somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যতদিন বাংলা ভাষার সম্মান ঠিক মতন দিতে পারবো না, ততদিন শুধু 'cool act' করতে শহীদ মিনারে যাব না।

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সার্জিলের বাসায় পাঁচ বন্ধু এক হয়েছে। এক্সবক্সে গেম খেলছে। ফিফা ২০১৭। চারটা কন্ট্রোলার থাকায় পালা বদল করে খেলতে হচ্ছে। এই মুহুর্তে যেমন সার্জিলের বসে থাকার পালা। সে বাকি চারজনের খেলা দেখতে দেখতে প্রিয়মকে বলল, “Dude, are you in for tomorrow?”
প্রিয়ম টিভি স্ক্রীন থেকে চোখ না সরিয়ে বলল, “Da.”
তাহসিন কিছু বুঝলো না। সে প্রশ্ন করলো, “What for?”
সার্জিল বলল, “Come on dude! How come "ekushe" slipped out of your mind?”
তাহসিন জিভ কেটে বলল, “O crap! Sorry guys. Totally forgot! Mohona is giving me hard time, and then assignments and projects…. so much stuffs going on you know…”
আয়ান বলল, “So are you in or what?”
তাহসিন এইবার জোর গলায় বলল, “Of course in. And I’m gonna sponsor the flowers to compensate, how about that?”
সার্জিল তুড়ি দিয়ে বলল, “Cool! And after that saeed meenar ceremony, we’re gonna celebrate the lunch in grand style! Panta bhat, and Ilish bhaji!"
আয়ান খিলখিল করে হেসে উঠলো। "Panta bhat, and Ilish bhaji! Are you serious dude?"
সার্জিল বুঝতে পারলো না আয়ান হাসছে কেন। "What’s wrong with that? Aren’t we suppose to eat Panta Ilish on ekushe?"
আয়ান বলল, "No Dumbo! That’s a Baisaak thing."
সার্জিল বলল, "Then what do we eat on ekushe?"
তাহসিন বলল, "I know a few restaurants offering ekushe special dishes. We should give ’em a shot."
তারপর তানজিমের দিকে তাকিয়ে বলল, "Hey Tanzim, you’re sitting quiet out there, is everything alright dude?”
তানজিমও টিভির দিকে তাকিয়ে জবাব দিল, “হ্যা সব ঠিক আছে।”
“So you are in too, right? Counting heads for ride you know. And we have to head out early to beat the traffic.”
"নাহ। আমি বাদ। তোরা যা।"
তানজিমের জবাব শুনে প্রিয়ম ভীষণ অবাক গলায় বলল, “Are you serious? You’re gonna skip the ekushey?”
তানজিম নির্বিকার গলায় বলল, "হু। চিন্তা করছি এইবার আমি তোদের সাথে শহীদ মিনারে যাব না। দরকার হলে একাই যাব, আর নাহলে না।"
সার্জিল গলার স্বর পাল্টে জানতে চাইলো, “anything happened dude?”
তাহসিনও একই প্রশ্ন করলো, “did anyone tell you anything?”
তানজিম এইবার খেলা pause দিয়ে বন্ধুদের দিকে ফিরে বলল, "আমার ধারনা, আমরা ভাষা শহীদদের ঠিক মতন শ্রদ্ধা জানাতে পারছি না। একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দিয়েই হাত ধুয়ে ফেলছি। এইটা ঠিক হচ্ছে না।"
প্রিয়ম একটু খোঁচা দিয়ে বলল, “Then what do you suggest Mr. Intellectual?”
বাকিরাও বাঁকা হাসি হাসতে লাগলো।
তানজিম বলল, "সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউররা একশো চুয়াল্লিশ ধারা এই কারনে ভঙ্গ করেননি যাতে বাংলাদেশের মানুষ বাংলায় কথা বলাকে "খ্যাত" মনে করে। সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউর এই কারনে পুলিশের গুলি বুকে নেননি যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম বছরে শুধু একদিন শহীদ মিনারে গিয়ে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো' গাইতে গাইতে ফুল দিয়ে দায়িত্ব সারে। সালাম রফিক বরকত জব্বার শফিউর শহীদ হয়েছিলেন বাংলা ভাষার জন্য। যাতে তাঁদের সন্তানরা বাংলায় কথা বলতে পারেন। তাঁরা এই কারণেই শহীদ হয়েছিলেন যাতে তাঁদের সন্তানদের মুখের ভাষার মাধ্যমে বেঁচে থাকতে পারেন। বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে নয়। পাকিস্তানি হানাদাররা সালাম রফিক বরকত জব্বার এবং শফিউরের বুকে, মাথায়, পিঠে গুলি করেও হত্যা করতে পারেনি, কিন্তু আমরা, আজকের "dude generation" তাঁদের একদম গলা টিপে হত্যা করেছি!"
তারপর একটু দম নিয়ে সে চার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে দৃঢ় স্বরে বলল, "তাই ঠিক করেছি, যতদিন বাংলা ভাষার সম্মান ঠিক মতন দিতে পারবো না, ততদিন শুধু 'cool act' করতে শহীদ মিনারে যাব না। তোরা যেতে চাস, যা।"
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×