একজন লেখকের সারা জীবনের সাধনার ব্যাপার হতে পারে নিজস্ব ভাষা সৃষ্টি। পরে ইতিহাস তাকে নিয়ে বলে অমুক ঘরানার ভাষা। বাংলাদেশে এ সময়ে যারা গদ্য লেখেন তাদের মধ্যে সলিমুল্ললাহ খানের গদ্যভাষা নতুন, সমৃদ্ধশালী, এবং শ্লেলষের ক্ষেত্রে বিশেষ কর্াযকরী বলে মনে হয়। সলিমুল্ললাহ খানের প্রথম বই একটি কবিতার বই।'এক আকাশের স্বপ্ন' বইটির নাম। এরপর 'বাংলাদেশ:বর্তমান জাতীয় অবস্থার চালচিত্র'। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের বক্তৃতার ওপর ভিত্তি করে বইটি লেখা। যদিও তরুন সুলভ গতি বইটিতে বিদ্যমান। তবু বইটির ভাষা আজকের সলিমের মত সমৃদ্ধ ছিলনা। তখন আমি আর সলিমের অনুজ সাদাত মিলে'প্রতি বুদ্ধিজীবি' বলে একটা ছোট কাগজ করছি। তখন তিনি আমেরিকা প্রবাসী। সেই সময় তিনটি গদ্য আমাদের হস্তগত হয়।' কবি সাবদার ছিদ্দিকী'র কবিতার ওপর একটি গদ্য। 'কবিতা চাকমার কবিতার ওপর একটি গদ্য' এবং'বাংলাগদ্যে অর্থশাস্ত্র কিংবা কি আনন্দ পাও সন্তান ধারনে' এটা ছিল শ্রী অমর্ত্য সেনের বাংলায় অর্থশাস্ত্র লেখার ওপর দৃষ্টিপাত। বক্তব্যর ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু সলিমুললাহ খানের গদ্যভাষার প্রতি আমার একটা ভক্তি তৈরী হল। আমি দেখলাম তার ভাষা গতানুগতিক বাংলাভাষা নয়। আমাদের লোকজ শব্দাবলী তার লেখায় উকিঝুকি মারে। এর পর তাকে পেলাম'জাক লাকা ইনস্টিটিউটে'। এবং আহমদ ছফা রাষ্ট্রসভা কর্তৃক প্রকাশিত রাষ্টসভা পত্রমালাতে। বিছিন্নভাবে তার আরো কিছু গদ্য এবং দুটি বই। 'প্ললাতোন' ও'জাক লাকা বিদ্যালয়'। তবে বার বার তার অনেক বড় গদ্যর বই কামনা করি। ইতিমধ্যে আরো অনেকেই এই গদ্যভাষায় লেখার চেষ্টা করছেন। তবে কালই বলবে এই গদ্যভাষা স্থায়ী হবে কিনা। তবে হা এটা অন্যরকম সত্য কিন্তু একেবারে নতুন নয়। বাংলাসাহিত্যে হরপ্রাসাদ শাস্ত্রী প্রমুখেরা যে লোকজ ভাষার অনুষঙ্গে খাটি বাংলাভাষার কথা বলেছিলেন তারি একটা অনুষঙ্গ। আপনাদের কি মনে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০০৬ ভোর ৫:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



