somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্রিটিশ সিরিজ "দ্য ক্রাউন" এবং আমাদের "ইতিহাস" নিয়ে ছেলেখেলার অভ্যাস

১২ ই মার্চ, ২০২১ রাত ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নেটফ্লিক্সে একটি সিরিজ আছে, দ্য ক্রাউন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাহিনী। পুরানো রূপকথা না, রাজপরিবারের বর্তমান গদিনশীন রানী এলিজাবেথ ও তাঁর পরিবারকে ঘিরেই ঘটনা প্রবাহ এগিয়েছে। নানা কারনেই সিরিজটা আমি দেখি। একদম প্রথম সিজন থেকেই। প্রথমত, আমাদের ভারতবর্ষের ইতিহাসের সাথে এই পরিবারটি সরাসরি যুক্ত। ছোটবেলা থেকে আমাদের যত ইতিহাস পড়ে বড় হয়েছি, এর সিংহভাগেই এই পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত। সিরিয়ালে সাথে যুক্ত হয়েছে চার্চিল, মাউন্টব্যাটেন, মার্গারেট থ্যাচার, প্রিন্স চার্লস, লেডি ডায়ানা সহ চিরপরিচিত সব চরিত্র। ইতিহাস বই খুললেই আরও যাদের নাম উঠে আসে বারবার, তাঁদেরও ছিটেফোঁটা পাওয়া যায় এই সিরিজে। সাথে এই সিরিজের সেটের ভূমিকাও আছে। ইন্টেরিয়রের প্রতি আমার জন্মগত ভীষণ দুর্বলতা কাজ করে। রয়াল ইন্টেরিওর দেখার লোভ সামলাই কি করে?

এখন একজন উপমহাদেশের দর্শক হিসেবে আমি চিরকাল দেখে এসেছি যখনই জীবনীভিত্তিক কোন সিরিজ বানানো হয়, তখন নায়ক নায়িকাকে একেবারে দেবতার আসনে বসানো হয়। ইন্ডিয়ার কথাই ধরা যাক। কোন ঐতিহাসিক চরিত্রের জীবনীর উপর ভিত্তি করে সিনেমা বানালে অবশ্যই দেখাবে সেই চরিত্র খুবই প্রজাভক্ত রাজা/রানী ছিলেন। প্রজাদের দুঃখে কষ্টে উনার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যেত। নিজের গায়ের শাল খুলে বস্ত্রহীন প্রজার গায়ে পরিয়ে দিচ্ছেন, অথবা বিলাসী রাজ অন্ন ত্যাগ করে সাধারণ প্রজাদের সাথে বসে গেছেন সাধারণ খাবার খেতে। বিভিন্ন পার্বনে তাঁরা প্রজাদের সাথে গিয়ে নাচ গানেও অংশ নিতেন। মাথা চুলকেও ভেবে কূল কিনারা করতে পারবেন না যে বিনা রিহার্স্যালে এত সুনিপুনভাবে দলীয় নৃত্য কিভাবে সম্ভব!
বাহুবলি জাতীয় সিনেমাতো কয়েক মাইল এগিয়ে। রাজা শুধু ওয়ারিয়রই না, একই সাথে বিজ্ঞানী, ফিলোসফার, প্রজাদরদী, সাম্যবাদী, নারীঅধিকার কর্মী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ম্যাথম্যাটেশিয়ান ইত্যাদি ইত্যাদি। মানে একই ব্যক্তির মধ্যে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, এরিস্টটল, প্লেটো, সক্রেটিস সবাইকে গুলে ফেলে খাইয়ে দেয়া হয়েছে।

