"এ্যাডোলেসেন্ট লাভ" এর বাংলা করলে খুব সম্ভবত হয় "কৈশোরের ভালোবাসা" অথবা "কৈশোরের প্রেম"- মানুষের জীবনের অত্যন্ত পরিচিত একটি অধ্যায়।
সকলের ক্ষত্রেই এই অধ্যায় আসবে এমন নয় তবে অনেকে এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। অত্যন্ত সুন্দর কোমল কিছু অনুভূতি, কারো প্রতি প্রচন্ড ভালোলাগা অথচ যার প্রকাশ সেভাবে নেই বললেই চলে- এমনটাই ঘটে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। কেউ কেউ প্রকাশ করলেও লজ্জা বা ইতস্তঃত একটা ভাব থেকে যায়। এক্ষেত্রে আর কিছু হোক হিংস্রতা বা প্রতিশোধপরায়ণতার মতো কঠিন অনুভূতি সাধারনত দেখা যায়না।
হঠাৎ এডোলেসেন্ট লাভ বা কৈশোরের প্রেম নিয়ে ভাবনার কারন একটি সংবাদ।
এই ব্লগে একটি ভিডিও দেখে চমকে যাবার চেয়েও বেশি ক্রোধান্বিত হলাম! দুজন কিশোরী বই হাতে স্কুলে যাচ্ছে এমন সময় এক বখাটে এসে তাঁদের একজনকে এলোপাথারি মারতে থাকে!!!
কতো বড় স্পর্ধা! দিবালোকে এতো জন মানুষের সামনে কি ভীষণ ধৃষ্টতা!
এই অন্যায়ের বিচার চেয়ে পোস্ট দেবার সাথে সাথে দেশে যোগাযোগ করে এর বিচারের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানালাম। উনিশ ঘন্টার কম সময়ে সুসংবাদ পেলাম বখাটে গ্রেফ্তারের। পোস্টে আপডেট লিখতে গিয়ে থমকে যেতে হলো, অপরাধীর বয়স মাত্র ১৫! শুধু তাই নয়, এই কিশোর গ্রাম থেকে শহরে আত্মীয়র বাসায় থেকে পড়াশুনা করতে এসেছে! ছেলেটির মা বাবা নিশ্চয় অনেক স্বপ্ন নিয়ে স্বন্তানকে তাকে পড়তে পাঠিয়েছেন, উন্নততর শিক্ষায় শীক্ষিত হবার জন্য, উন্নত মানুষ হবার জন্য!
এই কিশোরকে কারাগার বা জেলে রেখে নির্যাতন করা বা শাস্তি দেয়ায় কি কোন ইতিবাচক দিক আছে?
ইভ টিজিং এর একটি শাস্তির উদাহরন হবে এটা সত্য তবে সেই সাথে ধ্বংস হয়ে যাবে এই কিশোরের ভবিষ্যত। হয়তো সঠিক পারিবারিক শিক্ষার অভাবে তার এই বখাটেপণা, হয়তো জীবনের কঠোরতারকারনেই তার মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে-- বখাটেপনা বা অসভ্যতাকে সে মনে করেছে নায়কোচিত কাজ।
সে শিক্ষা পায়নি গায়েরজোরে ভালোবাসা আদা করা যায়না, ভালোবসলে সেখানে শুধুমাত্র বিনয়, নম্রতা ও ভদ্রতা ইতিবাচক কোন পরিনতি বয়ে আনতে পারে, কঠোরতা বা ইতরামী নয়। ইভটিজিং এর মতো নোংরমাী কারো মন জয় করতে পারেনা, বরং সৃষ্টি করে বিদ্বেষ!
রুহুল আমিনকে দিয়ে সেই কিশোরীর কাছে আন্তরিক ভাবে ক্ষমা প্রার্থণা করানো জরুরী, সেই সাথে এটাও জরুরী সে বা তার সঙ্গীরা যেন ভবিষ্যতে সেই কিশোরী বা তার পরিবারের প্রতি কোন হুমকির কারন না হয়। জেলের পরিবর্তে কিশৌর সংশোধনালয়ে কিছু সময় কাউন্সেলিং হয়তো অনেক বেশী কার্যকর হবে।
যার কঠিন শাস্তি চেয়ে পোস্ট দিয়েছিলাম তার শাস্তির বিষয়ে এখন এই নমনীয়তার কারন অপরাধীর বয়স। আক্রান্ত কিশোরীকে সুবিচার পাইয়ে দিতে যেমন প্রয়োজন ছিলো আমাদের সকলের সম্নিলিত কন্ঠস্বর তেমনি এই কিশোরকে ভবিষ্যতে আলোর পথ দেখাতে এই নমনীয়তা অপরিহার্য।
বখাটেদের ভবিষ্যতে শাস্তি নিশ্চিত করতে এই কিশোরের শাস্তির চেয়েও জরুরী সেসব নরাধমের শাস্তি যারা প্রচন্ড ঔদ্ধ্যতের সাথে বইমেলা আর পহেলা বৈশাখে শুধু ইভটিজিং নয় বরং নারীর সম্ভ্রমহানীর ধৃষ্টতা দেখায়।
এ এক অদ্ভুত অন্তর্দ্বন্দ!
ভিডিওটির দেখে রুহুল আমীনের প্রতি ঘৃনায় মনে ভরে গেলেও তার বয়সের কথা মনে পড়লে এই সিশিক্ষা বন্চিত কিশোরের অসহায়ত্ব ও সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবটাও প্রকট হয়ে উঠে। তার প্রতি কঠোর শাস্তির চেয়ে সঠিক কাউন্সেলিং এর গুরত্ব অনেক বেশি মনে হয়।
*** রুহুল আমীনের কাজটি অত্যন্ত ঘৃন্য ও নিকৃষ্ট! এই কাজকে সমর্থনের কোন কারন নেই। এধরনের অপরাধে কোন কিশোরের জেল বা মৃত্যুদন্ডের চেয়ে জরিমানা ও কিশোর সংশোধনালয়ে কাউন্সেলিং অনেক বেশি জরুরী ও কার্যকর।***
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


