somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শচীন টেন্ডুলকার

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শচীন টেন্ডুলকার ভারতীয়দের কাছে যে কী, সেটা একটা উদাহরণ দিলেই স্পষ্ট হবে।
এক আড্ডায় কথা হচ্ছিল ক্রিকেট নিয়ে। কথা প্রসঙ্গে এলো শোয়েব আখতারের কথা। এবং অবশ্যই কলকাতা টেস্টে তার বিখ্যাত ব্যাক টু ব্যাক ইয়র্কারে রাহুল দ্রাবিড় এবং টেন্ডুলকারের স্ট্...যাম্প এলোমেলো করে দেয়ার কথা।
এক ভারতীয় বন্ধু বলে উঠলো, "রাহুলেরটা জানিনা, তবে শচীন ইচ্ছে করেই আউট হয়েছিল।"
আমার চোয়াল ঝুলে গেল। কয় কী ব্যাটা! ইচ্ছে করে কেউ গোল্ডেন ডাক পাড়ে নাকি?
"শচীন যে মানের ব্যাটসম্যান, ও ইচ্ছে না করলে ওকে শুন্য রানে আউট করা অসম্ভব। ওর ইচ্ছের বিরুদ্ধে ওকে আউট করাটাই অসম্ভব। ওতো সাধারণ ক্রিকেটার না, ও গড!"
কথাটা যদি মূর্খ কোন গ্রাম্য কবিরাজের মুখে শুনতাম, তাহলে অবাক হতাম না। আদিপ একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। কম্পিউটারের জটিল জটিল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ কোড সে মুখে মুখে বলে দিতে পারে। একটা সেমি কোলন পর্যন্ত বাদ যায় না।
এরা টেন্ডুলকারকে মহাভারতের ভীষ্ম পিতামহ বানিয়ে ছেড়েছে। ইচ্ছে ছাড়া যার মৃত্যু নেই!
আমি টেন্ডুলকারের পাড় সমর্থ্যক কখনই ছিলাম না। মূলত ভারতীয় ক্রিকেট দলেরই ভক্ত আমি নই। তাছাড়া ও ছিল আমার প্রিয় ব্যাটসম্যান লারার সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী। শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। আমার দোয়াতে মরলো। আমার দোয়ার জোরেই হয়তোবা টেন্ডুলকার বহুবার নার্ভাস নাইনটিজে আউট হয়েছে। আমি বাজি ধরতে পারি, ও শুন্য রানে আউট হলে, ওকে আউট করা বোলারের চেয়ে আমি আনন্দিত হতাম সবচেয়ে বেশি! ওকে দেখতে না পারার সবচেয়ে বড় কারনটাই ছিল তার ক্ষমতার প্রতি তীব্র ঈর্ষা! আমি দেখতাম কিভাবে নির্দয়, নিষ্ঠুরের মত আমার সব প্রিয় প্রিয় বোলারদের সে তুলোধুনো করতো! সাইদ আনোয়ার, মার্ক ওয়াহ, ব্রায়ান লারা, রিকি পন্টিং - তাঁর প্রতিযোগীরা একে একে ঝরে গেছে, কিন্তু সে টিকে রইলো মাথা উঁচু করে।
তাঁর একটা গুণ সবাইকে অবাক হতে বাধ্য করে। একটি দেশে দেবতার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েও এতো নিয়মানুবর্তি এবং পরিশ্রমী জীবন আমি কোন তারকার মধ্যে দেখিনি। কখনও তাঁকে প্র্যাকটিসে দেরী করে আসতে দেখা যায়না। ঘন্টার পর ঘন্টা প্র্যাকটিস পিচে ব্যাট চালিয়ে যায়। কথার বাড়াবাড়ি কোথাও নেই। কারও প্রতি অশ্রদ্ধা নেই। চল্লিশ বছর বয়সেও শরীরকে ফিট রেখেছে তিরিশ বছর বয়সী এথলেটের মতো। ডেজার্ট ফক্স সেনানায়ক রোমেল যেমন তাঁর শত্রুদেরও শ্রদ্ধা আদায় করে নিতেন, টেন্ডুলকারও তাই। তাঁর শেষ ম্যাচে তাই মাঠে ছুটে যান লারা, ওয়াসিম আকরামের মতন চির শত্রুরা।
শেষবারের মতন একটা ম্যাজিক দেখার প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছিলাম। এই প্রথম টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরির জন্য দোয়া করেছিলাম। প্রমাণ পেলাম শকুনদের দোয়া সবসময়ে কবুল হয়না। সেটা কারও ভালোর জন্য হলেও। একটা অতি নিরীহ বলে খোঁচা দিতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন ক্রিকেট লেজেন্ড। প্রমাণ করে গেলেন, তিনি শচীন টেন্ডুলকার, ভীষ্ম পিতামহ নন। তিনিও ভুল করেন। মানুষ বলেই সেটা করেন। এবং একারনেই তাঁকে অনেক উপরে স্থান দিতে হবে। মানুষ হবার পরেও দেবতাদের মত ক্ষমতা দেখিয়ে লড়ে গেছেন দীর্ঘ পঁচিশটা বছর!
লেখকের কলমের কালী একটা সময়ে ফুরিয়ে যায়। মহাকাব্যেরও সমাপ্তি ঘটে। জোছনা ছড়ানো চাঁদকেও অস্ত যেতে হয়। শচীন টেন্ডুলকারকেও বিদায় তাই নিতে হচ্ছে। আমরা সৌভাগ্যবান যে, জ্ঞান হবার পর থেকে আমরা একজন লেজেন্ডকে তৈরী হতে দেখেছি। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমরা গর্বভরে বলতে পারবো যে, আমরা শচীন টেন্ডুলকারের খেলা দেখে বড় হয়েছি!
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×