ঘটানটা কিন্তু খুব সহজেই সামাল দেয়া যেত।
আন্দোলনকারীরা আন্দোলন করছে যাতে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা হয়।
যতদূর জানি, সরকারও এর পক্ষে। ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করেছিল, আদালতে এ নিয়ে মামলা চলছে।
যা বুঝলাম তা হচ্ছে মূল সমস্যা সরকার চায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিদের জন্যও কোটা ধরে রাখতে, আর সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছে যে না, মুক্তিযোদ্ধা ও ওদের সন্তানদের জন্য কোটা ঠিক আছে, কিন্তু নাতিদের জন্য একটু বেশিই হয়ে যায়। ৫৬% কোটা ধরে রাখা সাধারণ মানুষের জন্য জুলুমের সমান। এই %কে কমিয়ে আনতে হবে, যৌক্তিক হতে হবে। কেউই বলছে না নারী, প্রতিবন্ধী কোটাগুলি বাতিল করতে। বুঝতে হবে যে এদের আন্দোলন কেবলই চাকরি পাওয়ার আন্দোলন না, এদের আন্দোলন রাষ্ট্রের প্রতিটা নাগরিকের সমান অধিকারের আন্দোলন। সমাজে প্রচলিত আধুনিক বর্ণবাদ, পরিবারতন্ত্র ইত্যাদি থেকে বেরিয়ে আসার আন্দোলন। এদের মূল লক্ষ্য ঋত্মিক রোশনের সুপার থার্টি সিনেমার সেই মাস্টারজির মতন, "রাজার ছেলে হলেই রাজা হবেনা। যোগ্যতর কেউ হবে।"
প্রধানমন্ত্রী নিজেই পরিবারতন্ত্রের প্রোডাক্ট বলে উনি বিষয়টা বুঝবেন না।
মুক্তিযুদ্ধের ভুয়া সার্টিফিকেটের ঘটনা আমরা সবাই জানি। হাজার হাজার লোকে জাল সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরছে। আবার অন্যদিকে হাজার হাজার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা অভিমানে সার্টিফিকেট নেননি। এমন অবস্থায় "নাতির কোটা" কতটা যৌক্তিক?
সরকারের পক্ষ থেকে লোকজন গিয়ে আন্দোলনকারীদের সাথে বসে সহজেই সমস্যার সমাধান করতে পারতো। কিন্তু তা না করে প্রধানমন্ত্রী বলে বসলেন "মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের চাকরি না দিয়ে তাহলে কি রাজাকারের বাচ্চাদের চাকরি দিব?"
কথাটা যে যতই সুগারকোটিং করুক না কেন, রাষ্ট্রের অভিভাবকের কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসা গালি ছাড়া আর কিছুই মনে হয়না। তাই শিশু কিশোররা ক্ষেপে গিয়ে বলল, "তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার! কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার!"
স্লোগানে এইসব শিশু কিশোরদের বুকফাটা অভিমান ফুটে উঠছে।
নিজের বাবা মা যদি কাউকে জারজ সন্তান বলে গালি দেয়, তাহলে যেমনটা লাগে, এখানেও ঘটনা তাই। এখানে শব্দ চয়নে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কি আরও বিচক্ষণ হওয়া উচিত ছিল নয় কি?
এদিকে আওয়ামীলীগ/ছাত্রলীগ ঘটনাকে আরও ঘোলাটে করলো। ওরা বাচ্চাদের স্লোগানের কেবল প্রথম অংশ কোট করে ঘৃণ্য রাজনৈতিক চাল চাললো। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে যেভাবে বরাবর মিসইউজ করে, এইবারও তাই করে বলল "এরা স্বঘোষিত রাজাকার! এরা দেশের শত্রু। পাকি জারজ।"
ইন্ধন যোগালেন আমাদের "বুদ্ধিজীবী" ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি আগা মাথা না বুঝে, কিছুই না জেনে বলে বসলেন "এদেরতো চাকরি পাওয়া দূরের কথা, দেশেই থাকার অধিকার নেই।" "বাকি জীবনে আর ঢাবিতে যেতে চাই না, ওদের দেখলেই মনে হবে ওরাই সেই রাজাকার!"
বেনিফিট অফ ডাউট দিতেই বললাম তিনি আগা মাথা না বুঝে, না জেনে বলেছেন। যদি সব জেনেবুঝে করে থাকেন, তাহলে উনার চেয়ে বদমাইশ, বুইড়া শয়তানের হাড্ডি এই দুনিয়ায় কেউ নেই। উনাকে এককালে খুব শ্রদ্ধা করতাম। কিন্তু গতকাল থেকে আমার সেই বিশ্বাস আর নেই।
এরপরের ঘটনা আমরা সবাই জানি।
ছাত্রলীগ যুক্ত হলো, সেই শিশু কিশোরদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের মতন দমন পীড়ন শুরু হলো, পুলিশ যুক্ত হলো ছাত্রলীগের ইউনিফর্মধারী একটি শাখা হিসেবে। রক্ত ঝরলো, ভাংচুর হলো, এ ওকে মারলো, সে তাকে মরলো। এখন ব্যাপারটা চলে গেছে পয়েন্ট অফ নো রিটার্নে। এখন আর ফেরার পথ নেই।
অথচ আসলেই ব্যাপারটা খুব সহজেই সমাধান করা যেত।
এখন যদি প্রধানমন্ত্রী আলোচনায়ও ডাকেন, ছাত্র ছাত্রীদের মাথায় থাকবে এই মহিলার হাতে আমাদের ভাইদের রক্ত লেগে আছে। ওদের রক্ত কি বৃথা যাবে?
প্রধানমন্ত্রীর মাথায় থাকবে তাঁরই দলের কিছু ছেলেকে ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলেছে এদের দলের কিছু ছেলে পিলে। যদিও বনের মশা কয়টা মরলো তাতে বনের রাজার কিছুই যায় আসেনা, তবুও সেই মশার পরিবারের লোকজনের কাছেতো সে আর ফেরত আসবে না। মশাগুলোর জন্য মায়া হয়। একটাই মানব জীবন, বহু সাধনার ফল। পৃথিবীতে এরচেয়ে দামি আর কিছুই হতে পারেনা। অথচ কত ফালতু কারনে নষ্ট হলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