বাস্তবতা যাই হোক না কেন, সিনেমায় এমনটা দেখাতেই হবে। নাহলে পাবলিক খাবেনা।
এসব সিনেমার সেট দেখে খুব মজা পাই। দেখি যে প্রজাদরদী রাজা আলিশান প্রাসাদে থাকছেন, আর তাঁর প্রজারা সব মাটির ঘরে। এইটা দেখে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঘটনা মনে পড়ে যায়।
যখন তিনি পোপের সাথে দেখা করতে ভ্যাটিকানে যান, তখন পোপ খুব দুঃখিত স্বরে পৃথিবীর ক্ষুধার্ত মানুষদের কথা ব্যক্ত করছিলেন।
ডিয়েগোর কাছে এটি স্রেফ আলগা আহ্লাদীপনা ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি। তিনি সরাসরিই বলে দিয়েছিলেন, "এই ভবনের সোনার ছাদ বিক্রি করে ওদের মুখে অন্ন তুলে দিন তাহলে।"
আশৈশব দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে ক্লান্ত ডিয়েগো এইসব ভণ্ডামি দুই চোখে দেখতে পারতেন না।
বলিউড সিনেমায় ডিরেক্টররাও মনের অজান্তেই নিজেদের হিরো রাজাদেরও এমনই ভন্ড হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ইতিহাস যদি বলে থাকে কোন রাজা বাঈজী নাচাতেন, তাহলে সেটা তুলে ধরতে আমাদের সমস্যাটা কোথায়? আমার মতে আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্ট। কিন্তু বাস্তব জীবনে তিনি প্লেবয় ছিলেন। এতে সমস্যাটা কি? প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর অবদান নষ্ট হয়ে যাবে? আমার মতে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত অমানুষটির নাম এডল্ফ হিটলার। নৃশংস নরকের কীটটাকে আল্লাহ পরকালে কি কঠিন শাস্তি দেন সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। তা এই বদমাইশটা একই সাথে একজন নিষ্ঠাবান প্রেমিক ও চিত্রশিল্পী ছিল। অবশ্যই এটি গুন। প্রকাশ করতে সমস্যা কোথায়? দোষে গুনেই মানুষ হয়। কোনটা কাকে ছাপিয়ে যায় তার উপর ভিত্তি করেই না চূড়ান্ত বিচার করা হয়।

উপমহাদেশের উপস্থাপনে আরও বিরক্তিকর ঘটনাও আছে।
ক্রাউন যেমন এখন পর্যন্ত চার সিজনের চল্লিশ পর্ব দেখিয়ে ঘটনার প্রবাহকে প্রায় বিশ-তিরিশ বছর এগিয়ে নিয়ে গেছে। সিজন ওয়ানের সেই অনভিজ্ঞ তরুণী রাজকুমারী সিজন চারে এসে এখন পরিণত ও অভিজ্ঞ পূর্ণবয়স্কা মহারানী।
ইন্ডিয়াতে একটা সিরিজ শুরু হয়েছিল "পেশোয়া বাজিরাও" নামে। একশো পর্ব যায়গা শালার বাজিরাও বড়ই হয় না। ঘুরায় ফিরায় সেই একই কাহিনী, মোঘলরা খুব খ্রাপ, হ্যাতেরা খুব ভালা। মোঘল সেনাপতির পোলার সাথে বাজীরাওর ছোটবেলা থেকেই দা কুমড়া সম্পর্ক। ছোটবেলা থেকেই তার রক্তে দেশপ্রেম টগবগ করে ফুটছে। আর বন্ধু মহলে সে বরাবরই নেতা, বাকিরা কেউই বেস্ট ফ্রেন্ড না, একদম চামচা শ্রেণীর চামচা। মানে, আমরা ছোটবেলায় বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে বড় হই। ভালবাসা হয়, তর্ক হয়, মারামারি হয়, ভাবও হয়ে যায়। এই নায়করা ছোটবেলা থেকেই এমন চামচা কোত্থেকে পেয়ে যায়? যাই করে চামচায় কয়, "বাজিরে বাজি!"
যুদ্ধের আগে বাজিরাওর বাপে বড়দের মধ্যে চেতনাময়ী বাণী ছাড়ে, মায়ে মেয়েদের মধ্যে চেতনাময়ী বাণী ছাড়ে, পোলায় শিশুদের মধ্যে চেতনাময়ী বাণী ছাড়ে.....মাঝে মাঝেতো মনে হয় টিভির পর্দায় ঢুকে গিয়ে বলি, "ok we get it, এখন যুদ্ধ শুরু কর ব্যাটা *ল!"
উল্টা ঘটনা দেখবেন যদি মুঘলদের নিয়ে কোন সিরিজ তৈরী হয়। তখন দেখবেন মুঘল সম্রাটরাও জনদরদী। ওদের চরিত্রেও কোন দোষ ত্রুটি নেই। যেখানে সেখানে বিয়ে করা ও প্রচুর উপপত্নী রাখা আকবরের "প্রেম কাহিনী" নিয়ে বানানো হয় "যোধা আকবর!" সেটা দেখলে লোকজন গদগদ হয়ে ভাবে "আহারে প্রেম! আহারে!"

