somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"কী লাভ হইলো স্বাধীন হয়ে?"

০২ রা জুন, ২০১৮ রাত ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে কিছু একটা হলেই অনেককে শুনি হাহাকার তুলতে "স্বাধীন হয়ে কী লাভটা হলো? এরচেয়েতো পাকিস্তান আমল ভাল ছিল।"
যারা বলছেন তাদের বেশিরভাগই পাকিস্তান আমল দেখেননি বলেই আমার বিশ্বাস। এবং আমার এও বিশ্বাস যে পাকিস্তান আমলে এরা জন্মালে বলতো, "কী লাভ হইলো স্বাধীন হয়ে? এরচেয়েতো ব্রিটিশ আমলই ভাল ছিল।"
তো যা বলছিলাম, আমের পোকা কখনই বুঝেনা আমের স্বাদ কী। কোন স্বাধীন দেশে জন্মানোর বেনিফিট বুঝতে হলে অবশ্যই পরাধীন দেশগুলির দিকে তাকাতে হবে। তারপর নিজের সাথে কম্পেয়ার করে দেখতে হবে কে কতটুকু সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। হাদিসে আছে, কখনও মন খারাপ হলে নিজের চেয়ে নিচু শ্রেণীর মানুষদের দিকে তাকিও, তাহলেই বুঝতে পারবে তুমি কত সুখী। (নিজের ভাষায় লিখলাম।)
স্বাধীনতা পরমকরুনাময়ের একটি বিশেষ দান, অশেষ রহমত, একে অস্বীকার করা আল্লাহর করুনাকে অস্বীকার করার সামিল।
ইরাকের কথাই ধরা যাক। আমাদের স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম আরব দেশ ছিল ইরাক। সাদ্দামের শাসনামলে অনেকেই তাঁর বিরোধিতা করলেও একটি বিষয়ে সবাই একমত হবেন যে তাঁর আমলে ইরাকে অন্তত শান্তি ছিল। ডেমোক্রেসির মূলা ঝুলিয়ে অ্যামেরিকা গিয়ে সেই দেশটিকে ধ্বংস করার পর থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার দেশটি আজকে একটি নরককুন্ড ছাড়া কিছুই নয়। আমাদের লোকাল মসজিদ থেকে একটি দল গিয়েছিল ইরাকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে। এসে যা বর্ননা করলেন তা ভয়াবহ।
"আমি দেখলাম দুইটি এতিম শিশু মুরগি যেমন খাবার খুটে খায়, তেমনি আস্তাকুঁড় থেকে খাবার খুটে খুটে খাচ্ছে। তাও কেমন খাবার? পাউরুটির সাদা অংশ খাবার পরে খয়েরি যে অংশ অনেকেই ফেলে দেন, কিংবা আপেল খাবার পর বিচির আশেপাশের যে অংশটা আমরা ফেলে দেই সেসব। আর হাড্ডির সাথে সামান্য মাংস পেলেতো কথাই নাই, গ্র্যান্ড ডিনার! বাচ্চাগুলোর শরীর ছিল ধূলিধূসরিত, গায়ের কাপড় শতচ্ছিন্ন, তারপরেও তাঁদের চেহারায় খুশি, কারন তাঁরা আজ খাবার পাচ্ছে। মাঝেমাঝে এমনও হয় যে আস্ত ডাস্টবিন ঘাটাঘাটি করেও খাবার পায় না।"
আমার তখন নিজের আড়াই বছর বয়সী বাচ্চার কথা মনে হচ্ছিল। খাবার পছন্দ না করলে ছুড়ে ফেলে। কান্নাকাটি করে। ধমক দিয়ে সেই ছুড়ে ফেলা খাবার তুলে খাওয়াই। এখন খাবার পাচ্ছে বলে এই নিশ্চয়তা তাঁকে কেউ দেয়নি যে ভবিষ্যতেও পাবে। যতদিন নেয়ামত আছে, ততদিন সেটার জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ।
"একটা হাসপাতালে গেলাম। দেখি শিশুওয়ার্ডে একজন ডাক্তারের কাপড় ধরে দুইজন মহিলা টানছেন, এবং চিৎকার করছেন। আমরা ঘটনা কী জিজ্ঞেস করতে ডাক্তার বললেন, "হাসপাতালে ইনকিউবেটর আছে একটি, এবং আমাদের হাসপাতালে এখন প্রিম্যাচিউরড বেবি আছে দুইটি। দুইজনেরই জীবন সঙ্কটাপন্ন, এখন আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কার বাচ্চাকে আমি এই ইনকিউবিটরে রাখবো, এবং কার বাচ্চাকে আমি মরতে দিব। এই দুই মহিলা সেই দুই বাচ্চার মা।""
কথাটি যখন ঈমাম বলছিলেন পুরো মসজিদ ফুঁপিয়ে উঠলো। ডাক্তারের অবস্থানে নিজেকে কল্পনা করুন! আর মায়েদের কথাতো বাদই দিলাম। পৃথিবীর কোন মাকেই যেন আল্লাহ এমন কঠিন পরীক্ষায় না ফেলেন। আমাদের ভাগ্য কত ভাল যে আমাদের অনেক হাসপাতালের ইনকিউবিটর শূন্য পরে থাকে।
ফিলিস্তিনে এতিম শিশুরা এখন ওয়েটিং লিস্টে থাকে। বিদেশ থেকে সাহায্য আসে যতটুকু, তার ভিত্তিতে আগে লিস্টেড এতিমদের সাহায্য করার পরে তো গিয়ে ওয়েটিং লিস্ট ধরা হয়। এরমাঝে না খেয়ে থাকলে থাকো, মরে গেলে মরে যাও।
সিরিয়ানদেরতো অবস্থা আরও করুন। সাগর সাঁতরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করেন তাঁরা। সাগরের ঢেউ বাবার হাত থেকে সন্তানকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, পরদিন লাশ হিসেবে ফেরত দিয়ে যায়। ওদেরকে যদি কেউ অপশন দেয়, সারাজীবন অর্ধপেটে থাকবে, তবু তোমাদের স্বাধীন একটি ভূখন্ড দেয়া হবে, তাঁরা সেই সুযোগটা হাসিমুখে লুফে নিবে। কিছুদিন আগে ক্যানাডা প্রবাসীহ বাঙালি কিছু কার্টুনকে সিরিয়ান রিফিউজিদের নিয়ে কটাক্ষ করতে শুনেছিলাম। মজার বিষয় হচ্ছে, এই বাঙালীগুলি কিন্তু নিজের দেশে ফেরত যেতে আগ্রহী নয়, উল্টো সিরিয়ান রিফিউজিগণ নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশের মাটিতে থাকতে আগ্রহী নয়।
যাই হোক, আমরা এখন ভয়াবহ অসভ্য সমাজে বাস করছি। এই কথা যতদ্রুত স্বীকার করে নিবেন, নিজের জন্যই তত ভাল হবে।
জ্বি, এই কথা সত্য যে উপরে যেসব সমস্যাগুলোর কথা বললাম, ক্ষেত্র বিশেষে আমাদের দেশেও এমনটা ঘটছে, কিন্তু স্বাধীন দেশ হওয়ায় ইরাক, ফিলিস্তিন, বা সিরিয়ার মতন মহামারী আকার ধারণ করেনি। ষোলো কোটির মধ্যে এক দুইলাখ মানুষকে যদি এই সব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় সেটাও অনেক ভাল যেখানে পরাধীন দেশের ৯০-৯৫% মানুষকে এমন শোষণের শিকার হতে হয়। আল্লাহ আমাদের দেশকে দ্রুত এমন সুস্থ করে তুলুন যাতে একটি মানুষকেও খালি পেটে ঘুমাতে যেতে না হয়।
রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে গিয়ে দেখুন কী অবস্থা। ওরা কিছুতেই দেশে ফেরত যেতে রাজি নয়। কেন সেটা কী একবারও জানতে আগ্রহ হয়? কারন ওদের চোখের সামনে ওদের মায়েদের ধর্ষণ করেছে, বাবাদের মেরেছে, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। কোন ভরসায় তারা ফেরত যাবে? সাপকে কী কখনও বিশ্বাস করতে আছে? আন্তর্জাতিক আশ্বাস নয়, মিয়ানমারের উপর বলপ্রয়োগ করে বিষদাঁত ভেঙে না দেয়া পর্যন্ত তাদের সেই ভরসা আপনি দিতে পারবেন না। অ্যামেরিকা এবং এর মিত্রশক্তি কড়া ধমক দিলেই মিয়ানমারের প্যান্ট ভিজে যাবার কথা। সেটা কী সম্ভব হচ্ছে?
জ্বি, আপনার ভাগ্য ভাল আপনি মায়ের পেট থেকে স্বাধীন হয়ে জন্মে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রেই বড় হয়েছেন। পৃথিবীর লাখ লাখ কোটি কোটি মানুষের সেই সৌভাগ্য হচ্ছেনা।
"আজ যদি ১৯৭১ না থাকতো তাইলে আমরাও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হতাম।" - জাতীয় আল্লাদি কথাবার্তা শুনলে তাই রাগই হয়। এদের জোর করে সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তানে পাঠিয়ে দিতে ইচ্ছে করে তখন। তখন গিয়ে বলুক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০১৮ রাত ২:২৮
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্প।। অন্ধ আয়নার গল্প।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৫







