারনও নিষিদ্ধ ! সেই চুক্তিই জার্মানরা কঠোরভাবে পালন করেন !

অারেকটু বুঝিয়ে বললে, ৭১এর যুদ্ধে যদি পাকিস্তান জয়ী হতো তাহলে কি হতো ভাবুন তো ? সবচাইতে বড় রাষ্ট্রদ্রোহী কে হতেন ? তাকে সেই হিসাবে চিহ্নিত করে বইপুস্তক লেখা হতো ! অামরা জানতাম, অামাদের সবচাইতে নিকৃষ্ট লোক ছিলেন মুজিব ! এটা অস্বাভাবিকও না ! কারন ইতিহাস লিখে কেবল 'বিজয়ীরা' ! মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালী জয়ী হয়েছিলো বলেই মুজিব অামাদের মাথার মুকুট ! কিন্ত হিটলার তো পরাজিত হয়েছিলেন, তাহলে তার বিরুদ্ধের ইতিহাস কারা লিখবেন, সেটা সুস্থ মস্তিষ্কের যে কোনো বিবেকবান মানুষই বুঝতে পারবেন ! হিটলারের নাম মুখে অানা যাবে না, সেটা চুক্তিরই অংশ ! অার জার্মানরা যে কোন চুক্তি বা কমিটমেন্ট strongly রক্ষা করে, এই জন্যেই ওরা পৃথীবির শ্রেষ্ঠ জাতি বা ব্লু ব্লাড ! অাজ পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নিয়মতান্ত্রিক জাতি জার্মানী,সবচেয়ে সাহসী জাতি জার্মানী ! তাইতো তারা তাদের কর্মের স্বীকৃতিস্বরুপ পৃথিবীর ১৫৮টি দেশে বিনা ভিসায় যাতায়াত করতে পারে ! জার্মানদের জন্য হিটলার যা করেছে জার্মান জাতি তা কখনো ভুলবে না ! তবে সেটা পাবলিকলি বলতে জার্মানদের সময় লাগবে, এটাই বাস্তবতা !

মাত্র এটুকু লিখেই অাপুটিকে সেন্ড করে দিলাম ! পরের লাইনে বলতে ইচ্ছে করলো,
"ফেসবুক স্ট্যাটাসে রিডিং অমুক বই, তমুক বই, সেই সাথে বইটির চমতকার একটা ছবি পাশে চায়ের কাপ, হেডফোন..... এসব দিয়ে নিজেরে অন্যের কাছে বইপড়ুয়া হিসেবে দাবি করার মধ্যে কোন নেকীর ব্যাবস্থা নাই যতক্ষন পর্যন্ত সেই বই অাপনার জানার পরিধিকে উন্নত না করছে ! অার অাপনি একটা বইয়ের ছবি তোলার পেছনে যতটা সময় ব্যায় করেন ততক্ষনে অাপনি অারেকটা বইয়ের প্রায় অর্ধেক কমপ্লিট করে ফেলতে পারতেন ! বইয়ের ছবি তুলে অাপলোড দিয়ে কিছু অাজাইড়া লাইক-কমেন্ট কামাবেন এটা ছাড়া বাড়তি কোনো নেকীর ব্যাবস্থা ওই ছবিতে নাই ! ওরকম লোকদেখানো বইপড়াতেও কোনো নেকী নাই...."

কিন্তু এই কথাগুলা উনাকে বলতে পারলাম না ! কিছু বাক্য জিহ্বার সামনে এসে অাটকে যায় !
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:১০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×