somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঙালি বিয়ের বাজারে পাত্র - পাত্রী

১৪ ই এপ্রিল, ২০২৩ রাত ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা বাংলাদেশের।
এক ছেলে বিয়ে করতে পারছে না।
বেচারার শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, মোটামুটি একটা ভাল চাকরিও করে, পরিবার ভাল, স্বভাব চরিত্র ভাল - একটাই সমস্যা, ছেলে তোতলায়। স্পষ্ট উচ্চারনে কথা বলতে পারে না।
ছেলের জায়গায় মেয়ে হলেতো কথাই নাই।
বাংলাদেশের বিয়ের বাজারে পাত্র পাত্রী হচ্ছে কুরবানীর বাজারের পশুর মতন। সব দিক দিয়ে নিখুঁত হতে হবে। নাহলে বাতিল।
স্বভাব চরিত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিষ্টাচার, জীবনাচরণ ইত্যাদির চাইতেও বেশি প্রাধান্য পায় উচ্চতা, গায়ের রং, কণ্ঠস্বর ইত্যাদি।
এখন তাহলে বলি, ইসলাম এই ব্যাপারে কি বলে।

ইসলাম ধর্মে নবীদের মধ্যে মুসা (আঃ) নবীর স্থান যে কোথায় সেটা নিশ্চই ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। তারপরেও ধারণা দিতে শুধু এইটুকু বলি যে মুহাম্মদ (সঃ) এবং ইব্রাহিম (আঃ) নবীর পরেই উনার সম্মান। মানে কোটি কোটি মানুষ পৃথিবীতে এসেছেন এবং আরও কোটি কোটি মানুষ ভবিষ্যতেও আসবেন। কিন্তু কেয়ামত পর্যন্ত মানব জাতির ইতিহাসে মুসা (আঃ) এর সমকক্ষ একজনও আসবেন না।
সেই মুসা (আঃ) স্পষ্ট উচ্চারনে কথা বলতে পারতেন না। কুরআনই বলে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া চাইলেন যাতে তাঁর জিহ্বার জড়তা কেটে যায়। সাথে সঙ্গী হিসেবে ভাইকেও চাইলেন, কারন ভাইয়ের কথাবার্তা স্পষ্ট।
আবার আরেক স্থানে ফেরাউনও বলে যে, যে স্পষ্ট করে কথা বলতে পারে না, সে কিভাবে আল্লাহর রাসূল হতে পারে?

কথিত আছে শৈশবে তাঁর জিহ্বা জ্বলন্ত কয়লায় পুড়ে গিয়েছিল। তিনি জ্বলন্ত কয়লাকে ফল মনে করে মুখে দিয়েছিলেন। যদিও জ্বলন্ত কয়লা হাত দিয়ে ধরার সাথে সাথেই টের পাওয়ার কথা ওটা কতটা গরম। অবশ্য ভেজা হাত থাকলে ভিন্ন কথা। জন্মগতও lisp থাকতে পারে। যেহেতু ১০০% সত্য জানিনা, কাজেই বলতে পারছিনা তাঁর জিহ্বার জড়তার কারন।
জিহ্বায় জড়তা ছিল আমাদের নবীজির (সঃ) প্রিয় নাতি হজরত হোসেনেরও (রাঃ)। তিনি যখন একটা কথা বলতে যেতেন, জিহ্বার জড়তার কারনে শব্দগুলো উচ্চারণ করতে তাঁর সময় লাগতো। আমাদের নবীজি (সঃ) প্রানপ্রিয় দৌহিত্রের দিকে ভুবন ভোলানো মায়ার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন, এবং একবার বলেও ছিলেন যে "ও হজরত মুসার (আঃ) কাছ থেকে এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।"

তাহলে দেখা যাচ্ছে, বাঙালি বিয়ের বাজারে পাত্র হিসেবে নবী মুসা (আঃ) এবং আমাদের নবীজির (সঃ) নয়নমনি হজরত হোসেন (রাঃ) তেমন যোগ্যতা রাখেন না। :/
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৩ রাত ৯:৫৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিদায় হে পুরাতন ও শুভ নববর্ষ !!!!

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৩ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:১৬

বিদায় হে পুরাতন!!!!

চলে গেলো একটি বছর
নিরবে যেন বলে গেলো
এভাবেই যায় ফুরিয়ে
জীবন প্রদীপ, জীবন প্রহর
আশার আলো জ্বেলে
যদি না পাও তার সন্ধান
কোথায় আছে সফলতা
বিশ্ব মানবতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন নাথান বম হয়ে উঠার সংগ্রাম...

লিখেছেন মারুফ তারেক, ১৩ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১০:৪৬


'জো' নামের ইংরেজি একটি বই লেখেছেন তিনি, হয়েছেন চারুকলায় স্নাতক। প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল থেকে স্কুল কলেজের শিক্ষা পার করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপিঠে শিক্ষা অর্জন করেছেন, শিখেছেন রঙ ও কাগজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমতার স্বপ্ন: বাস্তবতার আয়নায়

লিখেছেন মি. বিকেল, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১:৩৬



কিছু প্রশ্ন:

১. আমাদের সবার জীবনের মূল্য কি সমান?
২. আমাদের সবাইকে সবার কি সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
৩. সবার কি সমান পরিমাণ বাঁচার অধিকার আছে?
৪. আমাদের শ্রম এবং তার ফলাফল কি সমান?
৫.... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। মঙ্গল শোভাযাত্রা ও পহেলা বৈশাখ

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭





বাঙালির অন্যতম প্রধান উৎসব পহেলা বৈশাখ। সর্বজনীন এ উৎসব ‘বৃহৎ বাংলা’— তথা বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের উপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলা

লিখেছেন আংশিক ভগ্নাংশ জামান, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৪৫



ইসরাইলের উপর ইরানের এই হামলাতে খুশী হওয়ার মতো আসলে কিছুই নেই। আমেরিকার ভালোই ধারণা ছিলো যে ইরান এরচেয়ে বেশী কিছুই করতে পারবেনা। বরং আমেরিকা ইসরাইলকে প্ররোচনা দিয়ে ইরানের সিরিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×