অন্ধ আয়নার গল্প
দ্বীপ সরকার


ঘরটা খুব বড় নয়। এর ভেতরে এক ধরনের নীরবতা ছড়িয়ে আছে। দেয়ালগুলোর অবস্থা এমন যে, সিমেন্ট বালু কোথাও ঝুর ঝুর করে পরছে। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না।

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না। আর এগুলো কোন কিছুই তার বানানো না। একেকটির বয়স শত বছর থেকে কিছুর ইতিহাস হাজার বছরের ও।
যদিও সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদীর টানে, সবুজের গানে

লিখেছেন মাকার মাহিতা, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫

বয়ে চলে নদী দূর হতে দূরে,
অনন্তকালের শান্ত এক সুরে।
তার দুই কূলে রূপের মেলা,
সবুজ প্রকৃতির মিষ্টি খেলা।
হাওয়ায় দোলে ঘাস আর বন,
আকাশের সাথে মেলায় মন।
নদীর জলে আলোর ঝিলিক,
বাতাসে মেশে পাখির কিচিরমিচির।
গাছের ছায়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৩)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩

৩. নিষিদ্ধ স্বর্গ


পরদিন দুপুরবেলা। ইলির আকাশ আজ কিছুটা পরিষ্কার, মেঘের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে রোদ উঁকি দিচ্ছে।
ক্লারা তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিসের ডেস্কে বসে কফি খাচ্ছিল। গতকাল ব্যাংকের সেই তরুণ এশীয় অফিসারটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×