আমার জীবনে শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন ধাপে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। যারা আমার জীবনকে আলোকিত করেছেন, হাত ধরে সঠিক পথে চলতে শিখিয়েছেন, আজ তাদের গভীর শ্রদ্ধার সংগে স্মরণ করছি।
সকল শিক্ষকের মধ্যে আজ একজন মহিয়সী বিদূষী মহিলারে কথা তুলে ধরবো, যার সান্নিধ্য না পেলে আমার জীবন ধারা এতদিন থেমে যেত অথবা অন্যদিকে বাঁক নিত।
তিনি হলেন আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জনাবা রাশিদা হাসনু আরা। সকলের বেলু আপা। মৃদুভাষী, নিষ্ঠাবতী, স্বাধীনতা প্রেমিক একজন আদর্শ্ শিক্ষিকা।
এসএসসি পরীক্ষার পর যখন আমার বাবা মারা যান তখন আমরা বড় অসহায়।দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার ভয়ে যখন সকল আত্মীয়রা এক এক করে দূরে সরে গেল তখন যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি এই মহীয়সী নারী।
আমার গৃহিনী মা যখন দিশেহারা, তখন এই আপা এসে মাকে বললেন,” মেয়েদের তো যেখানে সেখানে(আমার কথা) কাজে পাঠনো যায় না। প্রস্তাব আসবে অনেক কিন্তু ভাবনা চিন্তা করে দিতে হবে। আবার আমার অর্থ নৈতিক অবস্থা এমন ভালো না যে আমি সাহায্য করতে পারবো। তা্র চেয়ে আমার একটা ছেলে আছে তাকে যদিগ আপনি পড়াবার অনুমতি দেন তবে সেই উছিলাং আমি একটু সহযোগিতা করতে পারি।”
আমর মা রাজী হয়ে গেলেন।। শুরু হলো আমার টিউশনি জীবন। প্রথম ছাত্র সাগর। মাসিক বেতন ৬০ টাকা। আজকের দিনে খুবই নগন্য।কিন্তু ওটা ছিল আমার জীবনের পাথেয়। আর আমার চোখ খুলে দিল, আপার এক কথায়,”মেয়েদের তো সব যেখানে সেখানে কাজে পাঠানো যায় না।”
তিনি সারা জীবনে আমার অভিভাবকের ভুমিকা পালন করেছেন।না খেয়ে পড়াতে গেলে মুখ দেখে বুঝে নিয়েছেন। ঈদ আর শবে বরাতের দিন পথ চেয়ে বসে থেকেছেন্। পূজাতে নতুন কাপড় হলো কিনা তার খোঁজ করেছেন।আর মনের ভিতরে সাংস্কৃতিক বোধকে জাগিয়ে তুলেছেন।
আজ আমার সকল শিক্ষককে জানাই আমার শ্রদ্ধাভরা প্রণাম। যারা আজ এ জগত ছেড়ে চলে গেছেন তারা যেন স্বর্গীয় সুখ আর শান্তি পান । আর যারা বেলু আপার মতো বেঁচে আছেন ঈশ্বর তাদের সুস্থতা আর দীর্ঘ জীবন দন করুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


