somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইন্ডিয়া এবং সাউথ আফ্রিকার মধ্যে সিরিজের মাঝখানে একটা সংবাদ ক্রিকেট বিশ্বে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।
দিল্লি পুলিশের দাবী, প্রোটিয়া অধিনায়ক হানসি ক্রনিয়ে ম্যাচ পাতান। তাঁদের কাছে প্রমাণ হিসেবে ফোনালাপ টেপ করা আছে। পুলিশের অভিযোগ, হার্শেল গিবস এবং আরেকজন খেলোয়ারও (নাম ভুলে গেছি) এই কাজে জড়িত।
স্বাভাবিকভাবেই ক্রনিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করলেন। ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালো। আমরা ভক্তরাও আছি ক্রনিয়ের পাশে। ভারতীয় বন্ধুদের সাথে ক্রনিয়ের হয়ে প্রায়ই ঝগড়া করে ফেলছি। তখন কতই বা বয়স ছিল? তখনকার ঝগড়া মানে প্রায় হাতাহাতি পর্যন্ত গড়াতো।
একদিন সকালে পত্রিকার শিরোনাম দেখে তাজ্জব হয়ে গেলাম। ক্রনিয়ে পাপ স্বীকার করেছেন! মনটা এত ভেঙ্গে গেল! আমার সবচেয়ে প্রিয় অধিনায়ক ছিলেন তিনি! তিনি এই কাজটা করলেন!
কয়েক বছর পরে মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ আসিফ এবং সালমান বাট ধরা পড়লেন ঘুষ কেলেঙ্কারিতে। আমির-আসিফ দুইজনের খেলাই আমার ভাল লাগে। বিশেষ করে দিন দিন যেখানে ফাস্ট বোলাররা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হতে চলেছেন, সেখানে এই দুইজন অসম্ভব প্রতিভাবান দুই রত্ন স্বরূপ!
কিন্তু আমার বয়স ততদিনে বেড়ে গেছে, মস্তিষ্কের বৃদ্ধিও ঘটেছে অনেকখানি। এইবার আর তাঁদের হয়ে কারও বিরুদ্ধে লড়লাম না। দাবী করলাম ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করা এইসব কুলাঙ্গারদের অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিৎ!
আইসিসি ভালই বিচার করেছেন। তাঁদের অভিনন্দন।
এইবার শ্রীশান্তের পালা। ম্যাচ কেলেঙ্কারিতে সেও ধরা খেল। শচীন টেন্ডুলকারের মতন লেজেন্ডের দলের একটা লোক হয়ে এইকাজ করতে পারলো! কিভাবে সম্ভব! তবে অস্বীকার করবো না, এই ঘটনায় মজাও পেলাম খুব।
এইবার যখন পাকিস্তানি-ভারতীয় বন্ধুরা আমাদের ক্রিকেট নিয়ে মজা করতে আসবে, আমরা বড় গলায় খোঁচা দিয়ে বলতে পারবো, "আফসোস, আমাদের দলে আসিফ-আমির-সালমান-শ্রীশান্তদের মতন গ্রেট ক্রিকেটার নাই। কী আর করা, আমাদের ছেলেরা তোমাদের মতন দেশকে বিক্রি করে না।"
কিন্তু এত সৌভাগ্য আমাদের কোথায়! মোহাম্মদ আশরাফুল ধরা পড়ে গেলেন!
অবাক হয়ে দেখলাম, যেই কন্ঠগুলো আসিফ-আমির-সালমান-শ্রীশান্তদের বিরুদ্ধে এত জোরদার ছিল, তারাই মোহাম্মদ আশরাফুলের সময়ে একেবারে মিনমিনে হয়ে গেলেন!
আশরাফুল যেখানে স্পষ্টত স্বীকার করছেন তিনি দেশের হয়ে খেলার সময়ে ঘুষ নিয়েছেন, তিনি বিপিএলে খেলার সময়ে ঘুষ নিয়েছেন, তিনি শ্রীলংকায় খেলার সময়েও ঘুষ নিয়েছেন - তারপরেও কোন লজিকে আমরা বলি, "আশরাফুল একটু বেশিই সরল ছিলেন, তাই তাঁকে আজকে সরলতার শাস্তি পেতে হচ্ছে!"
