somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যতদিন বুকের ভিতর ঐ হৃদপিন্ড দৌড়াবে, ততক্ষন আপনার থামার কোন উপায় নেই।

২৪ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এসএসসি এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের পর দেশজুড়ে মাতম উঠে। যারা জিপিএ ফাইভ পায়নি, এমনকি ৪.৮৮ বা ৪.৯৩ (জানিনা এই গ্রেড আছে কিনা) পেয়েছে, তাঁদের চেহারা দেখলে পর্যন্ত মনে হয় ফেল করেছে। পত্রিকার সাংবাদিক খুবই আগ্রহভরে তাঁদের ছবি পত্রিকায় প্রকাশ করে। দেশের সবাই জেনে যায় এই মেয়ে (ছেলেদের ছবি তোলা সাংবাদিক ভাইদের জন্য হারাম। তাঁদের ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে।) ফেল করেছে। ফেলটুশ ছাত্রী! আগামী কয়েক মাস মেয়েটির এইটাই ক্লিয়ার করতে কেটে যায় যে সে ফেল করেনি, শুধু জিপিএ ফাইভ পায়নি বলেই মন খারাপ ছিল।
আত্মীয়স্বজন সামনা সামনি তাঁর কথা বিশ্বাস করার অভিনয় করবে। এবং আড়াল হতেই বলবে, "এখনতো কত কিছুই শোনাবে। আসলে ঠিকই ফেল করেছে। পত্রিকায় কী হুদাই ছবি আসছে?"
মা বাবা থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন, ভাই ব্রাদার, প্রতিবেশী এমনকি উৎসুক জনতা পর্যন্ত তাঁদের তিরস্কার করে। সম্মিলিতভাবে জনগণ যদি এই তিরষ্কার কোন দুর্নীতিগ্রস্থ সরকারি অফিসে (যেমন সচিবালয় বা সিটিকর্পোরেশন) গিয়ে করতো, তাহলে বাংলাদেশ আজকে বিশ্বের একনম্বর দুর্নীতিমুক্ত দেশ হতো। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, এইসব হাসি মশকরা বা তিরষ্কার যারা করেন, তাঁদের ৯০%-ই এসএসসি বা এইচএসসিতে আহামরি কিছু করতে পারেননি। তাঁদের জিজ্ঞেস করুন তাঁদের রেজাল্ট সম্পর্কে - উত্তরে বলবে, "আমাদের সময়ে সিস্টেম ভিন্ন ছিল।"
ভাই, এই যুগেও আগামী যুগের তুলনায় সিস্টেম ভিন্নই হবে। সর্বযুগেই একই এক্সকিউজ। কাজেই অফ যান! কমপ্লিট অফ!
তো যাই হোক, তিরষ্কার ধ্বনি শুনতে শুনতে এই সমস্ত কিশোর কিশোরীরা মনে করে একটি পরীক্ষায় আশানুরূপ রেজাল্ট না করায় তাঁদের জীবন ব্যর্থ হয়ে গেল। এখন তাঁদের বেঁচে থাকার কোন মানে হয়না। এরচেয়ে মরে যাওয়াই উত্তম।
অনেকেই তখন আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
কিংবা ড্রাগস ধরেন। অথবা পড়ালেখা ছেড়ে দেন।
এই ছিল পাশ করা কিন্তু জিপিএ ফাইভ না পাওয়াদের কথা।
এখন যারা ফেল করেছে, তাঁদের কথা না হয় বাদই দিলাম।
আমার বক্তব্য খুবই সহজ। জীবনে যা ঘটার ঘটে গেছে। ওটা নিয়ে হাহুতাশ করলে ক্ষতির বদলে লাভের লাভ কিছুই হবেনা। মানুষই ভুল করে। আল্লাহর বান্দা আদম (আঃ) ভুল করেছিলেন বলেই আজকে আমরা পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছি। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেনই ভুল করার জন্য, এবং সেইসব ভুল থেকে শিক্ষা নেবার জন্য। নাহলে ফেরেস্তাদের মতন রোবটিক জীবন যাপন করতে হতো। ফেরেশতারা আদমকে সিজদাহ করেছিলেন, আদম (আঃ) নয়। সবাইকে এই বিষয়টাই বুঝতে হবে।
একটা ক্ষতি হয়ে গেছে বলে ব্যবসা বন্ধ করে ঘরে বসে থাকলে চলে? বরং এমনভাবে ব্যবসাকে গুছাতে হয়, যাতে এই ক্ষতিটা সহজেই পুষিয়ে ওঠা যায়।
