একদম ব্যক্তিগত কাজে গতকাল রাত ২ টার সময় রাজশাহী এসেছি ।
বেশ বেলা করে ঘুম থেকে উঠি । তারপর এদিক ওদিক কিছু ব্যক্তিগত কাজ সেরে সন্ধ্যায় বেড়াতে গেলাম এক পরিচিত জনের বাসায় ।
অনেক দিন পর যাওয়া তাই সাথে কিছু মিষ্ঠি জাতীয় খাদ্য নিয়ে যাই, সাথে ছিল দই । রাজশাহীর মিষ্ঠান্ন ভান্ডার থেকে কিনা। এটি এখানকার বেশ বিখ্যাত মিষ্ঠির দোকান ।
বাড়ির কর্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা আর বাড়ির কর্তা অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারী কলেজের প্রিন্সিপাল । দুজনেই অসম্ভব ভালো মনের মানুষ এবং বেশ সাংস্কৃতিমনা । কিন্তু এই সাদা মনের মানুষ দুটির পরিবারটি তেমন সচ্ছল না, পুরো পরিবারটি একমাত্র ছেলের স্বল্প আয়ের উপর নির্ভরশীল । কিন্তু কোথাও কষ্ঠের এক বিন্দু ছাপ দেখা যায় না । এ দেশে এরকম খুব বেশী চোখে পড়েনা ।
তারপর যথারীতি বাসায় উপস্হিত হয়ে কুশল বিনিময় এবং এক পর্যায়ে নাস্তার আমন্ত্রণ । শুর থেকে দেখলাম শুধু দুজন মানুষ কিছুই খেলেন না, এমন কি এই গরমে দই টাও না ।
অ্যাপায়নের শেষে জানতে চাইলাম, আপনারা তো কিছুই খেলেন না ।
বাড়ির কর্ত্রী চোখ একটু অন্যত্র সরিয়ে নরম সুরে বলে উঠলেন, উনি দুধ জাতীয় কোনো খাবার খেতে পারেন না, তাই গত ১১ বছর হলো আমি ওই সব খাবার খাই না।
কর্তাও কিছুটা অপরাধীর মত আবেগের সুরে বললেন আমি তাকে খেতে বলেছি কিন্তু কেনো যে সে খায়না ?
হয়তো জানেন এ ঋণ কোনোদিন পরিশোধ করা যাবে না ।
মনে হলো ভালোবাসা সত্যিই মানুষের জন্যে, এ কঠিন মধুর রসবোধ মনে হয় এ ভাবে আর কেউ উপভোগ করতে পারেনা ।
ভালোবাসা মানুষকে কি না দিতে পারে !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


