ভ্যাজাল খাবারে বাজার সয়লাব। যে খাবারই খেতে চান, শাক-সব্জি, দুধ-ডিম থেকে শুরু করে মাছ-মাংস, তরিতরকারী, মসলা কোথায় নাই ভ্যাজাল? মরিচ-হলুদের মধ্যে ইট-পাটকেল বা চালের গুড়া দিলে তেমন ক্ষতি নাই, ক্ষতি তখনই হবে যখন এগুলোতে বিষাক্ত রং বা অন্য কোন উপকরণ দেয়া হবে। আজ আমি পাঠকদের একটা ভ্যাজাল খাবার দেব, যে খাবার খেলে সব ভেজাল থেকে মুক্ত থাকবেন ইনশ-আল্লাহ!!
আমার এ ভ্যাজাল খাবার খেতে হলে আপনাকে বেশ কষ্ট করতে হবে, প্রথমে যেতে হবে সোনার গাঁ, ওখানে বেশ কয়েকজন মৌ-চাষী আছেন, ওনাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে খাঁটি মধু (প্রাকৃতিক মধু পেলে আরও ভালো)। এর পর যেতে হবে ফরিদপুরের জাজিরায়, ওখানে পাবেন ভালো দানাদার কালোজিরা। একটু বলে রাখি, অন্য কোথাও থেকে এগুলো সংগ্রহ করার চেষ্টা করবেন না, রং মার্কা মিক্সড কালোজিরা ধরিয়ে দেবে। কালোজিরা ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে গুড়া করে একটা পাত্রে রেখে দিতে হবে।
ভ্যাজাল বানানোর নিয়মঃ এবারে সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস গরম পানির সাথে ২/৩ চামচ মধু (যার যতটুকু খাওয়ার সামর্থ আছে, বয়ষ্ক হলে আরও বেশী, কম হলে কম) এবং সিকি চামচ কালো জিরার গুড়া মেশাবেন। ব্যস্ তৈরী শেষ। এবার ভ্যাজাল টুকু খেয়ে ফেলুন, এরপর পেট পুরে পানি পান করুন। দেখবেন সারাদিনটাই আপনার ফুরফুরে আমেজে কাটবে। কোন ক্লান্তি থাকবে না।
উপকারিতা! ‘মধু’তে আছে এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ক্যানসার সহ দূরারোগ্য ব্যাধি প্রতিরোধক। এছাড়াও মধুর আরও অনেক গুণ আছে। ‘কালোজিরা’ মৃত্যু ছাড়া সব রকম রোগ প্রতিরোধ করে। এটা হাদিছের কথা। পানি আপনার পেটের সব ময়লা ধুয়ে পরিষ্কার করে দেবে। যেহেতু ভ্যাজাল খাবার চেনা সম্ভব নয় সেহেতু এটুকু কষ্ট করেই দেখেন না। ভ্যাজালযুক্ত খাবার খেয়ে কিছুটা হলেও ভ্যাজাল মুক্ত থাকবেন বলে আশা করছি।
বিঃদ্রঃ কালোজিরা গুড়া করা সম্ভব না হলে-
ভালো করে হাত ধুয়ে হাতের তালুতে মধু নিয়ে তাতে সামান্য কালোজিরার ভ্যাজাল মিশিয়ে চিবিয়ে খেয়ে কয়েক গ্লাস পানি পান করলেও চলবে।
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।
কে এম মিজানুর রহমান মানিক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