তা ক্রাউন সিরিজে এইসব কার্টুনগিরি করেনাই। ব্রিটিশদের চোখে দেবতার আসনে আসীন রাজপরিবারের আলো ঝলমলে ঝাড়বাতির পেছনেই যে গহীন অন্ধকার দিকটা আছে, সেগুলোও তুলে আনা হয়েছে অবলীলায়। রাজপরিবার লোক মানেই ঈশ্বরের আশীর্বাদপুষ্ট কেউ নয়, ওদেরও মানবিক দিক আছে, ওরাও পরকীয়ায় জড়ায়, ওদেরও হৃদয় ভাঙ্গে। সবচেয়ে বড় কথা, ওরাও ভুল সিদ্ধান্ত নেয় - মাঝে মাঝে যা অপরাধতুল্য। বিশেষ করে ওদের পরিবারে জন্মানো প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি তাঁদের আচরণ কোন পর্যায়ের এবং কেন তা জানলে শিউরে উঠবেন!
যে কারনে সিরিজটা ভাল লেগেছে বা লাগছে তার প্রধান কারন এইটাই যে এখানে ভণ্ডামি করা হয়নি। বিস্ময়কর ঠেকতে পারে এই জেনে যে এর লেখক, প্রোডাকশন কোম্পানি সবই ব্রিটিশ। আমেরিকান প্রোডাকশন হলে বলতে পারতেন বিদেশী রাজপরিবার নিয়ে এমন সিরিজ দেখানোতে হ্যাডমের কিছু নেই। আমরাও পারি। কিন্তু যে দেশে বাস করেন, তাদেরই বর্তমান রাজপরিবার নিয়ে এমন সিরিজ বানাতে হলে কলিজা দরকার। শুধু প্রভাবশালী রাজপরিবারই নয়, মাথায় রাখতে হয় দর্শকের চিন্তাও। কয়েক শতাব্দী ধরে যারা পূজনীয় স্থানে ছিলেন, তাঁদের এইসব ঘটনা গ্রহণ করতে পারবেতো দর্শক?
হয়তো ১০০% সত্য ঘটনা দেখানো হচ্ছে না, যা সম্ভবও নয়, খোদ রানী নিজেও পরিচালক হলে সব সত্য তুলে আনতে পারতেন না। তবু এই সিরিজের পাত্রপাত্রীদের রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে পরিবেশন করা হচ্ছে। কখনও কখনও প্রিন্স চার্লসকে আপনি গালি দিয়ে বসবেন, একই সাথে তাঁর অবস্থান থেকে চিন্তা করে বেচারার জন্য সহানুভূতিও অনুভব করবেন। একই ব্যাপার প্রতিটা চরিত্রের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এই যে প্রিন্সেস ডায়ানার অসম্ভব জনপ্রিয়তার কারনে ব্রিটিশদের চোখে ক্যামিলা ও প্রিন্স চার্লস এত বছর ধরে চেষ্টা করে এসেছেন প্রজাদের মন জয়ের, সব পরিশ্রমে পানি ঢেলে দিয়েছে এই সিরিজটা। তারপরেও রাজপরিবার কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে সিরিজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। "বিশেষ-অজ্ঞ" বুদ্ধিজীবী সহমত ভাইয়েরা এই সিরিজের মুন্ডুপাত করে ফেসবুকে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন স্ট্যাটাস দেয়নি। সিরিজটি রাজপরিবারের ভাল লাগেনি, সত্য। লাগবার কথাও নয়। কিন্তু রানীর মন্তব্য কি ছিল জানেন? শুধু একটু উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন সাধারণ জনগণ না এর প্রতিটা ঘটনাকেই "সত্য" হিসেবে ধরে নেন। এবং তাঁর স্বামীকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে (প্রিন্স চার্লসের ব্যাপারে "insensitive") এমনটা করা উচিৎ হয়নি। ব্যস! এই পর্যন্তই।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের উপমহাদেশে এমনটা কখনও সম্ভব?
ধরেন আমি নবাব সিরাজুদ্দৌলার উপর একটা সিরিজ বানাচ্ছি। যেখানে শুরু করছি সেই নবাব আলীবর্দী খানের জীবন থেকে। যিনি ছিলেন নবাব সুজা উদ্দিনের একান্ত বিশ্বস্ত, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর পুত্র নবাব সরফরাজ খানের সাথে যুদ্ধ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন। বিষয়টা শুনে বর্তমান যুগে আমাদের কাছে "বিশ্বাসঘাতকতা" মনে হতে পারে, কিন্তু সেযুগে এটাই নিয়ম ছিল। যে ফিট, যার শক্তি আছে, সেই "যোগ্য" ছিল নবাবীর জন্য। সরফরাজের তুলনায় অবশ্যই আলিবর্তী খাঁ যোগ্যতর ছিলেন। প্রমান পাওয়া যায় মারাঠাদের ঠ্যাঙ্গানোতে। জ্বি, সিরিয়াল "পেশোয়া বাজিরাও"র সেইন্ট মারাঠারা আলীবর্দী খান জীবিতাবস্থায় লুটতরাজের উদ্দেশ্যে বারবার বাংলায় আক্রমন চালায়, এবং প্রতিবারই তিনি তাঁদের শূন্য হাতে বিদায় করতে সক্ষম হন। এবং এই সব