সমাজে চলতে হলে আমাদের বিভিন্ন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। কিন্তু এখনকার মানুষগুলো বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী কিংবা তরুণ-তরুণীরা যেন পারেনা মানিয়ে নিতে। পরিবারের মানুষের সাথে, বন্ধু মহলে, অফিস আদালতে, স্কুলে, রাস্তাঘাটে আরও অনেক জায়গায়। মানুষ সৃষ্টির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। পৃথিবীর বিভিন্ন মানব সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে তরুণ সমাজ সব রকমের পরিবর্তন ও বিপ্লবের অগ্রবর্তী ভূমিকায় ছিল। নতুন পরিবেশ কিংবা নতুন জগত এইসব তরুণদের জন্যই অপেক্ষা করছে বছরের পর বছর। সুতরাং ভাবতে হবে সব তাদের জন্য। আমাদের মনে রাখতে হবে নতুন প্রজন্ম অর্থাৎ তরুণেরা তার পরিবেশের চেয়ে বড় কিছু, তাদের উপর অর্পিত দায়িত্তের চেয়ে বড় কিছু। স্বাভাবিক ভাবে নিজেকে একটু সে আলাদা ভাববেই। যার ফলে সে সব জায়গায় প্রথম এ নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনা। হতে পারে এটা তার আত্মবিশ্বাসের অতিসাজ্জ কিংবা আত্মবিশ্বাসের অভাব যার কোনটাই তার সহায়ক নয়। সে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না নিজেকে আলাদা ভাবলে কিংবা এমন হীনমন্যতায় ভুগলে মানসিক প্রতিকূলতা বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে তার স্বাভাবিক সহজাত মানবিক গুণাবলী/ কর্মদক্ষতা হ্রাস পায়।আবার এটাও সত্য যে তরুণদের অভিযোজন ক্ষমতা প্রখর। তারাই তাদের ইচ্ছার জগতের রাজা কিংবা প্রজা। তাদের চাওয়ার উপরেই নির্ভর করে অনেক কিছু। তারা চাইলেই পারে সুন্দর স্বাভাবিক পৃথিবী, আবার তাদের হাতেই রয়েছে অসুন্দর অস্বাভাবিক পৃথিবীর চাবিকাঠি । তবে সেই সাথে মমতা এবং ভালবাসা বেষ্টিত হাত আমাদেরকেই বাড়িয়ে দিতে হবে, সহজ করে দিতে হবে তাদের চলার পথ। কারন খুব স্বাভাবিক, আজ পর্যন্ত যা কিছুই সম্ভব বলে আমরা জেনেছি তা আমরা মানুষেরা কখনও একা করিনি। না বললেই নয় সেই কথাটি – ‘ দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’। তাই পরিবার সমাজ সর্বোপরি প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে এই নতুন প্রজন্মের তরুণ সমাজ কে সামনের দিকে ধাবিত করতে। মনে রাখতে হবে কখনই তার উপর চাকর প্রবিত্তি কিংবা প্রভুত্ব জাহির করা যাবে না। এতে করে সে নতুন পরিবেশ এর সাথে পুরোপুরি খাপখাওয়াতে বার্থ হবে।আমাদের মনে রাখতে হবে সব কিছুর উপরে সে ‘মানুষ’ যার মাঝে রয়েছে অসীম সম্ভাবনার এক অদৃশ্য ভাণ্ডার। আমাদের ভাবতে হবে তার পূর্বসূরি সফলদের কথা, যারা প্রতিকূল পরিবেশে এর বৈরিতা কে নিজেদের অনুকূল এ এনে সফল মানুষ হিসেবে ইতিহাসের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। তরুণদের মাঝে নেতিবাচক চিন্তা চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। কারন নেতিবাচক চিন্তাচেতনা মানুষের স্বাভাবিক গুণাবলী নষ্ট করে দেয়। নেতিবাচক চিন্তার পরিবর্তে ইতিবাচক চিন্তার বীজ বপন এ তাদের উৎসাহী করতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের মস্তিষ্ক তাই গ্রহন করে যা