somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা এখন জালিয়ানওয়ালা বাগ, শেখ হাসিনা যখন জেনারেল ডায়ার

২৪ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১. দেশে ধীরে ধীরে ইন্টারনেট ফিরছে, এবং আমাদের সেই সাথে নরকযাত্রাও শুরু হয়েছে। গতকয়েকদিন ইন্টারনেট না থাকায় কিছুই জানা যাচ্ছিল না, এবং এখন সেসব ভিডিও আর ছবি দেখে মনে হচ্ছে এ কি করে সম্ভব! স্বাধীন দেশে? আমার বাংলাদেশে?
মৃত লাশ রাস্তায় পড়ে আছে। রক্তের ছড়াছড়ি, পুলিশের তান্ডব তাও মানা যায়, কিন্তু পুলিশের পাশাপাশি লাঠি আর চাপাতি হাতে ওরা কারা সিভিলিয়ানদের কোপাচ্ছিল?
কেউ দাবি করবে ওরাও পুলিশ, কেবল ইউনিফর্ম ছাড়া একশনে ছিল।
তা দেশের পুলিশরা কি এতটাই ফকির মিসকিন যে স্যান্ডেল চপ্পল পরে ডিউটিতে নেমে যায়? আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ডিউটিতে আসে? তামাশা চলছে? আমরা জোকার? যাই বুঝাবে তাই বিশ্বাস করবো?

২. এদিকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন "বিএনপি-জামায়াত জোট কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে সারা দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।"
ওনার কথায় লাই দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রূপের মালিক সোবহাইন্না, প্রাণ গ্রূপের মালিক আইসাইন্না, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুইল্ল্যা সহ আরও কিছু কালপ্রিট, মিথ্যুক দালাল। আমাদের বস সালমান রহমানতো আছেনই। ওদের স্বার্থ হচ্ছে পয়সা। পয়সা দাও, ওরা বলবে "চান্দের বুড়ি আইসা গুলি করছে, আমি নিজের চৌক্ষে দেখছি। শুধু আমি একা না, আমার বৌ পোলাপানও দেখছে।"

প্রধানমন্ত্রীর কথায় একই সুরে ঘেউ ঘেউ করেছে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। ওর যুক্তিতে অবশ্যই সরকারের কঠোর হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না, এবং ঘটনা জামাত বিএনপি ঘটিয়েছে। তাই পুলিশকে ট্রেইন্ড সন্ত্রাসী দমনে গুলি চালাতে হয়েছে।
ক্লাস নাইনে পড়া যে ছেলেটা মারা গেল, এই শুয়োরের মতে সে ট্রেইন্ড সন্ত্রাসী ছিল। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সহ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির যত ছেলেরা মারা গেল, ওরাও ট্রেইন্ড রাজনৈতিক সন্ত্রাসী ছিল।
এরা মানতেই নারাজ যে ওরা কোন অপকর্ম করেছে, ওদের থেকে দুঃখ, সিম্প্যাথি ইত্যাদি আশা করবেন কিভাবে?

সেই ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালা বাগে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডায়ার হাজার হাজার সিভিলিয়ানের উপর ব্রাশ ফায়ার করে হাত রাঙ্গিয়েছিল। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল সাড়ে তিনশোর মতো, বাস্তবে যা ছিল হাজারের উপরে।
গত কয়েকদিনে আমাদের সরকারের নৃশংসতা সেই ঘটনার কথাই মনে করিয়ে দেয়। এখানে জেনারেল ডায়ার কে সেটা বুঝতে কারোরই কোন অসুবিধা হবার কথা না।

আমাদের সাকিব আল হাসান, আমাদের মাশরাফি মূর্তজা এই সরকারেরই এমপি। মুখের মধ্যে বিচি ভরে রাখায় কথা বলতে পারছেন না। মানুষ হলে উনারা এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করে বলতেন "এই হত্যাকাণ্ডে আমার কোন হাত নেই।"
১৯৭১ সালে জেনারেল নিয়াজী যখন গর্বের সাথে আমাদের উদ্দেশ্য করে বলে যে "আমি এই হারামি জাতির বংশধারা পাল্টে দেব" মানে হচ্ছে, ও আমাদের মেয়েদের দিকে ওর পোষাকুকুর পাক মিলিটারি লেলিয়ে দিবে যাতে ওদের থেকে জন্ম নেয় আধা পাকিস্তানী আধা বাঙালি জাতি - তার পরদিন মেজর মুশতাক নামের এক বাঙালি অফিসার বাথরুমে গিয়ে নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেন। লোকটা পারতো বাঙালি মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে, কিন্তু সে আর্মি ক্যাডেট হিসেবে নিজের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে যেতে পারেনি। আমার ধারণা ও জেনুইনলি বিশ্বাস করেছিল যে সে আসলে পাকিস্তানকে রক্ষা করছে। দুষ্কৃতিকারীদের মারছে। কিন্তু তারপরেও ওর বোধদয় হয়। বিবেক এসে কড়া নাড়ে।
বিবেক অনেক বড় গুণ। সবার থাকে না।
মোহাম্মদ আলীর প্রসঙ্গ তোলা যাক। উনি তখন চ্যাম্পিয়ন বক্সার, আমেরিকা তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেলিব্রেটি। পেলের সাথে তাঁর নাম নেয়া হয়। আমেরিকা ভিয়েতনামে অন্যায় যুদ্ধে প্রচুর নিরীহ জনতা খুন করছিল। ড্রাফ্টে মোহাম্মদ আলীর নাম ওঠে। সরকার ওকে বলে সেনাবাহিনীতে নাম লিখিয়ে ভিয়েতনামে যেতে।
আলী সরকারের মুখের উপর বলেন "আমার ধর্ম আমাকে নিরীহ মানুষ হত্যার অনুমতি দেয়না।"
"তুমি কিন্তু এজন্য অনেক বিপদে পড়বে। তোমার বক্সিং লাইসেন্স কেড়ে নিব। তোমার জেল জরিমানা হবে।"
মোহাম্মদ আলীকে যারা চেনেন তাঁরা জানেন তিনি কিভাবে কাটথ্রোট কথা বলতেন। তিনি বলেন "তোমাদের যা খুশি তাই করো। আমি নিরীহ কৃষক মারবো না।"
আলীর বক্সিং লাইসেন্স কেড়ে নেয়া হয়। মিলিওনেয়ার আলী পিৎজা বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। কিন্তু অন্যায়ে আপোষ করেননি।
তাঁর জেদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র মাথা নত করে। তাঁর বক্সিং লাইসেন্স ফিরিয়ে দেয়। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপ্রধানরা গিয়ে বলেন "তিনি ছিলেন হিরো! অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন এক ব্যক্তিত্ব!"
আর আমাদের জাতীয় ক্রিকেটাররা? তথাকথিত তারকারা? ওয়াক থু!

আল্লাহ বিপদে ফেলে আমাদের পরীক্ষা করেন আমরা আসলেই ন্যায়ের পথে আছি কিনা। আবার এটাও দেখান যাদের হিরো মনে করি, ওরা আসলেই হিরো কিনা।
আমাদের তথাকথিত সেলিব্রেটিরা নিজেদের রূপ দেখিয়ে দিয়েছে।
আফসোস! এদের জন্য বহু রাত জেগে দোয়া করতাম!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৩:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×