কারওয়ান বাজারের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মুরগি মিলন যখন আদালত প্রাঙ্গনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল, তখন তার স্ত্রী ইন্টারভিউতে বলেছিল, "আমার স্বামীর মন ছিল একদম শিশুদের মতন সরল।"
এরশাদ শিকদারের পরিবারের লোকদেরও একই দাবী ছিল। এরশাদ শিকদারের মন নাকি শিশুদের মতন! যদি তাই হয়, তবে বাংলাদেশের শিশুদের থেকে সাবধান থাকা উচিৎ!
দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের স্ত্রীদের সাথে আপনার মতন শিক্ষিত লোকের মতাদর্শে অমিলটা থাকলো কোথায়? শিক্ষা তো মানুষকে ভাল এবং মন্দের মাঝে পার্থক্য বুঝতে শেখায়, নাকি? তাহলে আপনার এত এত ডিগ্রীর কী মূল্য রইলো?
এমন যদি হতো, হঠাৎ একদিন সকালে আশরাফুল অপরাধবোধে জর্জরিত হয়ে নিজে থেকেই পুলিশের হাতে ধরা দিয়ে পাপ স্বীকার করে নিয়েছেন, তাহলেও এই দাবী যুক্তিযুক্ত শোনাত। তিনিতো ধরা খাওয়ার আগে স্বীকারই করেননি। তাহলে তাঁকে "নিষ্পাপ," "সরল" বলার যুক্তি কী?
কেউ কেউ বলেন, "যেই দেশের পিওন থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত সবাই ঘুষ খায়, সেইদেশে কেবল আশরাফুলদেরই শাস্তি হয়।"
খুবই আবেগী কথাবার্তা। তবে যুক্তি সেইরকমই খোড়া! একটি দুর্নীতিগ্রস্থ দেশে বাস করার অর্থ এই না যে যেকোন দুর্নীতি জায়েজ হয়ে যাবে। এইটা আমাদের ব্যর্থতা যে আমরা বাকিদের শাস্তি দিতে পারিনা।
"আশরাফুল বাংলাদেশের প্রথম সুপারস্টার! বাংলাদেশের যত বড় সাফল্য, সব তাঁর ব্যাটেই।"
হানসি ক্রনিয়ে তাহলে শাস্তি পেলেন কেন? তাঁর মতন ক্যাপ্টেন এই পৃথিবীতে কয়টা এসেছিল?
আমাদের এই হিপোক্রেটিকাল আচরণের পেছনে যুক্তি কী?
কেউ কেউ বলবেন, "দেশপ্রেম।"
আসলে না। দেশপ্রেম নয়, সঠিক উত্তর হবে, "জাতীয়তাবাদ।"
কারন একজন দেশপ্রেমিক অবশ্যই বলবেন, "যে বদমাইশ পয়সা খেয়ে দেশকে বিক্রি করে, তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করা উচিৎ।"
একজন জাতীয়তাবাদই বলবেন, "যেহেতু আশরাফুল "বাংলাদেশী" সেহেতু তিনি নির্দোষ!"
দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের একটি দারুনভাবে প্রশংসনীয়, অপরটি চরমভাবে নিন্দনীয়।
উদাহরণ সহই ব্যাখ্যা করছি। নাহলে বুঝতে পারবেন না।
সবার আগে জেনে নেই "দেশ" কী?
কতিপয় রাজনীতিবিদের সমঝোতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কাঁটাতারের ভিতরে অবস্থিত নির্দিষ্ট ভূ-খন্ডকেই আমরা দেশ হিসেবে চিনে থাকি।
সাতচল্লিশে উপমহাদেশে ব্রিটিশদের ছুরি চালাবার আগে কলকাতা-বর্ধমান-মুর্শিদাবাদ ছিল আমাদের "দেশ।"
দুই বাংলার লোকেরা একই ভাষায় কথা বলে, একই সংস্কৃতি মেনে চলে, তবুও আমরা পরষ্পরের কাছে "বিদেশী" হয়ে গেলাম। খাল পেরোলেই যেই গ্রামে যাওয়া যেত, নেহেরু এবং জিন্নাহ সাহেব বলে দিলেন, এখন ওখানে যেতে পাসপোর্ট ও ভিসা লাগবে।
এমনও হয়েছে, গাছ অবস্থিত এক দেশে, কিন্তু তার ছায়া গিয়ে পড়ে ভিন্ন দেশে!
