somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সব বাবারা দেখতে এক রকম!

১৭ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগের এই মজা, নিজের আবেগ ইচ্ছে মতো প্রকাশ করা যায়। কষ্টগুলো লিখে দেখি কমানো যায় কিনা!

সেদিন মা দিবস নিয়ে লেখা প্রজাপতির একটি ব্লগ পড়ে খুব চমকে উঠেছিলাম! আসলে প্রজাপতির নয়, ওনার মা'র লেখা চিঠি পড়ে। খুব ছোটবেলায় আমি হোস্টেলে ছিলাম, তখন বাসা থেকে প্রচুর চিঠি পেতাম, মা, বাবা, ভাই বোন, আত্মীয় স্বজন সবাই লিখতেন(চিঠি পাবার অনেক রের্কড করে ফেলেছিলাম সেই সময়), মার চিঠি থাকতো সব চেয়ে বেশী। প্রজাপতির মার চিঠির অংশের সাথে অদ্ভুত মিল আমার মায়ের কিছু চিঠির, এই চিঠি পড়ে একটু ঘোরের মতো হয়েছিলো বোধহয়, তা নাহলে কেন মনে হবে, "আমার কোন চিঠি কি কারো হাতে গেছে!" কয়েক মুহূর্তের জন্য মাথায় ছিলোনা, আরেকজন তার মা'র চিঠির কথা বলছেন।

আমার মা'র চিঠি তে মাঝে মাঝে এমন গভীর আবেগের কথা থাকতো তবে বাবা'র চিঠি একটু অন্য রকম হতো! সরাসরি আবেগের প্রকাশ ছিলো খুব কম। বাসার সবার কাছে শুনেছি, আমি চলে গেলে বাবা প্রায় ই বারান্দায় বসে থাকতেন, অন্ধকারে একা। আলো জালাতেন না, হয়তো তাঁর আবেগ কাউকে দেখাতে চাননি বলে।



বাবার একটি চিঠি পেয়ে খুব কেঁদেছিলাম মনে আছে। খুব সাধারন কথা, তেমন কষ্টের কিছুনা তবে মনে আছে সেদিন সারাদিন কেঁদেছিলাম চিঠিটি পেয়ে! বাবা লিখেছিলেন; "মামনি, এখন খুব ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে, প্রায়ই হয় ইদানিং, তোমার জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে। আমার ছোট মা তো বিদ্যুত চমকালে আর মেঘের শব্দ শুনে খুব ভয় পায়, মামনি একা একা কি করছে! ঝড় হলে ভয় পেও না মা আমার।"

খুব সাধারন কথা তাই পড়ে আমি সারাদিন কেঁদেছিলাম, তার পরেও যতবার পড়েছি ততবার। এমন ই জিবন! তার অনেক দিন পর আমার বাবা কে যখন কবরে শুয়ে দিয়ে সবাই বাসায় ফিরেছে, সাথে সাথে চারিদিক কাঁপিয়ে ঝড়, বৃষ্টি। বিদ্যুতের ঝলক আর মেঘের গর্জনে চারিদিক তোলপাড়, আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছিলো সেদিন! ফজরের সময় বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, সারা দিন আমি একটুও কাঁদিনি। আমার সদ্য বিধবা মা নিজের শোকের মাঝে আমাকে নিয়ে ভিষন ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। আমি খুব স্বাভাবিক মানুষের মতো আচরন করছিলাম, সেদিন যা ছিলো বড় বেশী অস্বাভাবিক! সন্ধ্যায় সবাই বাসায় ফেরার সাথে সাথেই শুরু হওয়া সেই ঝড়ে কি যে ছিলো, আমার সংযম শেষ হয়ে গেলো, পাগলের মতো কাঁদতে শুরু করেছিলাম। আমার যে বাবা মেঘ ডাকলে আমার জন্য এমন মন খারাপ করতেন, তিনি এখন মাটির নিচে অন্ধকারে একা! মনে মনে কতোবার বলেছি তখন, "বাবা আমি খুব ভয় পাচ্ছি, তুমি এক বার এসো Please বাবা"!


তারপর এমন হলো, মধ্যবয়ষ্ক কাউকে দেখলে বাবার কথা মনে পড়ে যেতো, ওনাদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতাম। আমি তখন ইন্টার্নশীপ করছি, রুগীদের তো এড়িয়ে চলা যায়না! আমাদের দেশের বাবারা এতো ভালো, এতো সুন্দর করে কথা বলেন ওনারা! কেউ যখন বলতেন "মা, আপনি আজ কেমন আছেন?" " মা, আপনার মন আজকে খারাপ মনে হয়?" আমি একটু হেসে কোন রকমে ডক্টর'স রুমে চলে যেতাম নিজেকে সংবরন করতে। ওনারা কোনদিন জানবেন না, ওনাদের এই স্নেহমাখা কথা আমাকে কি তীব্র কষ্ট দিতো! সেসময় খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম সব বাবারা এক রকম। বিত্তশালী থেকে বিত্তহীন, শিক্ষিত আর নিরক্ষর, সব বাবারা দেখতে এক রকম!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২২
১১৩টি মন্তব্য ৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নানান রকম মানুষ, নানান রকম তাদের ভাবনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:১৫



১। উপরে আল্লাহ্‌ একজন আছেন। আর তিনি সবকিছু দেখছেন এবং শুনছেন। একদিন সব কিছুর উপযুক্ত প্রতিদান দিবেন কর্মফল অনুযায়ী।

২। ফেব্রুয়ারির বই মেলায় ৪০০০/৫০০০ বই বেরুবে। নিজের এক দুইটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সস্তা ভালোবাসা আর বিকৃত মানসিকতা - ১ [প্রেম ভালোবাসার নামে নির্লজ্জতা]

লিখেছেন নীল আকাশ, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৫২



প্রেম, ভালোবাসা নামের এখনকার সম্পর্কগুলো আজকাল খুবই সস্তা, যেন হুটহাট করেই হয়ে যায়। যত্রতত্র প্রথম দেখা, মোবাইলে অপরিচিত কারও হঠাৎ মিস কল, ফেসবুকে কিংবা ম্যাসেঞ্জারে অপরিচিত মেসেজ, এইসব দেখেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখী মানুষ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৩



সকাল নয়টা।
বাসা থেকে বের হয়েছে শাহেদ জামাল। সে বড় রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। তার ইচ্ছা সে আজ যাবে ইজতেমাতে। অনেক ছবি তুলবে। কিন্তু অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পরেও সে কোনো বাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

» শীত ঋতুর ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৩৪

১। শিশির ভেজা শিম ফুল।



প্রতিবছর শীত সিজনে গ্রামে যাওয়া পড়ে। এবার যেতে পারিনি । কারণ বড় ছেলের পরীক্ষা। শীত সিজন এবার মিস করলাম গ্রামের। সকালে ঘর থেকে বের হয়েই সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভোট সমস্যার বদনাম কিভাবে ঘুচবে, সমাধান কিভাবে হবে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫৪



ঢাকার মেয়র ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হবে; তখন শুরু হবে ভোট নিয়ে সমস্যার কথা: ভোট আগেই বাক্সে ঢুকানো হয়েছে, অন্যেরা সীল মেরেছে, ভোট দিতে দেয়নি, রিপ্রেজেন্টটেটিভদের বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×