বাংলা নববর্ষ বাঙালীর এক আত্মপরিচয় ।
অথচ এই আত্মপরিচয় কিন্ত আমরা ভূলতে বসেছি ।
আজ ভোরে ব্যক্তিগত এক কাজে রাজশাহী এসেছি । দুদিন থকার ইচ্ছা আছে এখানে ।
সারাদিন ঘুরে ঘুরে শহরে এবং বিশ্ববিদ্যালয় নানা এলাকায় নববর্ষ উদযাপন দেখলাম । যতটা আনন্দ পাওয়ার কথা ছিলো পাইনি বরং কষ্ট পেয়েছি অনেকটাই ।
প্রায় অনেক জায়গাতে দেখলাম দেশের সব মোবাইল কোম্পানিগুলো সিম কার্ড বিক্রি করছে, কিছু কোম্পানি হ্যান্ড সেট বিক্রি করছে, ব্যান্ড সংগীত হচ্ছে সবখানে এমন কি প্যান্ট এবং সার্ট পিচ ও বিক্রি হচ্ছে দেদারছে আর পানতা ভাত এবং লাল সাদা পোশাক তো আছেই, শুধু ইলিশই চোখে পরল না বোধ হয় দাম এর কারণে।
বেশি কষ্ট পেয়েছি, যখন দেখলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও একই জিনিষের বেচাকেনা হচ্ছে, পুলিশ ভাইরা ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রক এবং সকল মূল প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিয়ে মানুষের আসা যাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে, এই প্রচন্ড গরমে মানুষের কি ভোগান্তি তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না । মনে হলো এটা একটা আধুনিক বাজার, পড়ালেখা করার জায়গা এটা না ।
কিন্তু যে কথাটা দিয়ে শুরু করতে চাচ্ছিলাম.................
এই কি আমাদের বষর্বরণ বা পহেলা বৈশাখ ?
প্রশ্নটা বোধ করি অনেকেরই মনে জাগতে পারে ?
বাঙালী জাতীর আত্মপরিচয়ের সমস্ত উপাদান এবং প্রকরণ একমাত্র পল্লী জীবনেই খুজে পাওয়া যায়, যাতে রয়েছে বাঙালীর নিজস্ব দৃষ্টি এবং চেতনা ।
আর এ উৎসবটাও ছিলো একমাত্র পল্লী বাঙালীর, শহুরে বাঙালীর ততটা না ।
যখন ছিলো গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, মনে ছিলো অফুরন্ত শান্তি, নতুন ধানের ঘ্রাণ পল্লী জীবনে মাদকতা আনতো, নতুন পোশাক পরে সেই মাদকতার আনন্দ গ্রাম, শহর, দেশ ভরিয়ে দিত ।
কিন্তু আজ ?
আজ কি আমরা একই রকম পহেলা বৈশাখী উৎসব পালন করতে পারছি, শহরে এবং গ্রামে একই রকম পহেলা বৈশাখ ।
আপনারা হয়তো বলবেন, কি আছে তাতে, মানুষতো আনন্দ করছেই ।
কিন্তু ,আমি বলবো এটা ঠিক না -
নিজের ইতিহাস, জাতিস্বত্তাকে নষ্ট হতে দেয়া উচিত না ।
যেখানে আজ পল্লীর জীবন দুবেলা খেতে পায়না, বেচে থাকার লড়াই, ভাত কাপড়ের লড়াই, চিকিৎসার লড়াই, ভাষার লড়াই, বাসস্হানের লড়াই পল্লীর জীবনকে পঙ্গু করে ফেলছে, সেখানে উৎসবটা হয় কি করে ?
অথচ আজ পাশাপাশি এই শহরেই আমরা কি করছি ? ইংরেজী তারিখ দিয়ে বাংলা সন গনণা করছি । হিন্দী, বাংলা, ইংলিশ মিলে উম্মাদনায় মেতে উঠছি ।
সকল শ্রেণীর মানুষের সময়ের দাবীতে যা আমাদেরকে মানায় না তা আমরা কেনো করছি বরং প্রকট ভাবে ফুটে উঠছে অসামন্জস্যতা, কেনো ভাবছি না যে ভাবে করলে আনন্দটা ভাগাভাগি হবে সমান ভাবে, সবার আপন মনে হবে - ঠিক সেই ভাবেই করি।
আমি যেহেতু একজন বাঙালী তাই বাঙালীর সকল উৎসবের পক্ষের একজন মানুষ, আমি এর বিরোধীতা করছি না শুধু বলতা চাই, আসুন না একটু চিন্তা করি ,কি ভাবে সবাই মিলে সমান ভাবে এই আনন্দটা ভোগ করতে পারি ।
কোনটা চাই, যেটা প্রকট বেমানান লাগবে গোটা জাতীকে দেখতে সেটা ? নাকি যেটার ভালোবাসা সবার হ্নদয় ছুয়ে যাবে, গোটা জাতীকে গেথে দিবে এক সূরে, সেটা ?
বির্তক থাকতেই পারে.... কিন্তু চিন্তাটা আমাদেরই করতে হবে..
দেখা হবে বন্ধু ..... কোন এক শুভক্ষণে....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


