somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

AI জেনারেটেড ছবি ও স্বামী বিশুদ্ধানন্দরা

২৩ শে আগস্ট, ২০২৪ রাত ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেক নিউজ দুইরকমের হয়ে থাকে।

১. প্রথমটা হচ্ছে একটা ঘটনা ঘটেই নাই, কিন্তু একটা নিউজ বানিয়ে গুজব সৃষ্টি করে হুলুস্থূল বাঁধিয়ে দেয়া।
যেমন অতি সম্প্রতি স্টুডেন্টরা যখন শহরময় গ্রাফিতি আঁকাআঁকি করছে, তখন একটা AI generated ছবি ভাইরাল করার চেষ্টা হলো যেখানে দেয়ালে আঁকা হয়েছে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি সহ নিউইয়র্কের ল্যান্ডস্কেপের ছবি।
আওয়ামীলীগের এক পেজে সেটা শেয়ার করে ক্যাপশন দিয়েছে "এই ছবিটার মানে কি ??? ভালো করে লক্ষ্য করে দেখুন বুঝতে পারবেন।"
সাথে সাথে বেয়াক্কেল মূর্খের দল কমেন্ট নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে "এটা তো স্ট্রার্চু অব লিবার্টি, তাহলে কি দেশ টাকে আমেরিকার কাছে,আসলেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।" "যে আমেরিকা ৭১ এ স্বাধীনতা বিরোধী ছিল আজ তাদের পা চাটা বাংলাদেশ!!" "এই ছবিটার মানে খুব সিম্পল আগে আমরা বাঙালি ছিলাম আর নতুন স্বাধীনতার পর আমরা আমেরিকার দালালে পরিনত হলাম।" ইত্যাদি ইত্যাদি আরও বহু কিছু।
আমার পরিচিত এক আংকেল কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছেন "দেশটা এখন আমেরিকার কাছে বিক্রি হয়ে গেল! সেন্টমার্টিন আর আমাদের থাকবে না।" বাড়িয়ে বলছি না, আসলেই উনি টেনশনে আধমরা হয়ে গেছেন। ওনার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হবেন, উনি সেটা মানতেই পারছেন না।
অথচ ছবিটাই ছিল ফেক।

২. বন্যার সময়ে পানিতে নিমজ্জিত একটি শিশুর ছবি ভাইরাল করা হয়েছে যেটি ছিল AI জেনারেটেড।
দেশে যে বন্যা হচ্ছে এ নিয়ে কারোরই কোন সন্দেহ নাই। পত্রিকায় এখনও নিহতের সংখ্যা না আসলেও প্রচুর মানুষ যে মারা যাবেন এটি নিশ্চিত। কারন মধ্যরাতে হঠাৎ করেই কোন রকম সতর্কতা না দিয়ে বাঁধের গেইট খুলে দেয়ায় অপ্রস্তুত মানুষ বানের জলে ভেসে গেছেন। এমন অবস্থায় "এই শিশুর AI ছবি কেন ভাইরাল হলো" তা নিয়ে তর্ক করে বেহুদা সময় নষ্ট করার মানে কি? যদি ভাইরাল নাও হতো তাহলে কি বন্যা থেমে যেত?
"তবুও একটা মিথ্যা ছবি আপলোডানোর কোন মানে হয়না।" এতই স্বামী বিশুদ্ধানন্দ আপনারা যে অধমন চালের মধ্যে একটা ছোট্ট কাঁকর দেখলেও লাফিয়ে উঠেন?
আগের দৃশ্যপটে নকল AI ছবিকে অথেন্টিক বলে চালু করে দেশে একটা দাঙ্গা লাগানো সম্ভব।

১৫ জুলাই পরবর্তী সংগ্রামে অনেকেই অনেক মিথ্যা বানোয়াট গুজব রটিয়েছে। আমি অবশ্যই গুজবের বিপক্ষে, কারন এই ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন মরন নির্ভর করছে।
যেমন শেখ হাসিনার একটি ছবি পোস্ট করে পেছনে দাঁড়ানো ইউনিফর্ম পরা এক অফিসারের ছবি হাইলাইট করে একজন ছড়ানোর চেষ্টা করলেন "উনার চেহারা ইন্ডিয়ানদের মতন, এই ইউনিফর্মটাও অপরিচিত। এইটা কি "র"?"
বা আরও হাস্যকর, "হেলিকপ্টারে ধুতি পরা একজন কপালে তিলক মেখে গুলি করে মানুষ মারছিল। ওটা র বা ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনী।"
প্রথম কথা, র-এর বুদ্ধি তোমার চেয়ে একটু বেশি, তাই ওরা ধুতি পরে, মাথায় তিলক দিয়ে হেলিকপ্টারে উঠবে না। আর ইউনিফর্মে প্রধানমন্ত্রীর পিছনেও দাঁড়াবে না।
এমনই বহু গুজবের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়েছিল সেই সময়ে।
তখন যদি কেউ গুজব রটাতো যে সমন্বয়কদের ডিবি অফিসে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, এবং তাতে জড়িত আছে র, তাহলে একটা বড় সুযোগ ছিল দেশবাসী ডিবি অফিসে আক্রমন করে সব কটা অফিসারকে পুড়িয়ে মেরে ফেলতো।

আর বন্যা পরিস্থিতিতে শিশুটির নকল ছবিতে কোন কিছুরই হেরফের হবেনা। এখানে মূল লক্ষ্য যত বেশি সম্ভব মানুষ যেন বন্যার্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
একটা AI জেনারেটেড ছবি দেখে যদি "আশাহত" "মর্মাহত" "দুঃখ ভারাক্রান্ত" হয়ে কেউ বন্যার্তদের সাহায্য করা থেকে বিরত হয়, ওর মতন বা*&দ (আমার রাবীন্দ্রিক শব্দচয়ন ক্ষমা করবেন) শুরু থেকেই অমানুষ ছিল, এইটা স্রেফ একটা এক্সকিউজ।

হ্যা, যদি বন্যা না হতো, অথবা হলেও কারোরই কোন রকম ক্ষতি না হতো, তাহলে অবশ্যই এইধরনের ফেক ছবি প্রচার করলে গুজব রটনাকারীকে থাবড়ানো উচিত ছিল।

দুই ধরনের পরিস্থিতির পার্থক্য বুঝাতে পেরেছি?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০২৪ রাত ২:৩৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুবাই কি দুর্নীতিবাজদের গন্তব্য হয়ে উঠেছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩০

কয়েক বছর আগে, কানাডার বেগম পাড়ার কথা ব্যারিস্টার সুমন ভাই বেশ ফলাও করে প্রকাশ করেছিলেন। বাংলাদেশী দূর্নীতিবাজদের আখড়া হয়ে উঠেছিলো কানাডার ঐ অঞ্চল। আজ পুসিলশের সাবেক প্রধান বেনজির দুবাইয়ে ধরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল ও বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৫৪



সম্প্রতি আদ্ব দ্বীন হাসপাতালের ঘটনা কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারকগণ রায় দিয়েছেন “আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল লাইসেন্স বাতিল করা যাবে না”।




...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×