সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ৯:৫৭
কষ্টদায়ক জার্নি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
অনেকদিন পর দেশে যাচ্ছিলাম। কাতার এয়ারওয়েজ এর টিকেট পাওয়া গেল অনেক কষ্টে। দোহা ট্রানজিট। নির্দিষ্ট দিনে ই মেগ্রেশন পার হয়ে এয়ার ক্রাফটের ভেতর বসলাম নিদিষ্ট সিটে। লন্ডন হিথরো থেকে কাতারের দোহা পযন্ত কোন সমস্যা হলোনা। খুব ভালো সাভিস দেয়া হলো এবং এয়ার ক্রাফটের ভেতরে কবরের নিস্তব্ধতা লক্ষ্য করলাম। দোহা এসে গেলাম ঠিক সময়ে এরপর এক ঘন্টা অপেক্ষা করে আবার কাতার এয়ারলাইনসের আরেকটি এয়ার ক্রাফটে। প্রায় সব যাত্রীই বাংলাদেশী। প্রথমেইশুরু হলো সিট নিয়ে বিপত্তি। আমার সিটে এক ভদ্রলোক(?) বসে আছেন এবং এয়ার হোস্টেসরা তাকে যতই অনুরোধ করেন সিট ছেড়ে দিতে ততই তিনি ক্ষেপে যান। অবশেষে তারা আমার কাছে ক্ষমা চাইলেন এবং ভদ্রলোকের(?) পাশের সিটে বসতে অনুরোধ করলেন। অগ্যতা কি আর করা, বসে পড়লাম। আমার পেছনের সিটগুলুতে বসেছেন দুজন নোয়াখালির লোক(তাদের ভাষা শুনে বুঝেছি)। প্লেন টেক অফ করার পর আামি চেয়ারটা হেলিয়ে দিলাম। এর মধ্যে আমার সামনে ভিডিও স্কিনে ছবি শুরু হয়েছে। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম পেছন থেকে প্রচন্ড জোরে কেউ ধাক্কা দিচ্ছে। পেছনে ফিরে দেখলাম আমার সিট হেলে দেওয়াতে নোয়াখালির ভাইয়ের স্কিনে ছবি দেখতে অসুবিধা হচ্ছে এবং আমার সিটটাকে সামনে ঠেলার জন্য তিনি পা দিয়ে লাথি মারছেন। আমি তাকে এই সমস্যার সমাধান করে দিলাম। তার কোন ভাবান্তর হলোনা।কিছুক্ষণ পর খাবার পরিবেশন করা হলো। আমার পাশের সিটের ভদ্রলোককে(?) দেখলাম হুয়াইট ওয়াইনের বোতল নিয়ে বসেছেন। এয়ার ক্রাফটের ভেতরটাকে বাজার মনে হলো। সবাই উচ্চ স্বরে কথা বলছে ।এর মধ্যে কেউ কেউ দুযোগ মুহূতেও হাটাহাটি করছে। এয়ার হোস্টেসরা বিরক্ত হয়ে অনেক আগেই প্লিজ বলা ছেড়ে দিয়েছে। বার বার ধুমপান নিষিদ্ধ ঘোষনা করার পরও অনেকে সিগারেট জা্বলিয়ে বসেছেন। কেউ কেউ টয়লেটে গিয়ে সিগারেট খাওয়ার চেষ্টা চালালেন। এসবের পর আমার জন্য আরো চমক অপেক্ষা করছিলো। আমার পাশের ভদ্রলোক(?) আমার গায়ের উপর বমি করে দিলো। অতপর আবার সেই এয়ার হোস্টেসদের ক্ষমা চাওয়া পব। আামি টয়লেটে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসার সময় পাইলটের ঘোষনা শুনলাম । আর কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা ঢাকা আন্তযাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাচ্ছি । জানালা দিয়ে আমার জন্মভূমিটাকে দেখার চেষ্টা করলাম। এতক্ষণের বিরক্তিকর অবস্থাগুলো এক নিমিষেই উড়ে গেলো যখন দেখলাম সবুজের বন আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইশতেহার।

ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের খতিয়ান নয়, ইতিহাস মূলত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা কিছু অবিনাশী কণ্ঠস্বরের গল্প। আজ ২৬ জুন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দাওয়াত দিয়েছে
দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ
এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ মোহমায়া

খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।
ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।
হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !
ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!
বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।