somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফটোগ্রাফার

২৫ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৫:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভালোই হলো!!রাতবিরাতে আর জেগে থাকতে হবেনা ...
দিনে কয়েকবার ফোন দেবার মহড়া চলবেনা।মোবাইল বিলও কমে যাবে...!!
অপেক্ষার কথা নাইবা মনে করলাম।
আর কি প্রয়োজন আছে এসবের।
বুঝছিস আনভীর জীবনে কাউকে ভালোবাসার আগে তার পরীক্ষা নিস........

কথাগুলো রিশাদ বলছিলো।আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।ঝর ঝর করে পানি পড়ছিলো।কয়েকদিন আগে রাফার সাথে ওর ব্রেকআপ হয়ে গিয়েছে।অনেকবার জানতে চেয়েছি কেন এমন হলো।ও বলেনি।অনেক কষ্ট নিয়ে ও নিজের কাজটা করে গেছে।ক্যামেরায় রিশাদের হাত ছিলো খুব পাকা ,কি ফটোগ্রাফি কি ভিডিওগ্রাফি।ফটোগ্রাফিতে বেশ কয়েকটা পুরষ্কারও পেয়েছে।এখন ছবিগুলো দেখলে আনমনেই অস্থির হয়ে যাই রিশাদের অনুপস্থিতিতে।

মার্চ মাস।
আমাদের ভাবনাজুড়ে তখন শর্টফিল্ম।চার পাচটার কাজও শেষ করেছি।ক্যামেরাতে রিশাদই ছিলো।ছয় নম্বর ফিল্মটা বানাচ্ছিলাম।তখনই রিশাদের ব্রেকআপের সূচনা।রিশাদকে আনমনা দেখতাম শুটিংয়ের আগে পরে।কিন্তু শুটিং চলার সময় ও খুব সিরিয়াস থাকতো।

ফিল্মটার সব কাজ শেষ করে ১৫তারিখ ফিল্ম ফেস্টে জমা দিলাম।এরপর সবাই আড্ডায় আসলেও রিশাদ আসতোনা।ওর বাসায় গিয়ে ওকে হালকা করার চেষ্টা করা হলো।কিন্তু কিছুতেই ও ফিরে আসতে পারছিলোনা।সারাদিন নেশায় বুদ হয়ে থাকতো।ওর বাবা ব্যাপারটি জেনে ওকে খুব গালাগাল করেছিলো।পরদিন থেকে রিশাদের কোন খোজ নেই।ফোনও বন্ধ।

আজ শর্ট ফিল্ম পুরষ্কার ঘোষণা হয়েছে।সেরা ফিল্ম জিতেছে "পতাকা",পরিচালক রিশাদ খান এবং আনভীর রায়হান।আমি গিয়ে পুরষ্কার গ্রহণ করলাম।মঞ্চে প্রচন্ড মিস করছিলাম রিশাদকে।

সন্ধ্যার আড্ডায় সবাই যখন অভিনন্দন জানাচ্ছিলো তখন
কিছুক্ষণের জন্য কষ্ট আর চোখের জল আড়াল করে হাসলাম এই ভেবে রিশাদ আজ জয়ী।

রিশাদের কথা উঠতেই আমাদের উপর দিয়ে হাহাকার বয়ে গেল।কাদলাম না ,রিশাদ কাদতে মানা করেছিলো।তবু কেন যেন চোখ ভিজে গেল।

কয়েক বছর পর একটা ডকুমেন্টারীর কাজে চিটাগাং স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় আছি।ক্যামেরা অন করে শটটা কেমন আসে একটু আচ করার চেষ্টা করছি।পাগল বেশের এক লোক ক্যামেরার সামনে দাড়িয়ে পড়লো। এসিস্ট্যান্টদের চেচামেচির পরও সরছে না।আমি তাকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে যেন জীবনের কঠিন বাস্তবতা আবিষ্কার করলাম।তার ভয়েসটা অবিকল রিশাদের মতো।মুখে লম্বা দাড়ির কারণে ঠিক চেনা যাচ্ছেনা।কথাবারতার মধ্যে অসামঞ্জস্যতা।তাকে নিয়ে আমি ঢাকা ফিরতে চাইলাম। এ প্রসঙ্গ আসতেই কথা নেই বার্তা নেই ছুট দিল।বেশ কয়েকদিন খোজেও আর তাকে পাওয়া যায়নি।

এখন ট্রেনে করে ফিরছি আর ভাবছি রিশাদকে ধরে রাখতে পারলামনা।এতো কাছে থেকেও সে চলে গেছে বহুদূর।আর তার ক্যামেরায় ক্লিক দেয়া হবেনা ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×