somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এতো গড়াবে জানলে আরো লেপে রাখতাম

০৭ ই অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উঠোনের মাঝখানটাতে বৃত্তের মতো মাটি লেপা স্থানটাতে পুজারি মতিউর রহমান বসে আছেন।ঠিক অপরদিকে বসা মুসা ইব্রাহীম। সদ্য এভারেস্ট ঘুরে এসেছেন(!) মতিউর রহমান আজ তাকে দীক্ষা দেবেন।
উঠোনটাকে বুকে নিয়ে যে ছোট্ট ঘরটা-তার দোরে বসেই আছেন মুসা ইব্রাহীমের ন্যকা পত্নী। বেচারা সহজ সরল দুর্বল মানুষ। স্বামী তাকে কত ভালোবাসে- যদিও তার কথা নাকে বাজে-এতেও তার স্বামীর কোনো দু:খ নেই। স্বামীর দীক্ষা উপলক্ষ্যে অনেক কষ্টে উঠোনের এ জায়গাটা লেপেছে। তার স্বামী আজ ভন্ডামির দীক্ষা নেবে। তাও আবার নেবে বিষ্টিষ্ট ভন্ডখ্যাত- পুজারী মতিউর রহমানের কাছ থেকে।
দীক্ষা শুরু হলো; গুরুগম্ভীর মতিউর রহমান মুসাকে তার হাতের মাঝে হাত স্থাপন করতে বললেন। মুসা তাই করলেন। মতিউর রহমান বলতে শুরু করলেন আর মুসাকে বললেন আমি যা বলব তুমি তাই পড়বে। মুসাও বলল আমি যাই বলব তুমি তাই পড়বে (এভারেস্টের পাদদেশে মাস খানেক ঘুরো ঘুরির সময় সে একটি দীক্ষা অনুষ্ঠান দেখেছে। সেখানে পুজারি যা বলে অপর ব্যক্তিও হাতের মাঝে হাত রেখে তাই পড়ে)। মতিউর রহমান বললেন হয়নি। মুসাও বললেন হয়নি। আরে আমি যাই বলি তাই বলতে বলছি তোমাকে-বললেন মতিউর রহমান। মুসাও একই কথা বললো। মতিউর রহমান চটে যাচ্ছেন। মুসাও অনুকরণ করছে। এক পর্যায়ে মতিউর রহমান বলে বসলেন, শ্যালা-বলি এতো বড় হ্যাদারাম না হলে কি আমরা জাতিকে যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছি তা অনুকরণ করে। মুসাও বললেন একই বাক্য। মতিউর রহমান তার হাত ছেড়ে রাগের মাথায় মুসার বুক চেপে বসলেন। মুসাও তাই করলেন (তবে মনে মনে ভাবলেন-এভারেস্টের পাদদেশের দীক্ষাটায় তো এমন অংশ ছিল না-তবে পুজারি মতিউর রহমান বলে কথা! তিনি বুঝি এভাবেই দীক্ষা দেন)। এবার মতিউর রহমান আবার মুসার বুক চেপে বসলেন। মুসাও তাই করলেন। এভাবে লুটোপুটি খেতে খেতে দুজনে উঠান ছেড়ে পাশের ডুবায় গিয়ে পড়লেন।
আর মুসার বউ এরকম দীক্ষা দেখে এতই মজা পেলেন যে আনন্দে দাঁড়িয়ে হাত তালি দিতে শুরু করলেন। আর বললেন- দীক্ষা এতো গঁড়াবে জানলেতো আমি ঘাঁট পর্যন্তই নেপে নাখতাম!!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:৫৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×