যুদ্ধে তাঁর সহায়ক কে ছিলেন বলেনতো? মীর জাফর! জ্বি, বাংলা তথা গোটা উপমহাদেশের কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর প্রথম জীবনে একজন সুনিপুন জেনারেল ছিল। লুটেরা মারাঠাদের বিরুদ্ধে একের পর এক জয়ের পেছনে ওর অবদান অস্বীকারের উপায় নেই। যে কারনে সে ছিল নবাব আলীবর্দীর "বিশ্বস্ত", যে কারনে আলীবর্দী খান নিজের সৎ বোনের সাথে ওর বিয়ে দিয়ে পরিবারের সদস্য করে ফেলেন। শুধু শুধু কি সে এত উপরে উঠে এসেছিল? শুধু শুধু কি পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ ওকেই সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন?
মারাঠাদের বিরুদ্ধে এই ক্রমাগত সাফল্যই এক সময়ে মীর জাফরকে ক্ষমতালোভী করে ফেলে। এতটাই যে বৃদ্ধ নবাব আলীবর্দী খান যখন তরুণ সিরাজউদ্দৌলাকে বাংলার নবাব নিযুক্ত করেন, বিষয়টা তার ভাল লাগেনি। সে হয়তো আশা করেছিল সেই নবাব হবে। বংশ ছাড়া সিরাজের বয়স, চরিত্র, অভিজ্ঞতা কোনটাই নবাব হবার পক্ষে যৌক্তিক ছিল না। আকবরের ক্ষেত্রে যেমনটা আমরা দেখি, শিশু বয়সেই তাঁকে মসনদে বসিয়ে দেয়া হয় এবং বৈরামখাঁ তাঁকে আগলে রেখে রাজকার্য পরিচালনা করেন। আকবরের আকবর দ্য গ্রেট হবার পেছনে বৈরামখাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ইচ্ছা করলে নিজেই ক্ষমতা দখল করে ভোগ করতে পারতেন। যা তিনি করেননি।
মীর জাফর বৈরামের মতন মহান ছিল না।
সিরাজ ক্ষমতায় এসে আরেক তরুণ মোহনলালকে মীর জাফরের উপর প্রাধান্য দিলে আগুনে আরও ঘি ঢালা হয়ে যায়। সে সুযোগ খুঁজতে থাকে সিরাজকে পরাস্ত করার। ওর পথ আরও সহজ করে দেয় সিরাজের কিছু কর্মকান্ডও, যেমন জগৎ শেঠকে দরবারে সবার সামনে চড় মারার ঘটনা। জগৎশেঠ তখন গোটা উপমহাদেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। ওর বাড়িতেই ছিল টাকশাল, ওর বাড়ি থেকেই মূলত উপমহাদেশের ইকোনমি নিয়ন্ত্রিত হতো। বয়ঃজ্যেষ্ঠ এই লোকের প্রতি তরুণ নবাবের এমন ধৃষ্টতা ওঁর বিরুদ্ধে সিনিয়রদের অসন্তুষ্টির আগুনকে আরও উস্কে দেয়। যার ফল আমরা দেখতে পাই পলাশীর প্রান্তরে। পঞ্চাশ হাজার সেনা নিয়েও ক্লাইভের গুটিকয়েক সেনার বিরুদ্ধে লড়তে ব্যর্থ হয় নবাব বাহিনী। যুদ্ধে এগিয়ে থাকার পরেও বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের পরামর্শে অনভিজ্ঞ নবাবের হঠাৎ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করাটাই উপমহাদেশের ইতিহাস পাল্টে দেয়। পরের ঘটনা আমরা সবাই জানি। যা জানিনা তা হচ্ছে নবাবের ব্যক্তিগত চরিত্র। যেমন ফৈজী বাঈকে হত্যা।
উপমহাদেশের বিখ্যাত সুন্দরী ফৈজী বাঈকে পেতে তরুণ রাজপুত্র সিরাজ নবাব আলীবর্দী খাঁর কাছ থেকে তখনকার যুগে এক লাখ টাকা (বর্তমানে কত শ কোটি টাকার সমান কে বলতে পারে!) নিয়ে দিল্লির বাদশাহর দরবারে লুটিয়ে দিয়েছিলেন। জ্বি, "জনগনের টাকা" ক্ষমতাধররা বরাবরই নিজেদের শখ আহ্লাদ পূরণে উড়িয়েছেন। রাজতন্ত্রের বদলে গণতন্ত্রের আগমনেও এর হেরফের ঘটেনি।
যাই হোক, এত কিছুর পরেও তকদিরে ফৈজির ভালবাসা জুটলো না। মেয়েটা মন দিয়ে বসলো সিরাজেরই ভগ্নিপতি সৈয়দ মোহাম্মদ খাঁকে।
একদিন হাতেনাতে ধরা পড়ায় মোহাম্মদ খাঁ প্রাণভয়ে মুর্শিদাবাদ ছেড়ে পালায়, কিন্তু অবলা অসহায় ফৈজী সিরাজের হাতেই ধরা পড়ে। ক্রোধে উন্মাদ সিরাজ ফৈজীকে মুর্শিদাবাদে বন্দি করে চারপাশে দেয়াল তুলে জীবন্ত কবর দেয়।
ইতিহাস বইতে লেখা আছে এই কাহিনী। আমি মোটেও বানিয়ে বলছি না। (সূত্র: "সিয়ার উল মুতাক্ষরীণ" - সৈয়দ গোলাম হোসেন খান তবতবায়ি; "মুর্শিদাবাদ কাহিনী" - শ্রী নিখিল নাথ রায়; "বাঙ্গালার ইতিহাস, অষ্টাদশ শতাব্দী -নবাবী আমল" - কালী প্রসন্ন বন্দোপাধ্যায়; "মুর্শিদাবাদ থেকে বলছি" - কমল বন্দ্যোপাধ্যায়; "নবাব সিরাজউদ্দৌলা" - রবীন্দ্রনাথ দাস।)

