somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেরী বনাম জড়িনা

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উন্নত বিশ্বের একটা গণ্প বলি। গল্পের মেয়েটির নাম জানি না। মনে করে নিই তার নাম জেরী।

জেরী একটা হোমে বড় হয়েছে। এখন সে একা থাকে। তার শৈশব , কৈশর পার হয়েছে হোমে, সিস্টার রা তাকে কিশোরী করেছে।

জেরী তার বাবার নাম বলতে পারে না। সে তার বাড়ী কোথায় জানে না।সে জানে না যে সবার বাবা থাকতে হয় কি না।

জেরীর মাও বলতে পারে না কে জেরীর বাবা। জেরীর মা কিশোরী বয়সে যখন এস্কারসনে যায় তখন জেরী গর্ভে আসে। তার পক্ষে জেরীর বাবা কে আইডেন্টিফাই করা সম্ভব হয় নি।
জেরী জানে সে এক কিশোরী মায়ের সন্তান। হোমের রেজিষ্টারে তার মায়ের নামটা লেখা আছে। তাই সে মায়ের নাম বলতে পারে।

জেরী তার মায়ের চেহারা মনে করতে পারে না। কারণ হোমে যখন ওর ১৩ বছর বয়স, তখন একজন মহিলা তার বয় ফ্রেন্ডের সাথে অনেক চকলেট, পুতুল আর জামা কাপড় নিয়ে জেরীকে দেখতে এসেছিল, সিস্টার রা জেরীকে ডেকে বলেছিল, “উনি তোমার মা।” তাই জেরী একবার তার মাকে দেখেছে।

জেরীর বয়স এখন বিশ বছর।সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। দিন দিন তার শরীর থেকে পেটটা বড় হয়ে যাচ্ছে। সে বুঝতে পারছে অনাগত ভবিষ্যত আসছে। কিন্তু জেরী ও তো জানে না কে তার সন্তানের বাবা?

জেরীর বুঝ হলো যদি তার সন্তান সাদা হয় তবে তার বাবা হবে এক্স দেশীয় আর যদি তার গায়ের রং কালো হয়, তবে তার বাবা হবে ওয়াই দেশীয়।

কিন্তু জেরী ভেবে নিয়েছে সে একাই তার সন্তানকে বড় করবে। হোমে তাকে দেবে না। জেরীর মা যে পুতুল এনেছিল, তার থেকে একটা পুতুল জেরী আজও রেখে দিয়েছে, তার সন্তানকে দেবে আর বলবে, ”তোমার দিদিমা তোমার জন্যে দিয়ে গেছে, যাকে আমি জীবনে একবার দেখেছি।”

এখন বলি, আমার দেশের জড়িনার কথা। জড়িনার বাবা তাকে ফেলে গেছে। মা তাকে এতিমখানায় দিয়েছে। মা একটা ক্লিনিকে আয়ার কাজ করে। প্রতি মাসে এক প্যাকেট চিপস আর নোনতা বিস্কুট নিয়ে ওকে দেখে আসে। এতিম খানার রেজিস্টারে ওর বাবার নাম আছে হিরু মিয়া।

এখন ধরে নিই জড়িনার মা আকলিমা কোন একটা দুর্ঘটনায় মারা গেল।তাহলে এতিম খানার রেজিষ্টারে ওর বাবর নাম থাকবে হিরু মিয়া আর মায়ের নাম আকলিমা। একটা ঠিকানাও থাকবে আর থাকবে চিপস্ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ওর স্মৃতিতে ওর মায়ের মুখ খানা
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অশনি সংকেত

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০


কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ অপ্রতিম নামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি জঙ্গল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০১



এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

কিছু জায়গা শুধু জায়গা নয়—সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের জীবনের একটি সময়, কিছু মানুষ, কিছু অভ্যাস আর অসংখ্য ছোট ছোট স্মৃতি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×