"ডিরেক্টর" হচ্ছেন "ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ।" দ্য আলটিমেট অথরিটি। জাহাজ ভাসলে যেমন তাঁর কৃতিত্ব, ডুবলেও তাঁরই দোষ। সেটা কোম্পানির ক্ষেত্রে হোক, হোক সেটা সিনেমা কিংবা গান। সেই হিসেবে আমরা বলতেই পারি "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" গানটি অমর হওয়ার পেছনে এর সুরকার বা ইংরেজিতে "মিউজিক ডিরেক্টর" একাত্তুরে শহীদ আলতাফ মাহমুদেরই সব কৃতিত্ব।
এখন নানান জনে নানানভাবে গানটিকে নিত্য নতুনভাবে পরিবেশন করছেন। প্রত্যেকের কাজই কম বেশি ভাল লাগছে। সম্প্রতি একজন তরুণ বারোজন শিল্পীকে দিয়ে বারটি ভাষায় গানটি গাইয়ে সবাইকে মুগ্ধ করে দিয়েছে। ফেসবুকে ভাইরালভাবে শেয়ার হচ্ছে ভিডিওটি। ক্যানভাসেও অনেকেই শেয়ার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অ্যাডমিন অ্যাপ্রুভ করেনি।
কেন? অ্যাডমিন কী তাহলে ভাষার মাসে পাকিস্তানের দালাল হয়ে গেল? রাজাকার? ছাগু?
জ্বী না ভাই, গানটিতে একটি বিরাট টেকনিকাল ডিফিকাল্টি চোখে বিধছে। সেখানে এই অমর গানটির মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে নাবিদ সালেহীন নিলয়ের নাম দেয়া হয়েছে। বিদেশীতো বিদেশী বাংলাদেশেরই অনেককে আগামী চার পাঁচ বছর যদি প্রশ্ন করেন অমর একুশের গানটির সুরকার কে? উত্তর আসবে নাবিদ সালেহীন নিলয়।
সালেহীন নিলয় সাহেব যদি ভুলটা শুধরে দিতেন, তাহলে কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু ভাইরাল হবার এত সময় পরেও এই মহাপাপের ব্যপারে তার তরফ থেকে কোন কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে না। হয় তিনি মিউজিক ডিরেক্টর শব্দের মানে কি সেটা জানেন না, বা তিনি ইচ্ছে করেই কাজটি করেছেন।
এখন এটাকে "ভুল" বলব নাকি "ডাকাতি" বলব সেটা বুঝতে পারছি না।
কেবল গেরিলা ৭১ গ্রুপটি এই জোচ্চুরির জোরালো প্রতিবাদ করেছে। আমরাও আছি তাঁদের সাথে।
আপনারাও যারা চোখ বন্ধ করে গানটি শেয়ার করেছেন বা এখনও করছেন, তাঁরা যদি একটা সাইড নোট লিখে দেন যে "এখানে সুরকার হিসেবে ভুল মানুষের নাম দেয়া হয়েছে" তাহলে অশেষ উপকার হয়। নাহলে এই চুরিটাকে শেয়ারের মাধ্যমে আপনিই সমর্থন করে যাচ্ছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৪:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