কথা হচ্ছে, এই ঘটনাগুলো যদি টিভিতে দেখাই, পাবলিককি সেগুলো হজম করতে পারবে? আমি সেই আড়াইশো বছর আগের নবাবকে নিয়ে "সত্য" ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিরিজের কথা বলছি, যেখানে নবাবের বিরুদ্ধে ঘটা ট্র্যাজিডির পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত চারিত্রিক দুর্বলতাও তুলে ধরে তাঁকে "নায়ক" নয়, "রক্তমাংসের মানুষ" হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছি। কিন্তু সেটাই পাবলিকের বদ হজম হয়ে যাবে। আর যদি বর্তমান গদিনশীন কাউকে নিয়ে কিছু বলারতো প্রশ্নই উঠে না। ডিজিটাল সুরক্ষা আইন আমার মাম্মি ড্যাডি এক করে দিবে। চ্যালা চামচাদের কথা বাদই দিলাম।

আমাদের দেশই বোধয় পৃথিবীর বুকে একমাত্র দেশ যাদের ইতিহাস রাষ্ট্র ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে বদলে যায়।

অতি সম্প্রতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিল প্রসঙ্গই নেয়া যাক।

জিন্দেগীভর জেনে এসেছি তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার। বঙ্গবন্ধু সরকার নিজে তাকে বীর উত্তম খেতাব দিয়েছেন। এখন শুনি উনি মুক্তিযোদ্ধাই না। উনি আসলে পাকিস্তানের এজেন্ট। এছাড়া পঁচাত্তর সালে জাতির পিতা হত্যা ঘটনায়ও ছিল তার ভূমিকা।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, পঁচাত্তরের ট্রাজেডি কি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাল্টে দেয়? সেটা সম্ভব? অতীতকে মুছে ফেলা সম্ভব? সেটা কি উচিৎ? কুখ্যাত মীর জাফর ছিল মারাঠাদের বিরুদ্ধে একাধিক লড়াইয়ের "ম্যান অফ দ্য ম্যাচ" - পলাশীর ঘটনা কি এই ইতিহাস পাল্টে দিয়েছে? বরং ইতিহাসকে অবিকৃত রাখলেই কি আমরা মানবজীবনের চরম শিক্ষাটা পাই না যে, যে আজ মহানায়ক, কাল সে খলনায়ক হতেই পারে? আবার ফৈজী বাঈ নাটকের খলচরিত্র সিরাজই পলাশীর ঘটনার ট্র্যাজিক হিরো?
মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল চরিত্রের অধিকারী। পঁচাত্তর সমসাময়িক ও এর পরবর্তী সময়ে একেকজনের ভূমিকার উপর যদি মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিল হওয়া নির্ভর করে তাহলেতো ঠক বাছতে গাঁও উজাড় হয়ে যাবে। আমাদের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানীর খেতাবও বাতিল করতে হবে। তিনিই কি মোস্তাক সরকারের সামরিক উপদেষ্টা ছিলেন না? এবং সাথে আরও অনেকের। অনেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অতি কাছের লোকও ছিলেন এবং আছেন। সম্প্রতি ইন্তেকাল করা এইচ টি ইমাম সাহেব কি মোস্তাকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেননি? এতে তিনি যে মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের কেবিনেট সেক্রেটারি ছিলেন, সেই সত্য বাতিল হয়ে যাবে? কিংবা মৃত্যুর আগে তিনি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পলিটিক্যাল এডভাইজার, এই কৃতিত্ব?

