somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নোবেল পাওয়ার সহজতম উপায়

১১ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"এই মিয়া! তুই না বলেছিলি কুরআন শরীফ পড়লে বিপদ আপদ এড়ায় চলে? আমিতো এখন নিয়মিত কোরআন পাঠ করি। তাহলে আমি কেন রেগুলার বিপদে পড়ি?"
"তুই যে কোরআন পড়িস, সেটা কি শুধুই আরবীতে? নাকি বাংলায় অর্থ বুঝে?"
"আরবীতে। বাংলায় অর্থ বুঝে পড়তে অনেক সময় লাগে।"
হেসে বললাম, "এখানেইতো গন্ডগোল করে ফেলেছিস। কী পড়ছিস, কেন পড়ছিস কিছুই বুঝতে পারছিস না।"
"সেটা বিষয় না। বিষয় হচ্ছে, আমি ডেইলি নামাজ পড়ি। ডেইলি কোরআন শরীফ পড়ি। তারপরেও দুইদিন পরপর আমার জীবনে নানান বিপদ আসে কেন?"
"বন্ধু, আমি তোকে তিনটা গল্প শোনাবো। কোরআন শরীফ থেকে। গল্পগুলো হয়তো তুই জানিস, তারপরেও আজকে তোর মেমোরী রিফ্রেশ করার প্রয়োজন আছে।"
"গল্প শুনলে কি আমার বিপদ কাটবে?"
"অবশ্যই কাটবে। প্রথম গল্পটা হযরত ইব্রাহীমের(আঃ)। তিনি যখন ইসলাম প্রচার শুরু করলেন, তখন তাঁকে শাস্তি দেয়ার জন্য বিরাট একটা অগ্নিকুন্ড তৈরী করা হলো। তাঁকে সেই আগুনে ফেলা হবে। সেই আগুনের এতই তেজ ছিল যে তার অনেক অনেক উপর দিয়েও কোন পাখি উড়ে যেতে পারছিল না। কেমন বিপদ চিন্তা কর! এই সময়ে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) একটা কাজ করলেন, যেটাতে তাঁর বিপদ সাথে সাথে কেটে গেল।"
"কী কাজ?"
"সেটা বলছি। তার আগে হযরত ইউসুফের (আঃ) ঘটনা বলে নেই। তাঁকে তাঁর ভাইয়েরা মেরে ফেলার জন্য পরিত্যাক্ত কুয়ায় নিক্ষেপ করেছিল। সেখান থেকে তাঁকে ক্রীতদাস ব্যবসায়ীরা দাস হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছিল। সেখান থেকে তিনি মিথ্যা অভিযোগে জেলে বন্দী হলেন। বিপদের পর বিপদ। তিনিও সেই কাজটিই করলেন, যেটা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) করেছিলেন। এবং তাতে কাজ হলো। তাঁর বিপদও কেটে গেল!"
"কী সেটা? আয়াতুল কুরসী পড়েছিলেন?"
"বলছি দাঁড়া। আগে মূসার (আঃ) ঘটনাটাও বলে নেই। তিনি যখন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে মিসর ছেড়ে যাচ্ছিলেন, ফিরাউনের সেনাবাহিনী তাঁদের হত্যা করতে পেছন থেকে তেড়ে আসছিল। সামনে সমুদ্র, পিছনে ফিরাউন - মূসার (আঃ) উম্মতরা বলল, 'হে মূসা (আঃ)! আজকে আমরা শেষ!' হযরত মূসাও (আঃ) তখন তাঁর পূর্ব পুরুষদের পন্থা অবলম্বন করলেন। এবং তাঁরও কাজ হলো।"
"তুই কী আদৌ বলবি কী করেছিলেন তাঁরা?"
"তাঁরা তিনজনই বিপদে ঘাবড়ে যাননি। মাথা ঠান্ডা রাখলেন। তাঁরা তাঁদের মালিকের উপর ভরসা রাখলেন। তিনিই তাঁদের বিপদ থেকে রক্ষা করলেন। বিপদে পড়াটা মোটেও চিন্তাজনক নয়, বরং বিপদে ভয় পাওয়াটাই বেশি বিপজ্জনক। তোর যদি বিশ্বাস থাকে তোকে আল্লাহ বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন, তাহলে দেখবি, বিপদে তুই একদমই ভয় পাচ্ছিস না। ভয় না পেলেই দেখবি তুই ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে পারছিস। তাহলে দেখবি তোর খারাপ সময় কেটে যাচ্ছে।"
"এইসব শুনতে ও বলতে সহজ। আসল জীবনে অ্যাপ্লাই করা অনেক কঠিন।"
