somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওহে বাংলাদেশী! চিনে রাখো নিজের শত্রুদের।

১৪ ই জুন, ২০২০ সকাল ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

করোনা একটি অতি ক্ষুদ্র জীবাণু। এমন ভাইরাস, যার ভয়ে আমরা সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও বাড়িতে লুকিয়ে আছি। বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হোক, সবচেয়ে ধনী দেশ হোক, কিংবা মধ্যম আয়ের দেশ, কাউকেই সে ছাড় দিচ্ছে না। রাস্তার ভিখিরি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধান, হলিউড সেলিব্রেটি, ক্রীড়াজগতের মহা তারকা, কাউকেই বাদ রাখছে না। আমাদের ধারণা এই মুহূর্তে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। কিন্তু এর ফলে যে আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রুর উপর থেকে আমাদের ফোকাস সরে যাচ্ছে, সেটাই বুঝতে পারছি না।

ভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা আমাদের দেশে প্রচার হতে না হতেই পাঁচ টাকার মাস্কের দাম পনেরো টাকা হয়ে তিরিশে গিয়ে ঠেকলো। দ্বিগুন, তিনগুন, চতুর্গুণ হয়ে গেল হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ডেটল বা স্যাভলনের দাম। এমনকিছু, যার ফলে করোনা মুক্তির বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা থাকে, সবকিছুই ধরাছোঁয়ার বাইরে গেল। মাঝে গুজব রটলো কালিজিরায় কাজ হয়, অমনি বাজারে দাম দ্বিগুন হয়ে গেল।

সংকট পড়লো খাদ্যের। লোকজন মজুদ করতে শুরু করলেন। প্রয়োজন নেই, বাড়িতে জায়গা নেই, পঁচে যাবে, এক্সপায়ার করবে, তারপরেও মজুদ করতে হবে। দ্রব্যমূল্যে তাই আগুন ধরে গেল। সব চলে গেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এইসব কোন কাফের নাসারা ষড়যন্ত্রে ঘটেনি, ঘটেনি কাঁটাতারের ওপারের কোন শত্রুর কারসাজিতে। এসব ঘটিয়েছে আমাদেরই দেশের কলিমা পড়া মুসলমানেরা। আমাদের বাঙালি ভাই ব্রাদারেরা।

যখন জানা গেল হসপিটালে জায়গা নেই, বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা করানো হচ্ছে, এবং সেজন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন, আমরা প্রথম সুযোগেই অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দিলাম। করোনা ভাইরাস আমাদের মারবে কি? আমরা নিজেরাই নিজেদের মারতে যথেষ্ট।

গরিব মানুষ এত টাকায় অক্সিজেন কিনতে পারবে? অবশ্যই না। তাহলে উপায়? মরো বাঙালি মরো! জন্মের পরে যে এতদিন বেঁচে ছিলে, এইতো অলৌকিক কান্ড!

পকেটভর্তি টাকা নিয়েও হাসপাতালে সিট পাওয়া যাচ্ছে না। কোটি কোটি টাকার মালিক, বেঁচে থাকতে ভোগবিলাসীতায় টাকা খরচ করলেও একবারও চিন্তা করেননি দেশের চিকিৎসাখাতের উন্নয়নে খানিকটা খরচ করলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকদূর এগিয়ে যেত। স্বাধীন হবার পর থেকে দেশের সবচেয়ে অবহেলিত সেক্টরের নাম বোধয় চিকিৎসা। আমাদের বাজেটে জনপ্রতি চিকিৎসা খাতের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার পরিমান আধুনিক বিশ্বের যে কারোর চোখ কপালে তুলে দিতে যথেষ্ট। কোন সরকারের সময়েই, কোন মন্ত্রীই এই ব্যাপারে নজর দেননি। কারন তারা সর্দি কাশি হলেও স্বপরিবারে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করেন, অথচ তাদের ভোট দেয়া জনতা বিনা চিকিৎসায় মরে। বিদেশে কুকুর বেড়ালও যা চিকিৎসা পায়, আমাদের দেশের মানুষ সেই সেবা পায় না। আমাদের মরার জন্য করোনা ভাইরাসের প্রয়োজন হয়? না। আমরাই আমাদের খুনি।

ওহে বাংলাদেশী! চিনে রাখো নিজের শত্রুদের। করোনা নয়। আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু আমরাই।

যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা মানবিক দুর্যোগের ফায়দা তুলে নিজেদের কোষাগার সমৃদ্ধ করতে চায়, জেনে রাখুক, প্রতিটা টাকার জন্য আল্লাহ তাদের দোজখে পুড়াবেন। এই টাকা হজম হবেনা।

যারা এই দুঃসময়েও বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে রুক্ত চুষে খায়, তারা মানুষ না, ওরা মুখোশধারী পিশাচ, ইবলিসের পূজারী।

যারা দায়িত্বশীল পদে থেকে দুর্নীতি করে করে আমাদের এই অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়, ওরা জেনে রাখুক কবর তার মুখ হা করে ওদের অপেক্ষায় আছে, কোথায় পালিয়ে বাঁচবে তারা? কতদিন পালিয়ে থাকবে? পুরো পৃথিবী সমান সম্পদ, এবং তারও দশগুন নিয়ে যদি কেউ হাজির হয়, তাদের কি ধারণা শেষ বিচারের আদালতে ওদের ছাড় দেয়া হবে?

হে বাঙালি! এই দুর্যোগে একটুতো দয়া করো! ভাইয়েরা! কিছুদিনের জন্য হলেওতো মানুষ হও! একবারের জন্য হলেও চিন্তা করো কিছুদিনের মধ্যেই আমি তুমি আমরা সবাই মারা যাব, তাহলে কেন এত লোভ? কার জন্য? যে সন্তানদের জন্য সম্পদ ছেড়ে যাবে, ওরা নিজেরা নিজেরাই সেটার ভাগ নিয়ে মারামারি কাটাকাটি করে মরবে। তাহলে কেন টাকার কাছে এইভাবে নিজেকে বিক্রি করা? তোমার কাফনে কি পকেট থাকবে? আমার কাফনেতো থাকবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০২০ সকাল ১০:১৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×