somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টিভি বিজ্ঞাপন ও রবির পান্জাবি নিয়ে অহেতুক ঘ্যানঘ্যানানি

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৪ রাত ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"দোস্ত, আজকে অহনাকে নিজের মনের কথা বলেই ফেলবো।"
"গ্রেট দোস্তো! কিভাবে বলবি?"
যেই বন্ধু তার আইডিয়ার কথা বলতে যাবে, তখনই শুরু হয়ে গেল বিজ্ঞাপন বিরতি।
জয়া আহসান কাপড় কাচতে কাচতে হাসিমুখে পোজ দেন। "এক ঘসাতে এত ফেনা....কেউ দিবেনা, কেউ দিবেনা...."

দীর্ঘ বিজ্ঞাপন বিরতি শেষে আবার নাটক প্রচার শুরু। দর্শককে কাহিনীসূত্র ধরিয়ে দিতেই খানিকটা পিছিয়ে প্রচার করতে হলো।
"গ্রেট দোস্তো! কিভাবে বলবি?"
"তাকে চমকে দিলে কেমন হয়? ধর সে যখন আসবে, তার সাথে তুমুল ঝগড়া বাঁধিয়ে দিব। চরম অপমান করবো। একটা সময়ে সে যখন প্রায় কাঁদো কাঁদো হয়ে যাবে, তখন একটা ফুল তার দিকে এগিয়ে ধরে হাঁটু গেড়ে বলবো, আমি তব মালঞ্চের হব মালাকর!"
"গ্রেট আইডিয়া দোস্তো! আমার খুবই এক্সাইটিং লাগছে! এই দেখ, হাতের সব লোম দাঁড়িয়ে গেছে! এই সাবধান সাবধান....ঐ যে অহনা আসছে!"
পরের দৃশ্যে অহনার জায়গায় শাবনূর এলো। তবে আরেকটা সাবানের বিজ্ঞাপন নিয়ে। সাথে আইয়ুব বাচ্চুর জিঙ্গেল।
"আনে রূপের চমক! তিব্বত বিউটি কেয়ার সোপ!"

আবারও দীর্ঘ বিজ্ঞাপন বিরতি শেষে আবারও নাটকে ফেরা হলো। এবারও কাহিনী সূত্র ধরিয়ে দেয়া হলো।
"এই সাবধান সাবধান....ঐ যে অহনা আসছে!"
অহনা আসতেই বন্ধু পালিয়ে গেল।
"এই, সাজ্জাদ আমাকে দেখে এভাবে চলে গেল কেন?"
"ইয়ে ওর একটা ইমার্জেন্সি আছে।"
"ইমার্জেন্সি?"
"হ্যা। ওর চাচা আইসিইউতে। ওনাকে ভর্তি করতে হবে।"
"আহারে! চাচা আইসিইউতে, ও এখানকে দাঁত কেলিয়ে হাসছিল কেন? আমি রিকশা থেকে নামার সময়ে স্পষ্ট দেখলাম ও খুব হাসছিল।"
"ইয়ে, আসলে ও কাঁদছিল। ওর দাঁত বড় বড়তো, তাই তুমি ভুল বুঝেছো। ওর ক্যালানো দাঁত তুমি দেখেছো, চোখের পানি দেখোনি।"
"কি জানি, ভুল দেখতেও পারি।"
"ইয়ে, আমি কিন্তু তোমার উপর খুব রাগ করেছি! আমি ঠিক করেছি তোমার সাথে কথাই বলবো না।"
"রাগ করেছো? কথা বলবে না? কেন?"
আবারও বিজ্ঞাপন বিরতি। এবারও দীর্ঘ সময় ধরে চলবে একের পর এক বিজ্ঞাপন।

একটা নাটকের প্রতি দর্শকের যাও বা খানিকটা আগ্রহ থাকার কথা, সেটা বিজ্ঞাপনের ভিড়ে পিষ্ট হয়ে ইন্তেকাল করে। মানুষ তখন বিনোদন পেতে বিদেশী চ্যানেল দেখেন। সেখানেও বিজ্ঞাপন দেখায়। কিন্তু সেটাও একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। আমাদের দেশের চ্যানেলগুলোর মত দর্শকের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নেয় না।
কিছু বুদ্ধিমান দর্শক আছেন, যারা ইন্টারনেট থেকে শোগুলো ডাউন লোড করে অথবা স্ট্রিম করে দেখেন। বিজ্ঞাপন বিরতি ছাড়াই। তারাই অনুষ্ঠানের আসল মজা উপভোগ করেন।
টিভিতে অনুষ্ঠান চালাতে হলে বিজ্ঞাপন প্রচার করতেই হবে। এতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু কেউ যদি বিজ্ঞাপন প্রচার করতে করতে অনুষ্ঠান চালায়, তাহলেই সমস্যা।
একটি বিজ্ঞাপন, সেটা যতই ভাল হোক, একটা নির্দিষ্ট সময় পরে বারবার দেখতে ভাল লাগেনা।
ফারুকী ভাইয়ের নতুন বিজ্ঞাপন, মেরিল স্প্ল্যাশের কথাই ধরা যাক। মেয়েদের গাত্রবর্ণ নিয়ে চমৎকার একটি বিজ্ঞাপন। গায়ের রং যে কাউকে সুন্দর-অসুন্দর ঘোষণা করতে পারেনা, চমৎকার একটি থিম নিয়ে দারুন একটি বিজ্ঞাপনচিত্র এটি। কিন্তু বারবার দেখলে কতক্ষণ ভাল লাগবে?
আর আমাদের চ্যানলগুলো বিদেশী চ্যানেলদের গালিগালাজ করে। হিন্দি সিরিয়াল দেখার জন্য দর্শকদের দোষ দেন!

