একটা সাদা কাগজ দিয়ে খেলনা পাখি বানিয়েছিলাম । হঠাৎ কি হল খেলনা পাখিটা জীবন্ত হয়ে উঠল আর গায়ের রঙ হয়ে গেল কালো। আমার হাত থেকে উরে গেল কাছেই কোথাও!
এ নিতান্তই আমার কল্পনা । বাসায় ফিরছিলাম কোন এক ঝিল অথবা ডোবার সামনে দিয়ে।মহিলা সিটের তিন নম্বর সারির একেবারে জানালার পাশে বসেছিলাম।হঠাৎ দেখি একটা কাক ঝিলের উপর দিয়ে উরে যাচ্ছে।এত মসৃণভাবে ডানা ঝাপটাচ্ছিল মনে হচ্ছিল সে বোঝাতে চাচ্ছে সে ঢাকা শহরের সবচাইতে সুন্দর পাখি।আমি কিন্তু তাকে তাই বলেছিলাম তুমিই সুন্দর,সবচাইতে সুন্দর! জয়নুল আবেদিন তোমাকে নিয়ে যেই ছবি একেছে তা কি তুমি দেখেছ!
মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা খুব হাপিয়ে উঠেছি।আমরা বলছি কারন আমার বান্ধবী রুবানাও খুব একটা মোশনের মধ্যে নেই।তার ধারণা তার মুখথেকে হাসি উধাও হয়েগেছে।একটা স্যাডনেস সারাক্ষণ তার চোখে লেগে থাকে। আমি আমাকে প্রশ্ন করি আমি কি আসলেই হাপিয়ে উঠেছি ?
একদিন আমি বুঝেছিলাম আমি আসলে অসুখী না।এত সময় আমার নষ্ট হল,নষ্ট হচ্ছে;তবুও এর ভেতরেই আমি আনন্দে আছি।জীবনানন্দ দাশ যেমনি ভাবে বার বার এই অদ্ভুত পৃথিবীতে ফিরে আসতে চেয়েছে ,ঠিক তেমনি নয় আমার ভাবনা ।
আমি শুধু এই নশ্বর পৃথিবীতে আমার সুখ চেয়েছি।তাই প্রতিদিনই এই আজব শহরটা নতুন করে দেখি।আমি আনন্দ খুজে বেড়াই,আনন্দ কালেক্ট করি , কালেকশন্টা ধরে রাখে আমার মেমরী।
আনন্দ খুজি নতুন বইয়ের পাতার গন্ধে ,বিকেল বেলার কৃশ্নচূড়ার ফুলে ভরা ডাল যেটা রাস্তায় নুয়ে আছে, ভাঙ্গা ভাঙ্গা রাস্তায় অল্প বৃষ্টিতেই যেখানে কাঁদা পানি ওঠে, কোন খাম্বার মাথায় ঝুলন্ত সাইনবোর্ডে, মাংসের দোকানের বিভৎস গন্ধে যেটার সামনে দিয়ে যাবার সময় নাক চেপে ধরি,সূর্য যখন মাথার উপর ওঠে আর তীব্র রোদ ফেলে কোন হাসপাতালের রাস্তার সামনে আর কোন রিক্শার চাকা তার উপর দিয়ে গড়িয়ে যায়,মাঝে মাঝে তীব্র গরমের হট্টগোলে,মাঝে মাঝে ভি আই পি সিগনালে । আমি দুর্ভাগা শহরের মানুষ।এই শহরেই আমার জন্ম হয়ত মরণও এই শহরেই হবে তাই আমার আনন্দের স্থায়ী খোরাক এই সুন্দর শহর।
প্রথমে যেই কাগজের পাখিটার গল্প করছিলাম তা কিন্তু এখনো বাকি আছে।বাসে করে বাড়ি আসার সময় কাওড়ানবাজারের সেই বিখ্যাত ঝর্ণাটার কথাও না ঠিক।সেই লোহা অথবা এলুমিনিয়ামের ঝর্ণার কেন্দ্রে একদিন একটা পাখির বাসা আবিষ্কার করি ।তারপর থেকে ঠিক ঠিক নজর রেখেছি পাখির বাসাটার দিকে।পাখি গুলোর বুদ্ধি দেখে আমিতো অবাক ঝর্ণার কেন্দ্রের ঠিক উপরে নয় একটা ছাউনির মত লোহার বলের নিচে পাখিগুলো বাসা তৈরি করেছে।সেই থেকে যখনই আমার মন বেশি খারাপ অথবা ভাল থাকত আমি সেই পাখিগুলোর বাসা দেখতাম।
একদিন এমনি ঝরের মত বাতাস বইল চারিদিকে তখন ও চিন্তা করিনি বাসাটার কথা।এরপরেরদিন বাসে করে গন্তব্যে যাওয়ার সময় দেখি পাখির বাসাটা নেই হয়তো আমার চোখের ভুল ছিল তাই বাড়ি ফেরার পথে আবার তাকিয়ে দেখলাম ;নাহ্ আসলেই পাখির বাসাটা আর নেই !
আলোচিত ব্লগ
ভাগাভাগি
ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ
এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।
তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন
২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন
এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে মুক্ত হলো স্বদেশ?
কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত তারা?
কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন
তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।