জিয়ার খেতাব বাতিল নিয়ে বিএনপির নিজেদের লোক বাদে কেউ কিছু বলবে না। কারন জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। কিছু বলতে গেলে আপনাকে লোকে "বিম্পি জামাত" ট্যাগ দিয়ে দিবে। নেতারা তেড়ে এসে বলবে, বঙ্গবন্ধুর খুনির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছি! আমাদের আর্মি জেনারেল যেমন ছোট বাচ্চাদের মতন ঘোষণা দিয়েছেন "আমার বিরুদ্ধে কিছু বলা মানে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বলা!" (হাহাহাহা) তেমনই নেতারা বলবেন জিয়ার খেতাব বর্জনের বিরুদ্ধে বলা মানে জামুকার বিরুদ্ধে বলা, মানে "রাষ্ট্রের" বিরুদ্ধে বলা, মানে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বলা, মানে "নব্য রাজাকার!" কার ঠ্যাকা পড়েছে এই যুগে এই ট্যাগ খাওয়ার?
খেতাব বাতিল প্রসঙ্গে যুক্তিগুলো যৌক্তিক না। উনারা বলছেন নোবেলও বাতিল হয়ে থাকে এবং পিএইচডিও কেড়ে নেয়া হয়।
নোবেল বাতিলের ঘটনা আজ পর্যন্ত ঘটেনি, সেটা ওদের নিজেদের আইনেই সম্ভব নয়। যে কারনে মিয়ানমারের নেত্রী আং সু চির নোবেল শান্তিতে প্রাপ্ত পুরস্কার নোবেল কমিটি বাতিল করেনি, রোহিঙ্গা গণহত্যায় সে জড়িত থাকার পরেও।
আর পিএইচডি ডিগ্রি তখনই বাতিল হয়, যখন কেউ চিটিং করে। মানে অন্যের লেখা নিজের নামে চালিয়ে দেয় (ফেসবুকে নিয়মিত ঘটনা)।
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিল কেবলমাত্র তখন প্রযোজ্য যখন অকাট্যভাবে প্রমাণিত হবে যে সে আসলে মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। বঙ্গবন্ধু বা যে কারোর হত্যায় যদি কেউ জড়িত থাকে, তবে তাকে সেই হত্যার জন্য বিচার করে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে, কিন্তু তাই বলে অতীতের কৃতকর্ম মুছার চেষ্টা করাটা বোকামি।
মোহাম্মদ আশরাফুল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ম্যাচে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা ইনিংসটি খেলেছে। পরবর্তীতে ম্যাচ পাতিয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে। কিন্তু তার সেদিনের সেই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ এওয়ার্ড বা সেই ইনিংসটির রেকর্ড মুছে ফেলার চেষ্টা করেনি। সহজভাবে বুঝিয়ে অভ্যাস, তাই ক্রিকেটের উদাহরণও টেনে আনলাম।
"আইন-নিয়ম-কানুন" ইত্যাদি যে সবার জন্যই সমান হওয়া প্রয়োজন, এই সহজ সরল কথাটাই কেউ মানতে চাইবে না। এক নিয়মে কেবল কয়েকজনের খেতাব কেড়ে নিবেন আর বাকি দুনিয়ার সবার খেতাব রেখে দিবেন, তাহলে সেই নিয়মের কারনেই একদিন আপনারাও ধরা খাবেন।
আওয়ামীলীগের বর্তমান নেতাকর্মী, যারা প্রধানমন্ত্রীর এটেনশন পেতে এখন বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু বলতে বলতে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলছেন, পঁচাত্তরে ওদের নিজেদের ভূমিকাও যে খুব প্রশংসনীয় ছিল তাওতো না। ঘন্টার পর ঘন্টা তাঁর লাশ সে বাড়িতে পড়ে ছিল, দাফন কাফনের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। তাঁর মৃত্যুতে আনন্দ মিছিল করেছেন অনেকেই, (পরবর্তীতে তওবা করে গুনাহ মাফ করিয়ে আওয়ামীলীগের খাতায় নামও লিখিয়েছেন), কিন্তু তখন প্রতিবাদ মিছিলের সাহস করেছিলেন কয়জন? রেডক্রসের দান করা কাপড়ে কাফন হয়েছিল শেখ পরিবারের সদস্যদের, তাঁদের জানাজায় দাঁড়ানোর সাহস করেনি কেউ। এখন আসছেন প্রতিবাদী নেতাগিরি ফলিয়ে সেই ইতিহাস পাল্টে দিতে?

