দেশের লোকজন কি নতুন করে ফেসবুকে সবকিছু চেনা শুরু করল নাকি? সেইটা বেড়ানোর পুরনো জায়গা থেকে শুরু করে পুরনো খাবার সবকিছুই?
সেই ৯০ এর দশকেই বেইলি রোডের সুইস থেকে পেস্ট্রি বা কেক কিনে আর মোড়ের দোকান থেকে ঈগলু আইস্ক্রিম লিটার কিনে স্কুপ করে উপরে দিয়ে খাওয়ার মানুষ নেহায়েৎ কম নেই। এখন দেখি এইটা খেতে নাম হয়েছে ব্রাউনি উইথ আইস্ক্রিম আর লোকজন লাইন, সাথে ফেসবুকে রেটিং ঝাড়ে ১০/১০!
মাফিন, বা কাপ-কেক তো বাক্স ওভেন যুগের খাবার। কই থেকে যেন আম্মা ফুড কালার যোগাড় করে ফেলল। এরপর থেকে বাসায় লাল, নীল, সবুজ, গোলাপী, বাদামী কাপ কেক খেতেই থাকলাম। আর এখন দেখি লোকজন “রেড ভেলভেট” বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলে! এইটারো নাকি রেটিং আছে, কারোটাই তো ৮/১০ এর নীচে না!
তেহারি-বিরিয়ানি পুরান ঢাকার থেকে বাইরে বের হয়েছে তাও পাঁচ দশকের কম না। এইটাও মনেহয় লোকজন ফেসবুক দেখে খাওয়া শিখছে, এখনো বিরিয়ানি খায় রেটিং দিয়ে! খাসীর মাংস আর মুরগীর ভুনা ছবি দিতে হয়। ২৫ টাকার তেহারি আর ৮৫ টাকার বিরিয়ানি প্লেটের কোনায় দোকানের নাম বসিয়ে বেঁচা শুরু পর ২০০ এর উপরে উঠিয়ে দিয়েছে! সেখানেও রেটিং এর বাহার।
মোড়ের দোকান থেকে ৩ টা বন-রুটি এনে বাসায় ৩ টা পেটি বানিয়ে, ভিতরে ডিম, পনির, পেঁয়াজ, টমেটো, সস আর শসা ঢুকিয়ে ৫ তালা বার্গার তো তখনই খেত সবাই, যখন ঢাকা শহরে বার্গারের দোকানের নাম গুনলে দুই আঙ্গুল পুরো লাগতোনা!
টং এখন কার্ট, কোন সমস্যা নাই। এমন হাতী-ঘোড়া কেউ বানায় দেখিনি। আমরাই আসলে আদিখ্যেতা করে সাধারণ জিনিষের দাম বাড়াই, এরপর চিল্লাই। সবখানেই। সবকিছুতেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



