ঢাকার রাস্তা ঘাটে এখন চোখ রাখলেই একটা বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। নীল ওড়না কাধে একটা মেয়ে তার ডান হাতটা বিজয়ীর ভঙ্গিতে সাম েনর দিকে তুলে দাত খেলানো হাসি হাসতাসে। তার হাতের তলে গোল করে সুস্পষ্ট হয়ে দেখা যাচ্ছে ডান স্তনটা। সেটার স্বাস্থ্য চমৎকার। নিশ্চয় মেয়েটা ব্যয়াম করে। এইটা দেখে আমি ভাব তাড়িত হই। ভাবি যে এই বিজ্ঞাপনে এই মাইয়াডার কি দরকার। শুধু এই বিজ্ঞাপনে নয় তামাম দুনিয়ার এমন কোনো বিজ্ঞাপন নাই যেখানে একটি মেয়ে পণ্যটি তুলে ধরেনাই নিজের যৌনাবেদন ময় চেহারার সাথে। মেয়েরা পুজিঁবাদি সমাজ ব্যবস্থায় সবচাইতে মনোহর সস্তা পণ্য। গ্রামীণের এই পোষ্টারডা শেষমেষ আমার বোধগম্য হলো এভাবে যে, তার কইতে চায় এই সুযোগ গ্রহণ করলে আপনিও এই ধরনের এককান মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলতে , পরে বিছানায় যেতে পারেন। জিগমুন্ড ফ্রয়েডই সম্ভবত প্রথম ব্যাক্তি যিনি বলেছিলেন। মানুষের বেসিক কমপ্লেক্স হচ্ছে সেক্সুয়াল কমপ্লেক্স। এবং পুজিবাদ এটাকে লুফে নিসে। যে কোনো পণ্যর সাথে এখন নারী। নারীকে অধিকাংশ সময় দেখা যায় তার স্তনের কাছাকাছি নয় তার যোনীর কাছা কাছি নয় তার লাল গোলাবী পুরুষ্ট ঠোট( বিকল্প যোনি) সাথে পণ্যটিকে ঠেসে ধরছে। এতে করে আমাদের বেসিক জায়গায় আনন্দ হচ্ছে আর সাথে পণ্যটিকে ভালা লাগছে। এই জন্য আমরা মেয়েদের কে মাঝেমাঝে মাল পলি। বলি চল একটা মাল খাইয়া আসি। তাদের আমরা বলি জিনিস। ঠিক একটা পণ্যকে যেভাবে বলি সেভাবে। ব্যক্তিগত ভাবে আমার এক নারীবাদি বান্ধবী আছে যে পুরুষকে সহ্য করতে পারেনা। আমি ইকটু নারীবাদি আছি বইলা সে আমারে পসন্দ করে। কিন্তু যখন সে ক েলজে পড়াতে যায় অথবা অন্য কোনো অনুষ্টানে যায় তখন দেখি যে চমৎকার ভাবে শাড়ীর সাথে চুলে রঙ আর ঠোটের রঙ্গ ম্যচিং করে পরে । কানে দামি দুল, আর তার ব্লাউজ টা আছে কি নাই।কালো ব্রা টা সম্পুর্ণই প্রায় উন্মুক্ত। এহেন সময়ে তার দিকে তাকিয়ে কথা বলতেই যে কোনো পুরুষ প্রলুব্ধ হবে। আমি তারে কই যে তুমিই তো নারী স্বাধীনতার সম্পুর্ণ পরিপন্থী। সে ক্ষেপে যায় তারে আমি বলি মেয়েরা যতদিন পণ্য হতে পসন্দ করবে ততদিন তারা এই পুরুষ শাষিত সমাজে, পুজিবাদি সমাজে তাদের মুক্তি নাই। তাদের অলংকার বাহুল্য তাদের ত্যাগ করতে হবে। তাদের কে ফিরে আসতে হবে শালীনতায়। তাদের আমি বোরকা পড়তে বলছি না। পশ্চিমের মেয়েদের জিনস আর গেনিজ পরেও শালীন থাকা যায়। অন্যথায় একটা দুল, ঠোটের লিপিষ্টিক এবং অন্যান্য সামগ্রী গুলো তাদের দিকে আঙ্গুল তুলে বলবে তুমি নারী, তুমি খাবার জিনিস। তুমি মাল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