যাই হোক আমাদের ইতিহাস নিয়ে সিরিজ বানালে এই নেতারাই আমাকে ধরে নিয়ে যাবে। বলবে "দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছি" - এবং সহমত ভাইয়েরা "ঠিক ঠিক" বলে ফেসবুকে জ্বালাময়ী স্ট্যাটাস দিবে।
পুলিশ পিটিয়ে প্রথমে কানের পর্দা ফাটাবে, তারপরে মেরে ফেলবে।

যাই হোক, বঙ্গবন্ধুর জীবনীর উপর সিনেমা তৈরী হচ্ছে। কতটা সৎ থাকবে বা থাকতে দেয়া হবে আল্লাহ মালুম! আমার মতে সিনেমা না বানিয়ে বিগ বাজেট একটা সিরিজ বানালে ভাল হতো। অনেক ডিটেইল এখানে তুলে আনা যেত। তাঁর "অসমাপ্ত আত্মজীবনীর" উপর ভর করেই কাজটা করলে ভাল হতো। কারন সমস্যা হচ্ছে, তাঁর মৃত্যুর পরে অনেকেই নিজেদের স্বার্থে লিখবেন "মুজিব ভাই থাকতে আমি তাঁর জন্য এই করেছি ঐ করেছি" ইত্যাদি - সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের উপায় নেই। ইতিহাস নির্ভর কোন প্রামাণ্যচিত্র বা সিনেমায় ফিকশন ঢুকানো বা অর্ধসত্য উপস্থাপন উচিৎ না। ইতিহাসকে ইতিহাসের মতোই ছেড়ে দেয়া উচিৎ, নাহলে আমরা যে বলি "ইতিহাস থেকে আমরা কিছু শিখিনা," সেটার কোন ভিত্তি থাকে না। পুরোপুরি সত্য ইতিহাস না জানলে আমরা শিখবো কিভাবে?

ক্যানভাসে আমাদের এক অতি পরিচিত আর্টিস্টকে পুলিশ ডেকে নিয়ে তাঁর আঁকা ছবির ব্যাখ্যা চেয়েছিল। কেন, কিভাবে ইত্যাদি ব্যাখ্যা করতে করতে বেচারা একবার ভেবেছিল বিদেশ ছেড়ে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্তটা আত্মঘাতী ছিল কিনা। ফুল লতাপাতা আঁকার জন্য তাঁর জন্ম হয়নি। সে জন্মেছে শিল্পের মাধ্যমে সমাজকে তুলে ধরার জন্য। সেটা কি তাঁর মাতৃভূমি তাঁকে করতে দিবে?
আমার অবশ্য এইসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করে লাভ নেই।
আমি বরং ব্রিটিশ সিরিয়াল দ্য ক্রাউনই দেখি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৯:৫৭
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×