somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইন্ঠার্ভিউউ....ও আমি... ;-)

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দোস্ত কাল একটা ইন্টারভিঊ দিমু দোয়া করিস।
- কস্কি কিসের ইন্টারভিঊ?? আর আমারে কস নাই ক্যা..?
.
- সুস্থ যন্ত্রনালয়ে সহকারী একটা পদে। কাল ইন্টারভিঊঊ...
- আইচ্ছা তাইলে আমিও দিমু সরকারী চাক্রী ট্রাই কইত্তে দোষ কি...
আমরা দু-দু খানা দুস্থ এক জায়গায় কাম কইল্লে বালই হইব। :-)
.
যাউকগা পরদিন ভদ্রলোক সাজিয়া গেলাম ইন্ঠারভিঊ দিতে।
জীবনের ১ম ইন্ঠার্ভিউ কিরাম যানি লাগিতেছে।
কিন্তু সুস্থ যন্তনালয়ের ইন্ঠারভিঊ গুলশান অইব
ক্যা মাথায় কাজ কইত্তেচে না।
.
পরক্ষনে আবার ভাবিলাম, ইন্ঠারভিঊ
গুলশান হোক আর গুলিস্থান হোক আমার কি।
আমার কাম দরকার সো কাম পাইলেই অয়।
.
ইন্ঠারভিঊর দিতে কত্ত ইশমার্ট পোলাপাইন ওয়েট কত্তেছে।
তাদের কাছে নিজেকে নিতান্তই নগন্য ব্যক্তি মুনে অইল।
.
সবাই সিরিয়াল দিয়া বইসা আছে বড় চোর'রা থুক্কু স্যার'রা আসব আর আমাদের টেস করব। :-D
.
ইতিমধ্যে ওয়েটিং রুমে সবাইরে চা কুপি দিয়া গেলেন।
চা'টা ঠান্ডা না হতেই ডাক পড়ল। মামুন খামিং
তো আমিও বুকে বল নিয়ে দরজা Fuck করিয়া বলিলামঃ
.
- ম্যা আই খামিং চ্যার..??
- ইয়েচ খামিং সিট ডাউন।
.
তারপর, হেতেরা আস্ক মেহ
- হঠিজ ইয়ুর নেম, ইয়ুর ফাদার মাদার নেম।
ইয়ুর এড্রেস ফাদার উয়ার্ক বক্কর চক্কর বহু কিছু।
বাঠ কামের কতা কিছু জিগায় না। :-/
.
আর এর মাঝে আরেকজন আমার কাগজপত্র
সার্টিফিকেট মার্কশীট গুলা ভেরিফাই করে নিচ্ছে।
মুনে মুনে রাগ হইল আমার চেহারা সুবিধার না হইতে পারে,
বাঠ আমি কি ২লম্বর নি যে জাল কাগজ লইয়া আমু। :-/
.
তারপর আরেকজন জিগাইতেছে:
তোমার জীবনের লক্ষ্য কি, আর ছোট
বেলা থেকে তুমি কি হইতে চাও।
.
যাক এতক্ষনে কামের কতায় আইলো তো আমিও বলিতেছিঃ
.
ছোট বেলায় প্রচন্ড আগ্রহ ছিল আমি এক্টর হমু,
তবে সেটা ফিলিমের না নাটকের সাইড এক্টর।
জোকিং পার্ট থাকপে আমি এক্তিং কইড়াই যামু।
সবাই আমার জোকিং পার্ট দেখার জন্য ব্যাপুক
আগ্রহ নিয়া বইসা থাকপে।
.
বাঠ আর হইল না,
হঠাত করে আমার লাইফ আমাকে নিয়ে জোকিং শুরু
করে দিল। আমি এক্টরের বদলে দর্শক হয়ে গেলাম।
.
তারপর ভাবলাম ইঞ্জিনিয়ার হমু ছোট খাট হলেও দেশে
একটা কাজ করুম মা বাবা বউ নিয়া একসাথে থাকুম, তাও হইতেছে না।
.
তাই এখন আর আমার লক্ষ্য ছোট নাই
বড় বড় জিনিসের দিকেই আমার নজর।
সেই লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য নিয়াই এখানে আসলাম
কাজ করার জন্য। বাকীটা আল্লাহর ইচ্ছে।
.
তারপর আমারে একখানা
ইংরেজী পত্রীকা দিয়া বলিতেছেঃ
এই অংশটা পড় এতে কি লেখা আছে।
.
(মনে মনে কই হাউয়ারর্পো ইংরেজী
পড়তে পারস না, ইংরেজী পত্রীকা লস ক্যা)
.
তারপর পড়লাম, আর তারা হা না কিছু না বলিয়াই
আমারে একখান কাগজ ধরাইয়া দিয়া আসিতে বলল।
মনে কষ্ট নিয়া আমরা দুই বন্ধুই চলিয়া আসিলাম।
চাকরী হইব কি হইবনা কিচ্ছু আন্দাজ করিতে পারলাম না।
আবার এই ভেবে ভাল লাগছে যে একটা অভিজ্ঞতা তো হইল। ;-)
.
৫ দিন পর ফোন আসল উনারা নাকি কয়েকজন সিলেক্ট করছে
অন্য একটা ঠিকানা দিল কাগজটা নিয়ে সেখানে দেখা করতে।
হায় হায় কাগজটা কই পামু, ওটা তো ঘাম মুইছা ফেলায়া দিছি। :-D
তবুও মনের আনন্দে নাচিতে নাচিতে চলিয়া গেলাম।
.
গিয়ে দেখি আমাদের মত আরো লোক আছে।
সেখানে কিছু লোক জব এর সিলেক্সান করতেছে।
আমরা গেলাম আর বলিতেছে তোমাদের জব টা হবে
প্রত্যেকে ৬ লাখ টাকা করে সম্মানি দিতে হবে।
.
মনে মনে বলি সালার বেটা গাড়ি ভাড়া কইরা আসাই
ভুল হইছে। ঘুস দিলে আর ইন্টারভিঊ দিলাম ক্যারে।
ঘুস দিতে পারলে তো আমি সচিব এর চাকরি করতাম
সাস্থ যন্তনালয়ে না।
.
তারপর তাদের আশার প্রদিপ জ্বালায়ে এক বুক
হাতাশা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে
রাস্তার পথে
হাটিতে হাটিতে দুই বন্ধু গান ধরিলাম।
.
.
"ঘুস যেখানে চাকরী সেখানে তা কি যাননা।
একই বাধনে মামু-খালু বাধা দু জনে।
ঘুস ছাড়া চাকরী হবেনা" আহা আহা ওয়ে ওয়ে ... :v :v
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:১৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়াঘর: কেস ফাইল #১৯৯৬ (দ্য লাস্ট রিল)

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ৯০-এর দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে দীর্ঘদিনের স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও আলোচনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলার । গল্পে উল্লেখিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

×