এদিকে উর্দু ভাষায় কথা বলা করাচি-লাহোরীবাসীরা কিন্তু একাত্তুরের আগে পর্যন্ত রয়ে গেলেন আমাদের "দেশী!" হাজার মাইল দূরের ওসব অঞ্চলে যেতে আমাদের কোন পাসপোর্ট-ভিসা লাগেনা!
একই যুক্তিতে, এখন যদি ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আলাদা হয়ে যায়, কিংবা বিচ্ছিন্ন হয় সিলেট, তাহলে ওরাও বিদেশী হয়ে যাবে। তেমনি, উপমহাদেশ আবার এক হয়ে গেলে আবারও আমরা ঢাকা-দিল্লি-করাচি সবাই "একদেশী" হয়ে যাব।
তাহলে দেশের সংজ্ঞা বুঝতে পারছেন?
এখন যদি কেউ সেই কাঁটাতারের ভিতরের অঞ্চলকে ভালবেসে থাকেন, সেটাই দেশপ্রেম। সেটাই স্বাভাবিক মানব চরিত্র। আমি যেমন আমার দেশ বাংলাদেশকে ভালবাসি, সিলেট থেকে কয়েকশো মাইল দূরের খুলনাকে যতখানি ভালবাসি, আমার পাশের দেশের, মাত্র কয়েকমাইল দূরের মেঘালয় রাজ্যকে ততখানি ভালবাসি না। কারন খুলনা কাঁটাতারের এইদিকের অঞ্চল, মেঘালয় ঐদিকের। নিজের পরিবারের লোকেদের আমরা বেশি ভালবাসব না তো কাকে বসবো? এবং এমন মনোভাব থাকাটা কোন মতেই খারাপ নয়, বরং ভাল।
খারাপ হবে তখন যখন তারের ওপারের লোকেদের আপনি খারাপ বা নিজের চেয়ে নিচু ভাবতে শুরু করেন। এই মনোভাবকে দেশপ্রেম নয়, জাতীয়তাবাদ বলে। জাতীয়তাবাদ হচ্ছে, নিজের জাতি ছাড়া অন্য সবাইকে ছোট করে দেখা, এবং নিজের জাতির যদি কোন দোষ ধরা পড়ে, তবে সেটাকে চোখ বুজে উপেক্ষা করা।
জাতীয়তাবাদের সবচেয়ে বড় কুফল হলো, এটি মানুষকে অন্ধ করে দেয়। ভাল খারাপের পার্থক্য করতে শেখায় না। মানসিকতা ছোট করে দেয়। দলাদলি করতে শিখায়। ফল হয় খুব খারাপ।
আজকে জাতীয়তাবাদের কারনেই আমরা বিদেশের মাটিতে সাউথ এশিয়ান কমিউনিটিকে "বাংলাদেশী" "ভারতীয়" "পাকিস্তানি" হিসেবে ছোট ছোট দলে ভাগ করে ফেলছি। দেশের ভিতরে নিজেদের ভাগ করছি "সিলোটি " "ঢাকাইয়া" "নিউ-ক্যালি" ভাগে। তারপরও আমাদের মনে শান্তি নেই। আরও ছোট ছোট দলে নিজেদের ভাগ করছি। সুরমার এইপার আর ঐ পারের মাঝে ভাগ হয়ে যাচ্ছি। "বিশনাথী" "বিয়ানিবাজারী" এবং "মৌলভিবাজারী ফগা (বোকা)" - ভাগাভাগির কোনই শেষ নাই।
উপরে মোহাম্মদ আশরাফুলের উদাহরণটা দিয়েছিলাম। আরও কিছু দেয়া যাক।
"আমার প্রিয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান! কাজেই তাঁর বিবি ও পুত্রসন্তানগণ আসমানের ফেরেস্তা! তাঁর দল, যাদের নামই "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল," কোন অবস্থাতেই খারাপ হতে পারেনা। যদি স্পষ্টতঃ আমার চোখে তাঁদের কোন কুকর্ম ধরা পড়ে, তবে অবশ্যই সেটা বাকশালী আওয়ামী ষড়যন্ত্র! বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!"
"জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি। তাঁর কন্যা গণতন্ত্রের মানস কন্যা। তাঁর নাতি সজীব ওয়াজেদ জয় নিঃসন্দেহে আসমানের ফেরেস্তা। তাঁর দল আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ। আওয়ামীলীগ ছাড়া দেশের বাকি সবাই রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী। ছাত্রলীগ কোনদিনই কোন সন্ত্রাসী কর্ম করতে পারেনা। যদি পত্রিকায় কোন খবর ছাপা হয়, তবে অতি অবশ্যই সেটা হলুদ সাংবাদিকতা! জয় বাংলা!"
"বাংলাদেশে যদি কোন রাজনৈতিক দল ইসলামের পথে থাকে, তবে সেটা অবশ্যই জামাত-শিবির। জামাতে ইসলামীর একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করা। রগ কাটাকাটি কিংবা জবাই করা নিয়ে যেসব অভিযোগ করা হয়, সেসব নাস্তিক-মুরতাদদের ভিত্তিহীন অভিযোগ। একাত্তুর সালে পাকিস্তানের সমর্থন করে জামাত কোনই ভুল করে নাই। মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই, দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ!"
কথা প্রসঙ্গে বলে ফেলা ভাল, "দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ" হাদিসটা জাল। পরে এইটি নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা যাবে। আপাতত দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ ইস্যুতেই স্থির থাকি।
কাজেই দেখা যাচ্ছে, জাতীয়তাবাদ আমাদের অন্ধ করে দিচ্ছে। আমার সমর্থিত একটা জাতিকে ছাড়া আমরা বাকিদের ছোট করে দেখছি। রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকরা অতি অবশ্যই মেসিকে ঘৃনা করছি। বার্সা সমর্থকরা রোনালদোকে। লড়াই করি পেলে-ম্যারাডোনা ইস্যু নিয়ে, এমনকি ওয়াসিম-শচীন লড়াইকে ঘিরেও আমরা হাতাহাতি করে মরি।
অথচ আমরা যদি আমাদের পরিধিটা একটু বড় করে ফেলি, ভাবতে শিখি যে আমরা কেবল বাংলাদেশেরই না, এই বিশ্বের নাগরিক, তাহলেই কিন্তু আমাদের মন মানসিকতা ঝট করে বড় হয়ে যাবে।
কুয়ার ব্যাঙ হয়ে কেন সারাটা জীবন কাটিয়ে দিব? বাইরে বেরুলেই বুঝতে পারবো দুনিয়াটা কত বিশাল, আর আমার কুয়াটা সেই তুলনায় কত ছোট ছিল!
কেউ যদি গুণী হয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই তাঁর গুণের কদর করার সময়ে তাঁর ধর্ম, জাতীয়তা, লিঙ্গ ইত্যাদি তুচ্ছ বিষয় বিবেচনায় আনা উচিৎ নয়। ভারতীয় হবার অপরাধেই যদি আমি বলি, "শচীন মোটেও আহামরি কোন ব্যাটসম্যান ছিলেন না সব মিডিয়ার সৃষ্টি" অথবা পাকিস্তানি হওয়ায় ওয়াসিমের বোলিংকে শ্রদ্ধা না করি, তবে একজন অস্ট্রেলিয়ান, বা একজন জ্যামেইকান আমাকেই আহাম্মক মনে করবেন। আমার সাকিব নিঃসন্দেহে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার, কিন্তু হাশিম আমলার তুলনায় আমাদের তামিম-মুশফিক কিছুই নয় - এইটাই ফ্যাক্ট, স্বীকার করে নিতেই হবে।
"দেশপ্রেমিক" হিসেবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোন দলের খেলায় আমি বাংলাদেশকেই সাপোর্ট করবো। কিন্তু আমার দলের প্রিয় খেলোয়াড় যদি ক্যামেরার সামনে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে, তবে "জাতীয়তাবাদী" হয়ে অবশ্যই চোখ বুজে তাঁকে নির্দোষ দাবী করবো না।
দেশপ্রেমিক হিসেবে আমাদের দেশের যেকোন রাজনৈতিক নেতাদের ফাজলামির প্রতিবাদ আমরা করবো। "জাতীয়তাবাদী" হলেই কেবল নিজের দলের অন্ধ সমর্থন করে যাব!
