somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ না 14th April ?

১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলা নববর্ষ বাঙালীর এক আত্মপরিচয় ।
অথচ এই আত্মপরিচয় কিন্ত আমরা ভূলতে বসেছি ।

আজ ভোরে ব্যক্তিগত এক কাজে রাজশাহী এসেছি । দুদিন থকার ইচ্ছা আছে এখানে ।
সারাদিন ঘুরে ঘুরে শহরে এবং বিশ্ববিদ্যালয় নানা এলাকায় নববর্ষ উদযাপন দেখলাম । যতটা আনন্দ পাওয়ার কথা ছিলো পাইনি বরং কষ্ট পেয়েছি অনেকটাই ।
প্রায় অনেক জায়গাতে দেখলাম দেশের সব মোবাইল কোম্পানিগুলো সিম কার্ড বিক্রি করছে, কিছু কোম্পানি হ্যান্ড সেট বিক্রি করছে, ব্যান্ড সংগীত হচ্ছে সবখানে এমন কি প্যান্ট এবং সার্ট পিচ ও বিক্রি হচ্ছে দেদারছে আর পানতা ভাত এবং লাল সাদা পোশাক তো আছেই, শুধু ইলিশই চোখে পরল না বোধ হয় দাম এর কারণে।
বেশি কষ্ট পেয়েছি, যখন দেখলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও একই জিনিষের বেচাকেনা হচ্ছে, পুলিশ ভাইরা ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রক এবং সকল মূল প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিয়ে মানুষের আসা যাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে, এই প্রচন্ড গরমে মানুষের কি ভোগান্তি তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না । মনে হলো এটা একটা আধুনিক বাজার, পড়ালেখা করার জায়গা এটা না ।

কিন্তু যে কথাটা দিয়ে শুরু করতে চাচ্ছিলাম.................
এই কি আমাদের বষর্বরণ বা পহেলা বৈশাখ ?
প্রশ্নটা বোধ করি অনেকেরই মনে জাগতে পারে ?

বাঙালী জাতীর আত্মপরিচয়ের সমস্ত উপাদান এবং প্রকরণ একমাত্র পল্লী জীবনেই খুজে পাওয়া যায়, যাতে রয়েছে বাঙালীর নিজস্ব দৃষ্টি এবং চেতনা ।
আর এ উৎসবটাও ছিলো একমাত্র পল্লী বাঙালীর, শহুরে বাঙালীর ততটা না ।
যখন ছিলো গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, মনে ছিলো অফুরন্ত শান্তি, নতুন ধানের ঘ্রাণ পল্লী জীবনে মাদকতা আনতো, নতুন পোশাক পরে সেই মাদকতার আনন্দ গ্রাম, শহর, দেশ ভরিয়ে দিত ।

কিন্তু আজ ?
আজ কি আমরা একই রকম পহেলা বৈশাখী উৎসব পালন করতে পারছি, শহরে এবং গ্রামে একই রকম পহেলা বৈশাখ ।
আপনারা হয়তো বলবেন, কি আছে তাতে, মানুষতো আনন্দ করছেই ।
কিন্তু ,আমি বলবো এটা ঠিক না -

নিজের ইতিহাস, জাতিস্বত্তাকে নষ্ট হতে দেয়া উচিত না ।

যেখানে আজ পল্লীর জীবন দুবেলা খেতে পায়না, বেচে থাকার লড়াই, ভাত কাপড়ের লড়াই, চিকিৎসার লড়াই, ভাষার লড়াই, বাসস্হানের লড়াই পল্লীর জীবনকে পঙ্গু করে ফেলছে, সেখানে উৎসবটা হয় কি করে ?
অথচ আজ পাশাপাশি এই শহরেই আমরা কি করছি ? ইংরেজী তারিখ দিয়ে বাংলা সন গনণা করছি । হিন্দী, বাংলা, ইংলিশ মিলে উম্মাদনায় মেতে উঠছি ।

সকল শ্রেণীর মানুষের সময়ের দাবীতে যা আমাদেরকে মানায় না তা আমরা কেনো করছি বরং প্রকট ভাবে ফুটে উঠছে অসামন্জস্যতা, কেনো ভাবছি না যে ভাবে করলে আনন্দটা ভাগাভাগি হবে সমান ভাবে, সবার আপন মনে হবে - ঠিক সেই ভাবেই করি।

আমি যেহেতু একজন বাঙালী তাই বাঙালীর সকল উৎসবের পক্ষের একজন মানুষ, আমি এর বিরোধীতা করছি না শুধু বলতা চাই, আসুন না একটু চিন্তা করি ,কি ভাবে সবাই মিলে সমান ভাবে এই আনন্দটা ভোগ করতে পারি ।
কোনটা চাই, যেটা প্রকট বেমানান লাগবে গোটা জাতীকে দেখতে সেটা ? নাকি যেটার ভালোবাসা সবার হ্নদয় ছুয়ে যাবে, গোটা জাতীকে গেথে দিবে এক সূরে, সেটা ?
বির্তক থাকতেই পারে.... কিন্তু চিন্তাটা আমাদেরই করতে হবে..

দেখা হবে বন্ধু ..... কোন এক শুভক্ষণে....
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×