আমার মিষ্টি সোনা ৩য় বারের মতো স্কুলে একাডেমিক প্রথম পুরস্কার পেয়েছে । এর জন্য ও খুব গর্ব বোধ করছে, গর্বিত আ মিও। কিন্তু আমার এই সোনাপাখীটা একটু ফাঁকি বাজ।এই জন্য ওকে নিয়ে চিন্তা থেকেই যায়, না জানি কি হয়?একবার ক্লাসে ওকে বাংলা রচনা লিখতে দিয়েছে, ”বর্ষার দিনে তোমার অভিজ্ঞতা”। মিষ্টি বাবু সুন্দর লিখেছে, “বর্ষার দিনে আমার ওই রকম লাগে।“ শিক্ষক ওর বড় বোন টুনু পাখীকে দেখিয়ে বলে দেখো তোমার বোন কি লিখেছে। এই কথা শুনে অশোক আমাকে রীতিমতো বকা। তুমি কেমন পড়াও?তোমার মেয়ে বাংলায় ফেল করবে। আমি কি করে বুঝায় আমার মিষ্টি আমার কাছে পড়তে এলে তার প্রথম কাজ আমার কোলেরে উপর বসে গলা জড়িয়ে ধরে বলা-” জান মা মিস বলেছে আমি বাংলায় অনেক ভালো হয়ে গয়েছি”। এবার বাংলা তে প্রথম সেকশনে ৩টা বড় প্রশ্ন আসবে আমি ২টা পড়ে গিয়েছি। ২ টাই কমন পেয়েছি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কয়টা লিখতে হবে? ও বল্লো ঐ জন্যই তো thanks god আমি ২ টাই কমন পেয়েছি। আমি শুনে বলি তুমি তো বাবু ফেল করে বসবে। ও আত্মপ্রত্যয় নিয়ে বলে না মা আমি ফেল করবো না মিস বলেছে আমি ফরটি নাইন (৪৯) পাবো।এ রকম গল্প দিয়েই তারপরে চোখে জল। হ্যা ২ দিন ছুটিতে আসি, তার মধ্যে পড়া? আমি তো একটুও বিশ্রাম পাই না।আমারও মনটা নরম হয়ে যায়। ঐ দিনের মতো পড়া শেষ। এসব কথা তো অশোক জানে না। বলে এবার এলে ICSE সিলেবাস শেষ করে একেবারে বরিভিশন দিয়ে পাঠাবা্ । আমি বলি ও কি ভুল লিখেছে বলো তো? ও কি করে জানবে বর্ষার দিনে ওর কেমন লাগে। আমাদের স্বয়ং রবি ঠাকুরও তো বলতে পারেন নি , তার কেমন লাগে. অশোক বলে মানে? মানে তিনি বলেছেন-
”এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়
…………………………..
………………………….
সে কথা আজি যেন বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়।।”
কিন্তু কি কথা বলা যায় তাকি তিনি বলতে পেরেছেন? পারেন নি। কেউ বলতে পারে না। বর্ষার দিনে তার প্রাণে কি যেন আকুলি বিকুলি করে। কি কথা থাকে তাহার সনে? বলতে চায় কিন্তু বলতে পারে না। অশোকের প্রশ্ন তোমার মেয়ে কি তা বলে রবীন্দ্রনাথ হবে? হতেও তো পারে, হলো না সে রবীন্দ্র নাথ। কিন্তু-
মনের মাধুরি মিশাবে
মনের নানান কথা
নানাছলে বলবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


