somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসামান্য অবদান বঙ্গবন্ধুর! বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প বিকাশেঃ (পর্ব-১)

২৪ শে আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সাফল্যের পাশাপাশি ঔষধ শিল্পেরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে এ সাফল্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও ঈর্ষণীয়। সেই সঙ্গে লক্ষণীয় যে আমাদের ঔষধ শিল্প এখানেই থেমে নেই, এটি এখনও দ্রুত বিকাশমান একটি শিল্প সেক্টর। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ঔষধ শিল্পের এই বিকাশের সোপানটি গড়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খোদ বঙ্গবন্ধু। বিস্মৃতিপ্রবণ বাঙালীর মানসে সে অবদানটি যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্য তা তুলে ধরার প্রয়োজন মনে করছি। এখনও সে সময়কার সংশ্লিষ্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকে বেঁচে আছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই ভুল হলে শুধরে দেবেন। তার আগে আমাদের দেশের ঔষধ শিল্পের পটভূমি অতি সংক্ষেপে বলে নেয়া দরকার। পাকিস্তান আমলে ’৫০-এর দশকে এদেশে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর নেয়া উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এগুলো ছিল অত্যন্ত ছোট কিছু কারখানা। পরবর্তীতে ’৬০-এর দশকে কয়েকটি বহুজাতিক ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এখানে অর্থাৎ তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে ঔষধ উৎপাদন শুরু করে। সে সময় পাকিস্তানের বার্ষিক চাহিদার প্রায় ৮০% এরও বেশি ঔষুধ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। তখনকার পাকিস্তানে যে কয়েকটি ঔষধের কারখানা ছিল তার অধিকাংশই অবস্থিত ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ফলে অন্যান্য শিল্পকারখানার মতো তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের ঔষধ সেক্টরও ছিল অত্যন্ত অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ। যে কয়েকটি দেশী-বিদেশী ঔষধ কারখানা এখানে অবস্থিত ছিল সেগুলোও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকত অপ্রয়োজনীয় ও কম প্রয়োজনীয় ঔষধ উৎপাদনে। ব্লাড এলকালাইজার, গ্রাইপ ওয়াটার, হিমোগ্লোবিন সিরাপ, কাশির ঔষধ, ভিটামিন টনিক ইত্যাদি ঔষধই এখানে বেশি তৈরি হতো। এগুলোর কোনটাই প্রয়োজনীয় ছিল না কারণ এগুলো বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ছিল অকার্যকর। তুলনায় এন্টিবায়োটিক ঔষধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও এগুলো এখানে দেশী কোম্পানিগুলো তৈরি করত না বা প্রযুক্তি নেই বলে তৈরি করতে পারত না। ফলে অতি প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী ঔষধগুলোর জন্য আমদানি এবং এখানকার বিদেশী কারখানাগুলোর ওপরই নির্ভর করতে হতো। এভাবে তখন এদেশের ঔষধের প্রায় সম্পূর্ণ বাজারটিই ছিল বিদেশীদের দখলে। আমদানি নির্ভরতা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের একচেটিয়া আধিপত্য, ঔষধ শিল্পের ওপর জনগণের অধিকারহীনতা ইত্যাদি কারণে ঔষধ সেক্টরে সামগ্রিকভাবে একটি অরাজক অবস্থা পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই অব্যাহত ছিল। অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই এদেশে ঔষধ শিল্প ছিল অত্যন্ত অনগ্রসর। স্বাধীনতা লাভের পরেও এখানে বিদেশী প্রতিষ্ঠানসমূহের দাপট অব্যাহত থাকে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন এদেশের বার্ষিক চাহিদার ৭৮% ঔষধই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একজন ড্রাগ কন্ট্রোলারের মাধ্যমে দেশে ঔষধের উৎপাদন ও ঔষধের আমদানি নিয়ন্ত্রিত হতো। দেশের ঔষধের বাজার ছিল আমদানিকৃত ঔষধে সয়লাব, এর অনেকটাই ছিল অপ্রয়োজনীয়, অথচ জীবন রক্ষাকারী অতি প্রয়োজনীয় ঔষধ ছিল দুষ্প্রাপ্য। সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু বলিষ্ঠ হাতে বিভিন্ন সেক্টরে বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। চলবে.........।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাধা উন্নয়ন প্রকল্প এবং একটি ভালো কলেজের গল্প

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

নটর ডেম কলেজে আমাদের সময় একটা প্রকল্প ছিল। নাম ‘অ্যাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’, সংক্ষেপে এডিপি। বাংলায় বললে ‘গাধা উন্নয়ন প্রকল্প’। নাম শুনে মনে হতে পারে, কোনো প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচি। বাস্তবে এটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×