এইবার আজকের লেখার ইতি টানা যাক।
আগেই বলেছি, দেশপ্রেম থাকা ভাল। কিন্তু "দেশ" যদি অন্যায় কিছু করে, তবে দেশের বিরুদ্ধে যেতে হলেও যাওয়া উচিৎ।
একাত্তুরে আমাদের দেশ ছিল পাকিস্তান। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীই আমাদের বাঙালিদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল। তখন কিন্তু যারা দেশপ্রেম আঁকড়ে ধরে বসেছিলেন, তাদের এক অংশকে আমরা এখন রাজাকার বলি।
আবার দেশের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে শহীদ হওয়া গাদ্দার বৈমানিক মতিউর রহমান আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ!
জাতীয়তাবাদও একই দোষে দুষ্ট। পশ্চিম পাকিস্তানিরা তাদের সেনাবাহিনীকে সমর্থন করেছিল। তাদের শেখানো হয়েছিল, বেইমান জাতি বাঙ্গালি বিদ্রোহীদের দমন করতেই ওদের সেনাঅভিযান চালানো হয়েছে। এখনও তারা তিরিশ লক্ষ শহীদ ও দুইলক্ষ বীরাঙ্গনার সংখ্যাকে ভারতীয় প্রোপাগান্ডা বলে থাকে। কারন, ওরা পশ্চিমা, আর আমরা বাঙ্গালি! এটাই জাতীয়তাবাদী শিক্ষার ফল।
সুখের বিষয়, ওদের কেউ কেউ ঠিকই নিজের দেশের, নিজের জাতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। সংখ্যায় কম হলেও বাঙালিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন কিছু বিহারী ও পশ্চিম পাকিস্তানি। জাতীয়তাবাদ তাঁদের অন্ধ করে দেয়নি। ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন।
সমস্যা হচ্ছে, এই জাতীয়তাবাদ আমাদের রক্তের সাথে মিশে গেছে।
তাই আমরা অতি সহজেই রাজনীতিবিদদের খেলার পুতুল হয়ে যাই। অন্যান্য যেকোন সভ্য দেশে যেসব অপরাধীর আজীবন জেলে বন্দী থাকার কথা তাদেরকেই আমরা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী করে রাজগদিতে বসিয়ে দেই।
নিজের গোত্র বা জাতির কোন অপরাধের যদি কেউ প্রতিবাদ করে, তবে হারেরেরে বলে তাঁকে মারতে তেড়ে যাই।
আমাদের দেশের হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে রোগীর ভিড় বাড়বে নাতো কোন দেশে বাড়বে?
আমি জানি, আমি আপনাদের অনেকের মনেই আঘাত দিয়ে দিয়েছি।
কথা হচ্ছে, পাপ করার ক্ষমতা দিয়েই স্রষ্টা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আমাদের প্রত্যেকেরই মাঝে প্রচুর খারাপ অভ্যাস আছে। এখন কেউ যদি খারাপ অভ্যাসগুলো ধরিয়ে দেয়, এবং আমি বুঝতে পারি আসলেই অভ্যাসটা খারাপ, তবে আমার প্রথম কাজ হওয়া উচিৎ সেটা পরিত্যাগ করে নিজেকে শুধরে ফেলা। একমাত্র আহাম্মক হলেই আমি এ নিয়ে তর্ক করতে যাব, এবং সেটাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করবো।
তলপেটে চাপ অনুভব করার পরেও টয়লেটে না গিয়ে জেদ করে বসে থাকাকে কোন স্তরের বোকামি বলবেন আপনি? মনের ভিতর জাতীয়তাবাদ পুষে রাখা পেশাব পায়খানা জমা করে রাখার মতই একটি অপবিত্র অভ্যাস, একে যত জলদি সম্ভব টয়লেটে ফ্ল্যাশ করে দেয়া উচিৎ।
*** রাতুল চক্রবর্তী আদিত্যকে অনেক ধন্যবাদ! দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে লেখা একটি চমৎকার আর্টিকেল আমাকে পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×