বিজ্ঞাপনের কথাই যখন উঠলো, তখন 'রবির' কথাটাও বলে ফেলি।
ছিন্নমূল শিশুদের ঈদের কাপড় নিয়ে একটি হৃদয়স্পর্শী বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে রবি। এই বিজ্ঞাপন দেখে অনেকে নিজে থেকেই কাপড় দান করেছেন রাস্তার বা বস্তির শিশুদের।
রবি বলল, একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা রিচার্জ করলে তারা একটা করে ছিন্নমূল শিশুকে একটি করে ঈদের জামা উপহার দিবে।
মানুষ পরম উৎসাহে রবিতে রিচার্জ করে কথা বলল। তারপর রবি যখন ঈদের পোশাক দিল, তখন অনেক মানুষই হায় হায় করে উঠলো।
রবি নাকি কাপড় দেয়ার নাম করে নিজেদের বিজ্ঞাপন করে বেরিয়েছে। প্রতিটা শিশু একটা করে রবির বিলবোর্ড। ইত্যাদি।
বিদেশে থাকি, তাই বুঝলাম না ঘটনা কি।
ছবিতে দেখলাম শিশুদের গায়ে লাল পাঞ্জাবি। যেখানে ফুলের নকশা আঁকা, দেখেই বোঝা যায় সেটা আসলে রবির লোগো। যদিও রবি লেখা আছে নাকি বোঝা যাচ্ছেনা।
আমার কথা হচ্ছে, একটা কোম্পানি যখন এইসব দান ক্ষয়রাত করে, তখন তারা অবশ্যই তাদের নিজেদের লোগো/থিমের আশেপাশে থাকার চেষ্টা করে। যেমন রবি যদি নীল রংয়ের পাঞ্জাবি দিত, তাহলে সেটা তাদের কম্পিটিটর জিপি'র সাথে মিলে যেত। বা কমলা রংয়ের কাপড় দিলে সেটা কনফ্লিক্ট করতো বাংলালিঙ্কের সাথে। সাদা পাঞ্জাবি দিলে দোষ হতো না। কিন্তু শিশুরা সাধারণত রঙ্গিন পোশাক পড়তে ভালবাসে। লাল তাদের জন্য অবশ্যই পছন্দের একটি রং। কাজেই লাল পাঞ্জাবি দেয়ায় মর্মাহত হবার কিছুই নেই।
একই যুক্তিতে ডিজাইনেও তারা তাদের লোগো ব্যবহার করতেই পারে।
দিনের শেষে রবি একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। ইনকাম স্টেটমেন্টে নেট প্রফিট কত বড়, সেটা নিয়েই তাদের যাবতীয় চিন্তা। আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম এই কাজ করলে হায় হায় রব উঠা যৌক্তিক, রবির ক্ষেত্রে এমন এক্সপেক্টেশন রাখাটাই অযৌক্তিক।
আসল কথা হচ্ছে, পথ শিশুরা কখনই কিছু পায়না। তাদের যখন কোন কাপড় দেয়া হয়, তারা এটা পরোয়া করেনা যে সেখানে রবি লেখা, পেপসি লেখা, নাকি কোকাকোলা লেখা। একটি নতুন জামা পাবার আনন্দই তাদের কাছে মূখ্য বিষয়।
নতুন জামা পড়ে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া, আত্মীয় বন্ধুদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া - এইসব আনন্দের ভিড়ে 'রবি আমাকে বিজ্ঞাপন বিলবোর্ড বানিয়ে ফেলেছে' এই ধরনের ধারনা মনে আসতেই পারেনা। বিশ্বাস না হলে একটা দুইটা বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন।
যারা এখন 'কিন্তু' খুঁজে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের সমস্যা থাকলে তাঁরা প্রতিটা বাচ্চাকে ধরে ধরে এনে বলুক, তুমি এই পাঞ্জাবি ফেলে দাও, আমি তোমাকে কোন লোগো ছাড়া নতুন পাঞ্জাবি দিচ্ছি।
যতক্ষণ কেউ এই কাজটা করবেন না, ততক্ষণ চুপ করে থাকেন।
কেউ একজন সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে, কোথায় সবাই বাহবাহ দিয়ে চেষ্টা করবো নিজেরাও যাতে এইরকম কাজ আরও বেশি বেশি করে করতে পারি; তা না করে সেই কাজেও আমরা প্যাচ খোঁজা শুরু করি।
মানসিকতার উন্নতি হচ্ছে না। মানসিকতার উন্নয়ন দরকার।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×