আমি কখনও সক্রিয় রাজনীতির সংগে জড়ীত নই। মিছিলও খুব একটা করতে হয় নি। পড়েছি সব সরকারী প্রতিষ্ঠান। আর কিছু বৃত্তি পাওয়ায় খুব কম খরচে পড়েছি। এক কথায় বিনা পয়সায়
কলেজে যখন দেখতাম সহপাঠিরা(তারা কলেজে যেয়েই রাজনীতির খাতায় নাম লিখিয়েছিল) ক্লাশ না করে করিডোরে মিছিল নিয়ে বের হচ্ছে, তার মানে ঐ দিন আর ক্লাশ হবে না, নিশ্চিত হয়ে যেত। আমিও তাই পেটের ধান্দায় বের হয়ে পড়তাম।
স্কুলে যখন শেষের দিকে, ক্লাম টেনে হবে মনে হয়। জিয়াউর রহমানের শাসনকালের শেষের দিকে। একদিন কলেজ শাখার ছাত্রলীগের বড় ভাই রা এসে বললো, আর ক্লাশ চলবে না, আমাদের সকলকে মিছিলে যেত হবে। আমি ভীষণ ভয় পেলাম। আমি জানি মিছিল মানে্ গুলি বর্ষন। আর তা করবে পুলিশরা। আমি পৃলিশকে বড় ভয় পেতাম। মনে হতো ওরা পুথক কোন জন্তু।কিন্তু পালাবার কোন পথ নেই। তাই বাধ্য হয়ে মিছিলে যেতে হলো। হাতে কোন প্লাকার্ড, পোষ্টার, ফেস্টুন ছিল না। মুখে কেবল শ্লোগান। একটা শ্লোগান ঐ সময় কিশোরী মনকে খুব আলোড়িত করেছিল। তা হলো” পুলিশ তুমি যতই বাড়, মাইনে তোমারর ১১২।” এই শ্লোগান দিয়ে ছাত্র মিছিলে পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।
আমি নিজে মিছিল না করলেও মিছিল আমি ভালোবাসি। প্রতিবাদ জানাতে আমি ভালোবাসি।
মিছিলের শ্লোগানে নিজেকে প্রতিস্থাপিত করে অন্যায় আর জুলুমের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে আমি এখনও জোড় সমর্থন জানাই।
কিন্তু সে সব জনমত গড়ে তুলতে হবে খুব সতর্কে। জনমত যেন নিজেদের আচরনে বিভক্ত না হয়ে যায় তাহলে গোটা আন্দোলন মাঠে মারা যাবে।
আগের দিনের পোষ্টারের ভাষা জীবন বোধকে বাড়িয়ে দিত। এর ঝংকার জীবনের উন্মাদনাকে রাস্তায় নিয়ে আসতো্।মনের অজান্তে একটা প্রতিবাদের ঝড় অনুরনিত হতো অনন্ত যৌবনে।
আজও একটা শ্লোগান তথা পোস্টারের ভাষা আমার দেহ মনে ছন্দ তুলে। জীবনকে গতি দেয়। বলে ওঠো, বাঁচো।আর তা হলো, “লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই।”
সেই সব দিনে পোস্টার লেখা ছিল একটা আর্ট, শিল্পবোধ, জীবনবোধ। যাদের হাতের লেখা ভালো তারা রাতভোর জেগে জেগে পোস্টার লিখে চলতো। আর একদল মননশীল গোষ্ঠী এই শ্লোগানের ভাষা দিত।চলতো একটা দলের কর্ম যজ্ঞ। তার জন্য ছিল আলাদা কাগজ কালি, সব মিলেয়ে ছিল একটা রুচিশীল চর্চা।
আর আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের মাথা থেকে কি বেড়িয়েছে? অরুচি, কুরুচি, রাষ্ট্রের প্রতি অশ্রদ্ধা । যেখানে না আছে হাতের লেখার কলা কৌশল, কাগজের মান, কালির সৌন্দর্য় আর মেধা মননের স্বাক্ষর। এরা হবে ভবিণ্যতে দেশ এবং জাতির শিক্ষিত কান্ডারী?


সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