"তোকে তিন নবীর গল্প যখন বললাম, আমাদের নবীজির (সাঃ) ঘটনা কেন বাদ যাবে? তিনি যখন ইসলাম প্রচার শুরু করেন, তখন তাঁর আপনজনেরাই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। তাঁকে হত্যা করতে লোক লাগায়। তিনি মদিনায় পালিয়ে যান। মদিনায় পালাবার পথে তিনি এবং তাঁর একমাত্র সঙ্গী আবুবকর (রাঃ) একটা গুহায় আশ্রয় নেন। কুরাইশরা তাঁদের অনুসরণ করে গুহা পর্যন্ত পৌছে গিয়েছিল। তাঁরা তাদের কথাবার্তা, চলা ফেরার শব্দ স্পষ্ট শুনছিলেন। হযরত আবুবকর (রাঃ) নবীজির (সাঃ) জীবন নিয়ে শঙ্কিত হলেন। নবীজি (সাঃ) তখন তাঁকে আশ্বস্ত করতে তাঁর পূর্বপুরুষদের মতই বললেন, 'সেই দুইজন ব্যক্তির কীই বা বিপদ হতে পারে যখন তাঁদের সাহায্যকারী তৃতীয়জন হিসেবে স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাল্লাহু ওয়াতাআলা পাশে থাকেন?'"
"আমীন।"
"এইজন্যই কোরআন শরীফ আরবীর সাথে সাথে বাংলায়ও পড়তে বলি। পড়লে দেখতি প্রতিটা নবী রাসূলদের কী কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েই না আল্লাহ পার করেছেন! তাঁদের প্রত্যেককে নানান বিপদ আপদ দিয়ে তিনি পরীক্ষা করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই কঠিন সময়ে ধৈর্য্য ধরেছেন। তাঁরা আমাদের মানুষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। যখন তাঁদেরকেই আল্লাহ কোন ছাড় দেননি, তুমি আমি সেখানে কী এমন রসগোল্লা? অবশ্যই আমাদের জীবনেও বিপদ আসবে, আমরাও অনেক কিছু পেয়ে হারাবো, আবার হারিয়ে হারিয়ে পাব। কিন্তু তাই বলে সামান্য টুকিটাকি বিপদে ঘাবড়ালে চলবে? সহজ কথা, যদি দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তবু হাসিমুখে যেন বলতে পারি, 'সেই দাসের কী ভয় যখন তার মালিক স্বয়ং তাঁর সাহায্যকারী!' কুরআনের অসংখ্য শিক্ষার মধ্যে এটি অন্যতম প্রধাণ শিক্ষা।"
"মজার ব্যপার কি জানিস? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও একই কথা লিখে গেছেন। 'বিপদে মোরে রক্ষা করো, এ নহে মোর প্রার্থণা, বিপদে আমি না যেন করি ভয়!' এই বাণী বিদেশীদের এতই পছন্দ হয়েছে যে তাঁকে নোবেল পর্যন্ত দিয়ে দিল।"
"হাহাহা। তাহলেই দেখ, তোকে নোবেল পাওয়ার ফর্মূলা দিয়ে দিলাম। ঠিকঠাক মত কুরআন হাদীস মেনে চল, দেখবি হয়তো কোন একদিন শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়ে গেছিস!"
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসের ঘর বনাম বাস্তব হিসাব

লিখেছেন মোবারক, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২০

পরিবারে বড় ভাই হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্যাগী বা মহান হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের সমাজে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে যে, পরিবারের প্রথম সন্তান মানেই তিনি অনেক ত্যাগ করবেন এবং ভাইবোনদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই হচ্ছে না

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৪



কিছুই হচ্ছে না, আবার সবকিছুই হয়ে যাচ্ছে। এই যে বয়সটা পা টিপে টিপে এসে ঘাড়ের কাছে দাঁড়ায়, টেরই পাই না। আয়নার সামনে দাঁড়াইলে একজন অচেনা লোক তাকায়, চোখের নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×