আচ্ছা, যারা "বিকল্প কোথায়?" "বিকল্প কে?" বলতে বলতে মুখে ফ্যানা তুলে এতগুলি খুনের ঘটনাকে স্রেফ ইগনোর করার চেষ্টা করছেন, উনারা জানেনতো যে সিচ্যুয়েশনটা কি?
সিচ্যুয়েশনটা হচ্ছে আমার অফিসে আগুন লেগেছে। আমি যদি এখন চিন্তা করি এই অফিস পুড়ে গেলে আমাকে কে চাকরি দিবে? আমার বেতন কোত্থেকে আসবে? আমার বৌ বাচ্চাকে পালবে কে? ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং তাই আমি অন্যান্য কলিগদের সাথে বের না হয়ে নিজের ডেস্কেই পুড়ে মরলাম - তাহলে কি আমাকে গাধা বলবেন নাকি ছাগল?
দেশের সিচ্যুয়েশন exactly তাই।
সরকার পতন আন্দোলনের চেয়েও এটি এখন ন্যায় বিচারের দাবিতে আন্দোলন।
জুলুমের বিরুদ্ধে আন্দোলন। সরকার যদি নিজেই ব্যবস্থা নেয়, দোষীদের ধরে ধরে শাস্তি দেয়, তাহলে আমার মনে হয়না কেউ আপত্তি করবে।
তবে, সরকারের ন্যায় বিচারের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।
তাই আমরা দেখতে পারছি আবু সাঈদকে হিন্দু বিদ্বেষী, ভারত বিদ্বেষী, জামাত শিবির ইত্যাদি ট্যাগ দিয়ে ওর খুনকে হালাল করার চেষ্টা করা হয়েছে। যেমনটা অভিজিৎ হত্যার সময়ে ওর কিছু পোস্ট দিয়ে ওকে ইসলামবিদ্বেষী প্রমান করার চেষ্টা করেছিল জঙ্গিরা।
কিছু মূর্খ ছাগল ছাড়া যখন কারোর কাছে এই টেকনিক পাত্তা পেল না, তখন আরও জঘন্য বুদ্ধি নিয়ে উপস্থিত হলো সরকার। ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্যে খুন করার পরেও ওরা পুলিশকে এরেস্ট না করে গ্রেফতার করলো ১৬ বছরের এক পিচ্চিকে। ও নাকি খুন করেছে। মানে, পুরাই আলিফ লায়লা কাহিনী!
এদিকে সরকারের মন্ত্রী এমপিরা সমানে জামাত শিবিরের উপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছে। ওদের কি দাবি এই যে পুলিশের সাথে মিলে মিশে জামাত শিবিরের ক্যাডাররা ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা করেছে? জামাতের এত পাওয়ার, জানা ছিল না।
এখনও যেই সরকারের জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলছে, ছাগলগুলি সবাইকেই জামাত শিবির ট্যাগ দিয়ে দিচ্ছে। আমাদের কথাতো বাদই দিলাম, হিন্দু-খ্রিষ্টান শিবির কর্মী এই প্রথম দেখলাম। আরও কত কিছু যে দেখবো দুনিয়ায়!
তা "সরকারি ন্যায় বিচারের" এইটা স্রেফ একটা নমুনা।
তারসাথে যুক্ত হয়েছে অহেতুক মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি ইত্যাদি। একের পর এক খুন। ফেসবুকে একেকজনের শার্লক হোমস বনে যাওয়া, "বুলেটের ট্রেজেক্টরি দেখুন - উপর থেকে নামেনি, সোজাসুজি এসেছে।" হ্লার পো, তুই স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বাদ দিয়ে ঢাকার বস্তিতে পড়ে আছিস কেন?
এইগুলিই মানুষ চাইছে না। আজকে পানি বিতরণ করতে গিয়ে স্নিগ্ধর ভাই মরেছে, কালকে আমার নিজের ভাই মরবে, পরশু আমি। এইটা ফ্যাক্ট। এই তামাশা বন্ধ হতে হবে। এখুনি। যত সময় যাবে, লাশের সংখ্যা কেবল বাড়বেই।
এর অর্থ এই না যে সবাই বিএনপিকে চাইছে। তারেক জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে সবাই উতলা হয়ে আছে। খালেদা জিয়ার জন্য সবাই দেওয়ানা হয়ে আছে। যে গরু এইটা বিশ্বাস করে, ওকে সাদেক এগ্রোর খামারে বিক্রি করে দেয়া উচিত।
সিচ্যুয়েশন হচ্ছে, আমার অফিসে আগুন লেগেছে, আমাকে আগে বের হতে হবে। "বিকল্প কে/কি" সেটা পরে ভাবা যাবে। এই তরুণ প্রজন্ম নিশ্চিত করবে, ক্ষমতায় যেই আসবে, সে সংবিধান ও আইনের নিচে থেকে কাজ করবে। যথেচ্ছাচার করতে পারবে না। ১৮ কোটির দেশে সৎ লোকের অভাব নেই। যে বলে বাংলাদেশে বিকল্প কেউ নেই, এই রক্তপিপাসু জানোয়ারদের নিয়েই আমাদের চলতে হবে, সে দূরে গিয়ে মুড়ি খেতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০২৪ ভোর ৫:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