আমরা বিশ্বাস করি। আধুনিক মনোবৈজ্ঞানিক ও নিউরোলজিকাল গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে একটি ‘ইতিবাচক’ চিন্তা একটি ‘নেতিবাচক’ চিন্তার চাইতে কমপক্ষে এক হাজার গুন বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর । ছোট্ট একটা উদাহরণ দিয়ে আমরা ‘ইতিবাচক’ এবং ‘নেতিবাচকতার’ বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারি- বৃষ্টি প্রকিতির খুব চমৎকার একটি বিষয়। কিন্তু যখন আমরা বৃষ্টিতে ভিজতে চাই তখন আমাদের মা,বাবা কিংবা পরিবারের মানুষজন ভিজতে মানা করে পাছে আমারা অসুস্থ হয়ে না পড়ি। ‘ভিজো না, জ্বর হবে কিংবা ঠাণ্ডা লাগবে’ এ জাতীয় কথাগুলো অহরহ শুনি। এবং এক পর্যায় এ দেখা যায় সত্যি সত্যিই আমরা অসুস্থ হয়ে যাই । এর কারন হল ক্রমাগত নেতিবাচক শব্দ কিংবা কথা আমাদের মস্তিষ্ক গ্রহন করে আসছে এবং এটাই বিশ্বাস করছে যে বৃষ্টিতে ভিজলে আমরা অসুস্থ হয়ে পরবো । দেখা যায় আমরা যদি কখনও শখের বশেও বৃষ্টিতে ভিজি তাহলেও আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং এর কারন একটাই , বারবার নেতিবাচক কথা শুনতে শুনতে আমাদের মনের মধ্যে চিন্তার মধ্যে নেতিবাচকতা গুলো থেকেই গেছে যার ফলে এগুলোই আমাদেরকে অসুস্থ করে তুলছে। অথচ আমরা যদি বৃষ্টির মতো সুন্দর একটি ব্যাপারকে উপভোগ করবার ইতিবাচক চিন্তাচেতনা ধারণ করি তাহলে কিন্তু আমরা বৃষ্টিতে ভিজবার সেই আনন্দটা পুরটাই গ্রহণ করতে পারি। আমরা কি গ্রহন করবো কি বর্জন করব ব্যাপারটি আসলে বুঝতে হবে আমাদের বুঝাতে হবে আমাদের নতুন প্রজন্মের তরুণ সমাজ কে। তরুণ প্রজন্মকে অবশ্যই অপরের প্রতি বন্ধুসুলভ মনোভাব রাখতে হবে। তাকে মনে রাখতে হবে অন্যকে সহায়তা করা মানেই নিজেকে সহায়তা করা। কারন কাউকে সাহায্য করবার প্রবণতা তাকে ভালো কাজ করতে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করবে। যার ফলে তার মাঝে সৃষ্টি হবে এক অসম্ভব সুন্দর ভালোলাগা ।আর এই ভালো লাগাটাই তার মানসিকতায় আরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে সে নিজেকে আরও বেশি বেশি ভালো কাজে নিয়োজিত করতে পারবে। এবং সকল পরিবেশে সে নির্দ্বিধায় নিঃসঙ্কোচে নিজেকে মানিয়ে নেবার এক অভাবনীয় কৌশল রপ্ত করবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না তরুণদের হাত ধরেই এসেছে পৃথিবীর ক্রমবিবর্তন। সেই সাথে তরুণদেরও ভাবতে হবে যে তারা এই পৃথিবীর অতি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বাবধায়ক। তাদের হাত ধরেই আসবে সাফল্য। এক নতুন পৃথিবীর দ্বার তারাই পারে উন্মোচিত করতে। তাদের কার্যকর ভূমিকাই পারে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের তরুনদের জন্য একটা সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে যা তাদেরকে সফল সম্ভাবনাময় মানুষ রূপে সর্বক্ষেত্রে পরিচালিত করতে সাহায্য করবে।
আলোচিত ব্লগ
ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
"টোকাই থেকে হিরো"

টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন
মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।