somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আজান জোরে/আস্তে দেয়া বিতর্ক

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৬:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টু বি অনেস্ট, আজান শোনাশোনির চেয়ে আমাদের ধর্মে নামাজের উপর সব গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আজান জোরে দিতেই হবে এমনও কোন হাদিস আমার জানা নেই। নবীজি (সঃ) হজরত বিলালকে বলেছিলেন সুমধুর স্বরে আজান দিতে, ফুসফুসের সর্বোচ্চ জোর খাটিয়ে চিৎকার দিতে বলেননি।
এবং সাথে এও যোগ করি, অন্যের ডিস্টার্বেন্স হয়, এমন যেকোন কিছুই আমাদের ধর্মে নিষেধ। যে কারনে আমাদের ধর্মে ঢাকের বাদ্য বা উচ্চরবে যেকোন কিছু একদম গোড়া থেকেই নিষিদ্ধ। আমাদের ধর্মে এমনকি অতিরিক্ত উচ্চস্বরে কোরান পড়াও নিষিদ্ধ, কারন তাঁর আশেপাশে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত যারা তাঁর তেলাওয়াত শুনছে, তাঁরা যদি মনোযোগ না দেয়, তাহলে তাঁদের পাপ হবে। এবং তাঁদের যেন এই অসুবিধায় না পড়তে হয়, তাই আমাকেই আগে সাবধান হতে বলা হয়েছে।
এখন "যদি" মসজিদের সামনে হাসপাতাল থাকে, এবং উচ্চস্বরের আজান হার্টের রোগীদের ডিস্টার্ব করে, তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনে মাইক ছাড়াই আজান দেয়ার পক্ষে আমি। এতে ইসলাম "বিপন্ন" হয়ে যাবেনা মোটেও, বরং এতেই ইসলামের প্রকৃত মহিমাই ফুটে উঠবে - মানুষের সমস্যা বাড়াতে নয়, বরং সমস্যা সমাধান করতেই এর আগমন ঘটেছে।
আমি নিজেও ধর্মের নামে অনেক ফাজলামির বিরুদ্ধে লেখালেখি করি। পীর ফকির - মাজার - উরস - তাবিজ কবজ - ঝারফুক - কুসংস্কার ইত্যাদির বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই গলাবাজি করছি। এখনও করছি, এবং ইন শা আল্লাহ যতদিন দম থাকবে, করে যাব।
অবশ্যই দেশে উরস পালনকে দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হোক।
অবশ্যই দেশের সব মাজার ভেঙ্গে মাজার ব্যবসা বন্ধ করা হোক।
এবং দেশের সব পীর ধরে ধরে ক্ষেত্রবিশেষে মানসিক রোগের চিকিৎসা করানো হোক, নতুবা কারাগারের বাগানের মালি বানানো হোক।
সব দাবি মানি এবং সব যুক্তিও মানি।
তবে একটা কথা কী, ফেসবুকের শখের ব্লগার মঞ্জুর চৌধুরীর কোন উক্তি এবং দেশের অন্যতম প্রধান দৈনিকের উচ্চপদস্থ কর্মীর উক্তির মধ্যে কিছুটা পার্থক্যতো থাকেই। আমি যাই বলিনা কেন, গুরুত্ব পাবে কম, লোকে পাত্তাই দিবেনা কিন্তু তাঁদের যেকোন উক্তি সমাজে অনেক বড় ছাপ ফেলে। তাই তাঁদের শব্দ চয়নে অনেক বেশি সাবধানী হতে হয়।
একটা রিক্সাওয়ালা যে ভাষায় কথা বলে, একজন সাংসদকে সেই ভাষায় কথা বলতে নেই। এটাই নিয়ম।
শব্দদূষণ অবশ্যই দেশের একটা বড় সমস্যা। এবং এর পেছনে অনেকগুলো এলিমেন্টই দায়ী। তিনি যদি কথাটাকে এইভাবে বলতেন, "দেশে শব্দদূষণ একটি বিরাট সমস্যা। মাননীয় মেয়র, আপনাকে একটা আইন করতেই হবে যে এত ডেসিবেলের উপরে কোন শব্দই একসেপ্টেবল হবে না" - তাহলে কিন্তু ঝামেলা হতো না। বেশিরভাগ মানুষই তাঁর পক্ষে থাকতেন। যারা টু শব্দটি করতো, তাদের স্বভাবই হাউকাউ করা। ওদের পাত্তা না দিলেও চলবে।
তাহলে এই আইনের ভিতরে সবার আগে গাড়ির হর্ন ঢুকতো, বিয়েবাড়িতে লাউড স্পিকারে উচ্চস্বরে কোলাহল ঢুকে যেত, রাজনৈতিক সমাবেশের ন্যুইসেন্স ঢুকে যেত, এবং চিপা দিয়ে আজানও ঢুকে যেত এবং তাতে কোনই সমস্যা হতো না।
এখন প্রধান প্রধান এলিমেন্ট বাদ দিয়ে তিনি স্পেসিফিকালি যখন বললেন, "শব্দদূষণে কেবল আজানই দায়ী - আজানের ভলিউম কমাও" তখন কথাটা একটু কানে বাজে। যেখানে আমরা জানি পূজার সময়ে ঢাকের ধ্বনি আজানের চেয়েও জোরে এসে কানে ধাক্কা দেয়। এবং গাড়ির হর্নের কথা নাহয় নাইবা বললাম।
এখন অনেকেই বলতে পারেন ত্যানা প্যাচাচ্চি, "এটা কেন বলল, ওটা কেন বলল না" ঠিক যেমনটা মানুষ প্যারিস হামলায় ফেসবুকের প্রফাইল পিক নিয়ে প্যাচিয়েছিল - আমি কিন্তু উল্টাটা বলছি। আমি বলতে চাইছি এইসব ক্ষেত্রে স্পেসিফিক্যালি কিছু বলাটাই উচিৎ না, জেনারেলাইজ করেই বলতে হয়। যেই আপনি স্পেসিফিক হবেন, অমনি একটা গ্রুপ ধরেই নিবে আপনি তাঁদেরকেই আক্রমন করেছেন। এবং ব্যপারটি মিথ্যাও না।
অ্যামেরিকায় মসজিদের পার্কিং লট থেকেও ভিতরের আজান শোনা যায় না - কেউ কমপ্লেন করে? না। কারন? এখানে রাস্তাঘাটে রাশ আওয়ারের লক্ষাধিক গাড়ির ভিড়েও হর্নের আওয়াজ শোনা যায়না বলেই।
আইন হওয়া উচিৎ সবকিছুকে মাথায় রেখেই - স্পেসিফিক কিছুকে বা গোষ্ঠিকে মাথায় রেখে নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৬:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×