somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেসবুক সয়লাব এক হিজাবি নারী ফুটবলারের সমালোচনামূলক পোস্টে।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৩ রাত ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুক সয়লাব এক হিজাবি নারী ফুটবলারের সমালোচনামূলক পোস্টে। সবাই বিরাট মুমিন বান্দা, নিজেদের বেহেস্ত নিশ্চিত হয়ে গেছেতো, বেহেস্তের সিটিজেনশিপের শপথ নিয়ে এখন এসেছে অন্যদের জান্নাত জাহান্নামের ভিসা বিলি করতে।

আমিও আলোচনায় যোগ দেই তাহলে। আমার প্রিয় থেকে প্রিয়তম কিছু রেফারেন্স দিয়ে শুরু করা যাক।

হাদিসে কুরসীতে আল্লাহ বলেছেন, কেউ উনার দিকে এক পা এগুলে তিনি দশ পা আগান। কেউ হেঁটে তাঁর দিকে রওনা দিলে তিনি দৌড়ে তাঁর দিকে আগান।
আরেক হাদিসে আছে, বান্দা যখন তওবা করে তাঁর দিকে ফিরে আসে, তিনি ততটাই খুশি হন যতটা না একজন উটের মালিক মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উটকে দেখে হয়।
আরেক হাদিসে আছে, যুদ্ধ ফেরত এক সন্তানকে জীবিত পেয়ে মা বুকে আগলে ধরে আনন্দে কাঁদতে থাকেন। দৃশ্যটি নবীজি (সঃ) সহ সব সাহাবীর বুকে মোচড় তুলে। নবীজি (সঃ) তাঁর সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন, "তোমাদের কি ধারণা, এই মা তাঁর সন্তানকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করতে পারবে?"
প্রতিটা সাহাবী একসাথে জবাব দিবেন, "অসম্ভব ইয়া রাসূলাল্লাহ!"
নবীজি (সঃ) তখন বললেন, "জেনে রাখো, এই মা তাঁর সন্তানকে যতটা না ভালবাসে, আল্লাহ তারচেয়েও বেশি তাঁর বান্দাদের ভালবাসেন।"
আরও অসংখ্য হাদিসে আছে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য কেবল বাহানা খুঁজতে থাকেন। তৃষ্ণার্ত কুকুরকে সামান্য পানি পান করানোর জন্য এক পতিতাকে সমস্ত জীবনের গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন।
আর কুরআন শরীফতো এই আয়াতেই ভর্তি যে তিনি পরম করুনাময়, অসীম দয়ালু।

হ্যা, তিনি জুলুমকারীদের বিচারের দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছেন মজলুমের উপর। এই ব্যাপারে আমাদের সাবধান করা হয়েছে। আল্লাহ পরমকরুনাময়, তাঁর প্রতি করা অন্যায়, যেমন নামাজ না পড়া, রোজা না রাখা, তাঁর প্রতি করা বেয়াদবি ইত্যাদি সব হয়তো ক্ষমা করে দিবেন, কিন্তু অন্যের হক নষ্ট করা, যেমন জাকাত না দেয়া, কারোর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করা, আমানত খেয়ানত করা, মিথ্যা অপবাদ, চুরি, ঘুষ খাওয়া থেকে শুরু করে ছোট বড় যাবতীয় অপরাধের জন্য আল্লাহ মজলুমকে হাজির করে বলবেন, এই হচ্ছে অন্যায়, এই হচ্ছে শাস্তি, এই হচ্ছে পুরষ্কার - এখন তুমি বলো কোন কারণে তোমার প্রতি জুলুম করা হয়েছিল? এবং কি করলে তোমার প্রতি ন্যায় বিচার করা হবে?
মনে রাখতে হবে, মানুষ রাহমানুর রাহিম নয়। মানুষ তখন বলবে, ও আমার নামে এই মিথ্যা রটিয়েছিল, এখন ওর হজ্বের সওয়াব না পাওয়া পর্যন্ত আমি তৃপ্ত হবো না।
হজ্ব করলেন আপনি, কষ্ট করলেন আপনি, কিন্তু আপনার আচরণের কারণেই অন্যজন সেই সওয়াবগুলো নিয়ে যাবে। আপনি দেউলিয়া হয়ে পড়ে থাকবেন।

তা একজন ফুটবলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি হিজাব পরে খেলতে নামবেন। আল্লাহর রাস্তায় প্রথম পদক্ষেপ, হেঁটে রওনা হওয়া। তার মানে আল্লাহ ওর দিকে দশ কদম বাড়িয়ে দিয়েছেন, দৌড় শুরু করে দিয়েছেন।
কিন্তু বাংলার আঁতেল মুমিনরা কি করছে? নিজেদের বোনকে স্বাগত জানাবার পরিবর্তে ওর সমালোচনা করছে, টিটকারি করছে, ওকে নিরুৎসাহিত করছে। ওর ভিতরের ঈমান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কেন ভাই, ওর যদি ঈমান দুর্বল থাকে, তাহলে সেটাকে তাজা হতে দেন, ও নিজেই সিদ্ধান্ত নিবে ওর ফুটবল খেলা উচিত কি না।
অথবা না হয় সে আস্ত ক্যারিয়ার শেষ করলো হিজাব পরে, এবং মরার আগে তওবা করে নিল। আল্লাহ যদি মাফ করে থাকেন, তখন?
তখন যদি এই মেয়ে বলে, "সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে নিয়ে হওয়া সমালোচনাগুলি আমার মনে আঘাত দিয়েছে। হে আল্লাহ! তুমি জানতে আমি অন্তরের সাথে কিভাবে লড়াই করেছি - তুমি এর বিচার আমাকে দাও!"
তখন?
তখন এরা বলবেন, "আমরাতো না জেনে বুঝে করেছি।"
কিন্তু এদিকে যে আল্লাহ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন পরনারীর দিকে চোখ তুলে তাকিও না, পরচর্চা করো না, মানুষের বিশেষ করে মুমিনের ব্যাপারে ভাল ধারণা রাখো - সেটার বেলায়?

এই কারণেই মূর্খদের হাতে ইন্টারনেট চলে আসাটা বাঁদরের হাতে লোডেড একে-৪৭ ধরিয়ে দেয়ার মতন ঘটনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৩ রাত ৯:৪০
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ওভারব্রীজ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×