somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেয়েটির কি দোষ ছিল!

২৪ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাসপাতাল জায়গাটাকে আমি সাধারণত এড়িয়ে চলি। অসুস্থ মানুষের অসহায় আর্তনাদ, যন্ত্রনায় কাতরানোর শব্দ, আত্মীয়স্বজনের আতঙ্কিত মুখ, বিষন্নতা আমার এই দুর্বল হার্ট সহ্য করতে পারে না। কিন্তু আজ একেবারে না গিয়ে পারলাম না। গতকাল খবের শুনেছি বুয়েটের এক ছাত্রী বাস থেকে পরে গিয়ে গুরতর অসুস্থ হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি। ইচ্ছা থাকলেও গতকাল সময় করতে পারিনি, আজ ইফতারের পর বের হলাম পঙ্গু হাসপাতালের উদ্দেশ্যে।

নিচ তলায় অভ্যর্থনা কক্ষে কাউকে না পেয়ে এক ভদ্রলোককে জিজ্ঞাসা করতেই, লোকটি দোতলায় সি ব্লকে যাবার কথা বলল। দোতলার মহিলা ওয়ার্ডের রুমটিতে ঢুকে এক জায়গায় অনেক লোকের ভীড় দেখে এগিয়ে গেলাম সে দিকে। দুটো পা’য় ব্যান্ডেজ করা। বাম পায়ের হাটুর নিচের অংশ.............ডান পা পুরোটা ব্যান্ডেজ। বেডের পাশেই একটা ভদ্রলোক আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন, “আমি শাম্মার বড় ভাই” ।
.নিজের পরিচয় দিয়ে দু’একটা কথা বলে জানতে পারলাম, মেয়েটি ইফতারের আগে বাসায় ফেরার উদ্দ্যেশে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মতিঝিলের জন্য রাজা সিটি বাসে উঠতে গেলে, ওই সময় দুজন যাত্রীর হুরোহুরিতে মেয়েটি বাসের দরজা থেকে পরে যায়, আর তখনি বাসের পিছনের চাকাটা মেয়েটির পায়ের উপর দিয়ে...।।

একটু পরেই হাসপাতালে একদল সাংবাদিক হাজির। এন টিভির। ক্যামেরা চালু করে, কথা বলা শুরু করল। গতকালের পর থেকে এই পরিবারেরর উপর দিয়ে সাংবাদিকদের অনেক ঝামেলা গেছে, বোঝায় যাচ্ছে। মেয়েটির মা অভিযোগ করে বলছিলেন, “মেয়েটি যখন বাস থেকে পরে ভাঙ্গা পায়ে রাস্তায় যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকে তখন দল দল সাংবাদিক তার ছবি তুলেছে ঘটা করে। হট কেক করে টেলেভিশনে বিক্রি করেছে, অথচ যন্ত্রনাই কাতরানো মেয়েটিকে কোন সাংবাদিক তার গাড়ি করে হাসপাতালে পৌছে দেয় নি। ব্যাথায় মেয়েটি কাতরাতে থাকলেও, ফটোসাংবাদিকরা একের পর এক ক্যামেরা ক্লিক করে গেছে। অবশেষে এক মধ্য বয়স্ক মহিলা রিক্সা করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে মেয়েটিকে নিয়ে গেছে । কোন সাংবাদিক নয়”।

এই বলে মেয়েটির মা অঝোরে কাঁদতে থাকেন। মেয়েটির বড় ভাইয়েরও একি অভিযোগ, “আমরা শিক্ষিত মানুষরা মানুষের দূর্ঘটনাকে পুজি করে সংবাদ বিক্রি করছি, অথচ আমাদের মানবতা বোধ কোথায়...”!

সাংবাদিকরা চলে গেলে মেয়েটির ভাই আমাকে তার কাছে নিয়ে গেলে আমি চুপচাপ তার পাশে গিয়ে দাড়িয়েছিলাম কিছুক্ষন। মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে আমি কোন কথা বলতে পারি নি। শুধু মনে মনে বলেছিলাম, “যে ভার আল্লাহ এই মেয়েটিকে দিলেন, তা যেন সে বইতে পারে” ।

মেয়েটির বড় ভাই রাতে বাসায় যাবেন বনশ্রীতে। একসাথেই বের হলাম। বেরুনোর সময় মেয়েটির মা এগিয়ে তার বড় ভাইয়ের হাত ধরে বললেন “বাবা! সাবধানে যাস...” ।

আগামীকাল সকালে মেয়েটির বড় ভাই ঢাকা শহরের রাস্তায় সম্ভব্য অসংখ্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেয়ে অক্ষত, সুস্হ শরীরে মেয়েটিকে আবার দেখেত আসতে পারবে তো?
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×