জীবনটাও তেমনই। দ্বিগুন, তিনগুন উৎসাহ নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। তারপরেও কিছু না হলে আমাকে খুঁজে বের করতে আমার আর কোথায় প্রতিভা আছে। শুনতে খারাপ শোনালেও এইটা সত্য, সবাইকে দিয়ে পড়ালেখা হয়না। কিন্তু তাই বলে তাঁদের যে অন্য বিষয়ে প্রতিভা নেই, তেমন কিন্তু হয়। এখন আমাকেই খুঁজে বের করতে হবে, ছাইয়ের গাদার নিচে কোন রত্ন লুকানো আছে। সেটাকে তুলে এনে ঘষা মাজা করে যদি কিছু একটা করা যায়।
উদাহরণ দিলে লাখ খানেক উদাহরণ দেয়া যাবে। সেই তালিকায় আর গেলাম না।
তবে আমি এখন যাকে নিয়ে কথা বলবো, তাঁকে নিয়ে কিছু লিখতে পারায় গর্বে আমার বুক আধ হাত ফুলে যাচ্ছে, ক্যানভাস গ্রূপটি (আমার ফেসবুক গ্রুপ) গর্বিত তাঁর মতন একজন সদস্যকে নিজেদের মধ্যে পেয়ে। সে হচ্ছে ফায়সাল মোহাম্মদ ইব্রাহিম। একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।
জন্মের সময়ে যার চোখের দৃষ্টি স্বাভাবিক ছিল। তিনমাস বয়সে চিকেন পক্সের ভুল চিকিৎসায় যার চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারপরও তীব্র মানসিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, যে জয় করে চলেছে বিতর্ক, কুইজ, গান, এমনকি দাবা প্রতিযোগিতা - যেখানে তাঁর লড়াই হয় দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন প্রতিযোগীদের সাথেই।
এই তথ্যগুলো কোথায় পেয়েছি জানেন? সে নিজেই জানিয়েছে। টাইপ করে। এবং তাও আবার টাচ স্ক্রিন ফোনে!
একটা সময়ে তাঁর পরিবারের লোকজন তাঁর হাতে টাচস্ক্রিন ফোন তুলে দিতে অস্বস্তি বোধ করতো, এখন সেই তাঁর পরিবারের টেক এক্সপার্ট!
ছেলেটির দৃষ্টিশক্তি নেই। কিন্তু তাঁর যা আছে, তাই কাজে লাগিয়ে সে এগিয়ে চলেছে। এবং এই ইচ্ছাশক্তিই তাঁকে একদিন আরও অনেকের চেয়ে অনেক বেশিই সফল করে দেখাবে ইন শা আল্লাহ।
এদের হিরো না বললে কাদের হিরো বলবেন? এদের পাশে সেলফি না তুললে কাদের পাশে তুলবেন?
আপনার কী এক্সকিউজ? একটা রেজাল্টইতো খারাপ হয়েছে। হাত, পা, চোখ এবং তারচেয়ে বড় কথা মস্তিষ্কতো ঠিকঠাকই আছে। ওগুলোকে কাজে লাগান।
যতদিন বুকের ভিতর ঐ হৃদপিন্ড দৌড়াবে, ততক্ষন আপনার থামার কোন উপায় নেই। আপনাকে চলতেই হবে। যা আছে, তাই নিয়ে চলতে হবে। তারপরে একদিন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার বা তাঁর মতোই গুণী ব্যক্তিত্ব কোন পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পুরষ্কার দিতে আসবেন, এবং তাঁদের কাছ থেকে সেই পুরষ্কার গ্রহণ করবেন আপনি।
দর্শকসারিতে তখন কারা তালি বাজাবেন জানেন? আপনাকে দুয়োধ্বনি দেয়া সেই মা বাবা ভাই ব্রাদার প্রতিবেশী এবং আত্মীয়স্বজন। তাঁরাই তখন যেচে পরে আপনার পরিচয় দিয়ে গর্ব বোধ করবেন। সেদিন তাঁদের ক্ষমা করে দিয়েন। মানুষ মাত্রই ভুল করে, এবং তাঁরাও ভুল করেছিল।
সেদিন যেন ক্যানভাসে আপনার সেই সফলতার কাহিনী প্রকাশ করতে ভুলবেন না। সেদিন অবশ্যই হেসে বলবেন, "আমি কিন্তু এসএসসি এইচএসসিতে জিপিএ ফাইভ পাইনি।"
দেশে গেলে ফয়সালের মতন আপনারও পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলবো ইন শা আল্লাহ। এবং আপনার গর্বে গর্ব করবোতো অবশ্যই।
আপনার সেইদিনের সফলতার প্রতীক্ষায় রইলাম। আমাকে বেশিদিন যেন অপেক্ষা করতে না হয় সেই দায়িত্ব আপনার।
অনেক শুভ কামনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৩২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×